-
আজকের পরিস্থিতি-কণ্টকিত আর বিবৃতি-বিড়ম্বিত এই যুগে ক্রিকেট সম্বন্ধে লিখতে বেশ একটু যেন স্বস্তি বোধ হচ্ছে। লিখতে যে মন চাইছে, তার প্রধান কারণ হল দুটো। এই কদিন আগে কানপুরে অস্ট্রেলিয়ান দলের সঙ্গে দ্বিতীয় ‘টেস্টে’ আমাদের খেলোয়াড়রা জয়ী হয়ে ভারতের মলিন মুখচন্দ্রমাকে উদ্ভাসিত করেছে, ক্রিকেটের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ক্রমাগত যে লাঞ্ছনা আমাদের সহ্য করতে হয়েছে তাকে দূর করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে। আর দ্বিতীয় কারণ এই যে দলীপসিংজীর মৃত্যু উপলক্ষে লেখা নেভিল কার্ডস্-এর প্রবন্ধ পড়ে মনে হল : বাংলাভাষায় এমন লেখা আমরা কবে দেখব!
ক্রিকেট-লেখক হিসাবে নেভিল কার্ডস্ হলেন একেবারে অনন্য; আর কারও লেখায় ক্রিকেটের ইন্দ্রজাল এমন শোভা নিয়ে দেখা দিয়েছে বলে জানি না। দুটি
-
ঘোড়ায়টানা গাড়ীর জায়গায় যখন লোহার ঘোড়া অর্থাৎ রেল গাড়ীর পত্তন হো’ল তখন দক্ষিণ রাশিয়ার ইয়ানা জেলার বড় সহরটার সহরতলীর যে জায়গাটায় কোচোয়ানদের বাসস্থান ছিল সেই জায়গায় গড়ে উঠল এক বেশ্যাপল্লী। আগে যেখানে পুরোণ বাড়ীগুলোতে গোলাপ রাঙা গাল আর ঠেলে ওঠা বুক নিয়ে কোচোয়ানদের বিধবারা ভদকা আর বিনি পয়সায় প্রেম বিক্রি করত, সেই খানেই রাস্তার দুপাশে নিন্দনীয় বাড়ীগুলো দাঁড়ালো মাথা তুলে। ইয়ামার ঐ পল্লীর ত্রিশটা বাড়ীর জীবনযাত্রা ছিল একই ধরণের। সবগুলোই ছিল সরকারী তত্ত্বাবধানে। একমাত্র পার্থক্য যা চোখে পড়ত তা হচ্ছে তাৎক্ষণিক নিবিড় অনুরাগ আর ভালোবাসার মূল্যের পার্থক্য।
বড় ইয়ামা স্ট্রীটের বাঁদিকের প্রথম বাড়ীটা অর্থাৎ ট্রেপেলের বাড়ীটাই ছিল সবচেয়ে জমকালো। ট্রেপেলের
-
মস্কো শহরের মাঝখানে ক্রেমলিনের কাছাকাছি তিনতলা একটা বাড়ি। বাড়িটা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন কেন্দ্রীয় স্মৃতি-সৌধ ৷ এখানে দেখতে পাওয়া যাবে মহান নেতা লেনিনের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, তাঁর নিজের লেখা বইয়ের প্রথম সংস্করণ, যে-সব বই তিনি পড়তেন, কাজে লাগাতেন সেই বই গুলি। আর তারই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—ফটো, ছবি, মূর্তি, দলিলপত্র। এর প্রত্যেকটি জিনিস দেখলেই মনে হবে কি এক অদ্ভুত অপূর্ব মানুষই না ছিলেন দুনিয়ার প্রথম সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা লেনিন ৷
হাজার হাজার জিনিসের প্রদর্শনী। প্রত্যেকটি জিনিসের পেছনেই রয়েছে তার নিজস্ব কাহিনী। ঐতিহাসিক দলিলপত্রের ভিতরে রয়েছে ভারতবাসীদের পাঠানো একখানা অভিনন্দপত্র। আবছা হয়ে এসেছে লেখা। কালি মুছে আসা বিবর্ণ সেই কাগজখানার দিকে তাকালেই
-
বিজ্ঞান কংগ্রেস উপলক্ষে আজকাল প্রত্যেক বছরই বিদেশ থেকে শ্ৰেষ্ঠ বিজ্ঞানীরা এ দেশে নিমন্ত্রিত হয়ে আসেন। এবারে তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ব-বিশ্ৰুত প্রৌঢ় বিজ্ঞানী নিল বোর। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও সায়েন্স অ্যাসোসিয়েসন কর্তৃক আহূত হয়ে তিনি কলিকাতায় আসেন ও সেনেটে, অ্যাসোসিয়েসন সভায় ও নিউক্লিয়র ফিজিক্স আলয়ে বক্তৃতা দেন। এই মহাবিজ্ঞানীর দর্শন লাভে ও তাঁর বক্তৃতা শুনে কলিকাতাবাসী ধন্য হয়েছে।
শিক্ষিত সমাজে বোরের নাম অবিদিত নয় বললে ভুল হবে না। বিশ-শতকের শুরুতে পদার্থ-বিজ্ঞানে যে বিপ্লব ঘটে ও নব্য বিজ্ঞানের অভ্যুদয় হয়, বোর সেই বিপ্লবযজ্ঞের একজন পুরোহিত-প্রধান। প্লাঙ্ক যেমন কোয়ান্টাম বা শক্তি-কণাবাদ, আইনস্টাইন যেমন দৈর্ঘ্য প্রস্থাদি ও কাল গতি ভর প্রভৃতির সাপেক্ষতা ও রাদারফোর্ড যেমন
-
মানুষের জীবন এগিয়ে চলে নানা ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে। যারা সচেতনভাবে বৃহত্তর জীবনের পথ বেছে নিতে চায় তাদের বেলায় সংঘাত হল অনুক্ষণের সাথী। তাই বুঝি কিছুদিন পরেই প্রিয় সঙ্গীর সঙ্গে তীব্র মতান্তর শুরু হয়। আমার ওপর তখন অধ্যাত্মবাদের প্রভাব খুব বেশি। বাড়িতে দাদার আমন্ত্রণে নানা আশ্রমের সন্ন্যাসীরা এসে সময়ে সময়ে অতিথি হন। দাদার সঙ্গে তাঁদের শাস্ত্র ও দর্শন সম্বন্ধে অনেক আলোচনা হয়। কখনও বা হয় তুমুল তর্কবিতর্ক। তার অনেক কিছুই বুঝতে পারি না, তবু মনে কিছু কিছু রেশ থেকে যায়। সেগুলিকে নিজের ধারণার রঙে রাঙিয়ে নিতে চাই। সেই সময়টা হিন্দু মিশন থেকে পার্থসারথিরূপে শ্রীকৃষ্ণের একখানা ছবিকে খুব জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সেটি
-
অনুবাদক: তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
শয্যা-থলির কবোষ্ণ আবেষ্টনে নিশ্চিন্ত মনে বেশ কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিল রবার্ট জর্ডান। পিস্তলটা মণিবন্ধে বেধে রেখেছিল সে। সহসা মারিয়ার কোমল করস্পর্শে শিরশির করে উঠল তার সারা শরীর। মারিয়া শীতে কাঁপছিল। জর্ডান তাকে বুকে টেন নিল। প্রথমটা সে থলির ভেতর ঢুকতে চায়নি। বারবার বলেছিল, 'লক্ষ্মীটি, আমায় ছেড়ে দাও। আমার ভয় করছে।' লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল সে। অবশেষে থলিতে ঢুকেছিল সে। জর্ডান তার ঘাড়ের নরম জায়গাটায় চুমু খেল। মারিয়া আবার বললে, 'না' লজ্জায় লাল হয়ো না। আমি কিছুতেই পারব না—অ্যমায় ছেড়ে দাও।' উঠেছে তার মুখ। জর্ডান বলে, 'দুষ্টুমি কারো না মারিয়া।'
—'আমায় ছাড়।'
—'সোনামণি, আমি তোমায় ভালোবাসি।'
—'আমিও কি তোমায় ভালোবাসিনা,'
-
অনুবাদ: ঊষাপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়
নিকোলাস রাগে ফেটে পড়েন—কতবার তোমাকে বারণ করেছি আমার টেবিল গোছাবে না। তুমি গোছগাছ করলেই জিনিসপত্তর আমি আর খুঁজে পাইনে। কাজান থেকে কাল যে আমাব টেলিগ্রাম এসেছিলো, সেটা কোথায় গেলো?
পরিচারিকা মেয়েটি বেশ রোগা। বিষন্নমুখ। নিরীহ নিরীহ ভাব। দেখলে মনে হবে ভিজে বেড়ালটি। কিছুই যেন জানে না। মুখে কথ্য নেই। টেবিলের নীচে বাজে কাগজের বুড়িটা হাতড়ে কয়েকটা টেলিগ্রাম ডাক্তারের দিকে বাড়িয়ে দেয় শুধু। কিন্তু আসল টেলিগ্রামটা ওর মধ্যে নেই।
সবই স্থানীয় রোগীদের।
তন্ন তন্ন করে খোঁজা হলো পড়ার ঘরে, বসার ঘরে। কোথাও হদিস মিললো না। তখন ডাক্তার গেলেন তাঁর স্ত্রীর ঘরে।
সময়টা ছিল গভীর রাতের। ডাক্তার জানেন ওলগার
-
১. মানুষ কাজ করে কেন
আকাশ এককালে ছিলো মাটির খুব কাছে। সত্যি বলতে, মাথার ওপর হাত তুললে হাতটা যতটা উঁচুতে ওঠে, আকাশটা কিন্তু তার চাইতে বেশি উঁচুতে ছিলো না। যখনই কারোর খিদে পেতো, তাকে শুধু হাতটা ওপরে তুলে আকাশের একটা টুকরো ভেঙে খেয়ে ফেললেই হ’তো। সেইজন্যেই কাউকে কখনো কোনো কাজকর্ম করতে হতো না ৷
তা কিছুকাল তো দিব্যি খাসা চললো এই ব্যবস্থায়, কিন্তু সময় সময় লোকে এমন একেকটা বড়ো টুকরো ভেঙে নিতো যা তাদের পেটেই আঁটে না—ফলে যা তারা খেয়ে শেষ করতে পারতো না, মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিতো। আকাশ কিনা এতই বড়ো যে চিরকালই লোকের খাবার মতো অনেকটা আকাশ থেকেই
-
সেম্বেন উসমান
সন্ধোবেলাগুলো আমরা যেতুম মেন্-এর ওখানে; সেখানে পুদিনা মেশানো চা খেতে-খেতে কত বিষয়ে কথা হ’তো আমাদের—যদিও অনেক বিষয়েই আমাদের জ্ঞান ছিলো সামান্য। কিন্তু ইদানীং আমরা বড়ো-বড়ো সমস্যাগুলো এড়িয়ে যেতুম—যেমন বেলজিয়ান কঙ্গোর কথা, মালি যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডগোলের বিষয়, আলজেরিয়ার স্বাধীনতার লড়াই অথবা জাতিপুঞ্জের পরবর্তী অধিবেশনের কথা। তার কারণ ছিলো সেয়ার, বেশির ভাগ সময়েই যার মাথা থাকতো ঠাণ্ডা, আর যার স্বভাবটা ছিলো গম্ভীর। প্রশ্নটা সে-ই তুলেছিলো। ‘আমাদের জাতের লোকের গায়ে ও-রকম জখমের দাগ থাকে কেন?’
(এখানে আমার যোগ করা উচিত যে সেয়ার ছিলো আধা-ভোলতেইক, আধা-সেনেগালি; কিন্তু তার নিজের গায়ে কোনো জাতিগত ক্ষতচিহ্ন ছিলো না।)
আমাদের সকলের মুখে যদিও ও-রকম কোনো ঘায়ের দাগ
-
লোকটা অদ্ভুত। ছাই রঙা ফেল্ট টুপিটার তলায় তার দ্বিধায় ভরা হাসিটা আমায় খানিকটা বিভ্রান্ত ক’রে দিয়েছিলো, কেননা হঠাৎ আমার কেমন একটা অদ্ভুত ধারণা হ’লো যে আমি তাকে অস্বস্তিতে ফেলছি। সে অনেকক্ষণ চুপ ক’রে রইলো। আমি তার মধ্যে একটা অলুক্ষুনে কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম।
হঠাৎ প্রায় ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে সে ব’লে উঠলো, ‘তুমি কি মিস্ গ্ল্যাডিসের ছেলে?’ দাঁতের মাজন আর মদের একটা মৃদু গন্ধ। আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। সে অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলো, মুখটা আধখোলা। চোখদুটো কেমন জলে ভরা, কৌতূহলী আর খানিকটা ব্যথাতুর।
আমি জিগেস করলাম, ‘আমি কি ওঁকে আপনার কাছে ডেকে আনবো?’
‘অ্যাঁ?’ আমি যে কোনো প্রশ্ন করতে পারি,
-
অনুবাদ: অজয় গুপ্ত
বাচ্চাদের মধ্যে যারা প্রথমে সাগরের ওপর দিয়ে কালো ফুলে ওঠা জিনিসটাকে ধীরে-ধীরে ভেসে আসতে দেখেছিলো, ভেবেছিলো বুঝি শত্রুপক্ষের কোনো জাহাজ। পরে তারা দেখতে পেলো ওর কোনো নিশান বা মাস্তুল নেই, তখন তারা ভাবলো ওটা তিমিমাছ। কিন্তু জিনিসটা যখন ঢেউয়ের দোলায় কূলে এসে পড়লো, তারা সামুদ্রিক আগাছার ঝাড়, জেলিফিশের, মাছের আর সমুদ্রে ভেসেবেড়ানো জিনিসের টুকিটাকি তার গা থেকে সরিয়ে ফেললো, আর তখনই কেবল তারা দেখতে পেলো, ওটা একজন ডুবে-যাওয়া মানুষ।
সারাটা বিকেল তারা তার সঙ্গে খেলা করলো, বালির নিচে তাকে কবর দিলো, কবর খুঁড়ে আবার তাকে তুললো, সেইসময় কেউ একজন হঠাৎ তাদের দেখে ফেললো আর খবরটা গাঁয়ে রটিয়ে
-
[চার্লস্ ডিকেন্স্ ইংরাজী-সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ঔপন্যাসিক। আমাদের দেশের এক বঙ্কিমচন্দ্রকে এঁর সঙ্গে খানিকটা তুলনা করা যায়, তা ছাড়া আজ অবধি আমাদের দেশে এমন কোনও ঔপন্যাসিক জন্মাননি যাঁকে মনে করে ডিকেন্সের ক্ষমতার কথা বুঝতে পারবে। অন্য কোন দেশেও এতখানি ক্ষমতাশালী ঔপন্যাসিক আর জন্মেছেন কিনা সন্দেহ ৷
ডিকেন্স্-এর উপন্যাসের মধ্যে ডেভিড কপারফীল্ডই শ্রেষ্ঠ, একথা আরও অনেক সমালোচকের সঙ্গে ডিকেন্স্ নিজেও মেনে নিয়েছিলেন। এর সম্বন্ধে আরও একটা কথা বলবার আছে এই যে বইটির প্রথম দিকে ডিকেন্স্-এর নিজের জীবনেরও খানিকটা ছায়া আসে।
ডিকেন্স্-এর বাবা ছিলেন অত্যন্ত উড়নচণ্ডে, তার জন্য সমস্ত বাল্যকাল তাঁর কেটেছিল অতিরিক্ত অর্থকৃচ্ছতার মধ্যে। বাল্যকালেই চাকরীতে ঢুকতে হয়েছিল তাঁকে, যদিও সে চাকুরী
ট্যাগ
লেখক
- অরল্যান্ডো প্যাটারসন (১)
- আন্তন চেখভ (১)
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১)
- আলেকজান্ডার আই কুপ্রিন (১)
- গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (১)
- গিরিজাপতি ভট্টাচার্য (১)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- জুলিয়াস লেস্টার (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৫)
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
- লেভ তলস্তয় (১)
- সত্যেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার (১)
- সাদত হাসান মান্টো (৩)
- হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.