অলিভার টুইসট
একটি মেয়েছেলে গর্ভবতী অবস্থায় পথ হেঁটে যেতে যেতে একদিন পথের কষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়ল। তখনই তাকে তুলে সেই গ্রামের আঁতুরালয়ে নিয়ে যাওয়া হল বটে, কিন্তু মেয়েটিকে আর বাঁচানো গেল না। সেই অবস্থাতেই একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ট হবার পর সে বেচারা মারা গেল।
ছেলেটির কি অবস্থা বুঝে দেখ! নাম নেই, গোত্র নেই, কার ছেলে, কী বৃত্তান্ত, কিছুই জানা নেই; এ অবস্থায় ছেলেটিকে নিয়ে কি করা যায় এই কথা ভেবে ভেবে ত অনাথ আশ্রমের কর্তাদের মাথা গরম হয়ে উঠল। চারিদিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হল যদি তা দেখে কেউ এসে ছেলেটিকে দাবী করে এই ভরসায়, কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। ছেলেটি ওঁদেরই ঘাড়ে চাপল।
তখন অগত্যা ওঁরা ঐ রকম নামগোত্রহীন আরও কয়েকটি ছেলেমেয়ের সঙ্গে এক মাইনে-করা বুড়ী ধাত্রীর কাছে দিলেন মানুষ করার জন্য। কিন্তু শুধু-ত তাতেই হবে না, ছেলেটির নাম-ত একটা দিতে হবে? খেয়াল-খুশিমত তার নামকরণ করা হল অলিভার টুইস্ট।
ছেলেটি মানুষ হতে লাগল। মানুষ ত কত—নেহাৎ দুর্ভাগার প্রাণ, তাই বেঁচে রইল। যে স্ত্রীলোকটির হাতে এদের মানুষ করবার ভার, সে দিব্যি ওদের খোরাক চুরি করে পয়সা জমায় আর ওদের সিকিপেটা খাইয়ে রাখে। কিছু বলবার উপায় নেই, তাহলে মার খেয়ে শরীর আর আস্ত থাকবে না। কর্তারা যখন কেউ দেখতে আসতেন তখন একটু মেজে-ঘষে চক্চকে পোষাক পরিয়ে ওদের দেখানো হত, হয়ত বা তাঁদের সামনে ভালমন্দ দু-একটা জিনিস খেতেও দেওয়া হত, কিন্তু তাঁরা চলে গেলেই আবার পুনর্মুষিক!
এইভাবে ধীরে ধীরে সাতটি বছর কেটে যাবার পর, অনাথ আশ্রমের কর্তারা ঠিক করলেন যে অলিভারকে আর বসিয়ে খাওয়ানো ঠিক নয়, ওকে দিয়ে কিছু করিয়ে নেওয়া উচিত। এই ভেবে তাকে ওঁর৷ অনাথ-আশ্রমে আনিয়ে নিলেন এবং কী কাজ ওকে দেওয়া যেতে পারে, তাই আলোচনা করবার জন্য ঘন-ঘন মিটিং ডাকতে লাগলেন ৷
এধারে এখানে খাওয়ার ব্যবস্থাটা আরও সাংঘাতিক; খরচা কমাতে কমাতে তখন ঠিক হয়েছিল যে দুবেলা দুবাটি বার্লি ছাড়া আর কিছুই খেতে দেওয়া হবে না ৷ তাই সেখানে পরিশ্রম করা ত দূরের কথা একটা সুস্থ লোক কি বেঁচে থাকতে পারে? শিগগিরই সকলে মরিয়া হয়ে উঠল; বার্লিই যদি খেতে হয় অন্তত আর খানিকটা করে চাই-ই। নইলে অতঃপর হয়ত তারা ক্ষিধের চোটে মানুষ খেতেই শুরু করবে! কিন্তু মুস্কিল হল এই যে ভরসা করে চায় কে? অনাথ-আশ্রমের দারোগার ভীষণ গোঁফ দেখলেই সকলের প্রাণে আতঙ্ক উপস্থিত হত, কথা কওয়া পর্যন্ত ভরসায় কুলোত না৷
যাই হোক্—শেষকালে স্থির হল যে এই গুরুতর বিষয়ের ভার যার ওপর দেওয়া হবে, তার নামটা লটারী করা হোক্। লটারীতে যার নাম উঠবে তাকেই বলতে হবে।
বেচারী অলিভার! উঠবি-ত-ওঠ,অলিভারের নামটাই উঠল। একদা সন্ধ্যায় সাত বৎসরের বালক অলিভার বলিদানের পাঁঠার মত কাঁপতে কাঁপতে উঠে গিয়ে রাঁধুনীকে ডেকে বললে, মশাই শুনছেন,—আমাকে আর একটু দেবেন?
সৰ্ব্বনাশ!
এমন সাংঘাতিক স্পর্দ্ধার কথা কেউ কখনও শুনেছ? পাঁচকের ত কিছুক্ষণ বিস্ময়ে মুখ দিয়ে কথাই সরল না, তারপর সে হাতাটা দিয়েই সজোরে এক ঘা অলিভারের পিঠে বসিয়ে দিয়ে উর্দ্ধশ্বাসে ছুটল এই নিদারুণ সংবাদটা দিতে, কর্তারা যেখানে বসে সভা করছিলেন, সেইখানে।
কর্তারাও কম অবাক হলেন না। দয়া করে তাঁরা যা খেতে দিচ্ছেন, তাতে সন্তুষ্ট না থেকে আবার চাওয়া? তাঁরা শুধু স্তম্ভিত হয়ে পরস্পরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন কিছুক্ষণ কথাই কইতে পারলেন না। শেষ পর্য্যন্ত একজন অতি কষ্টে বলে উঠলেন, ছোকরা এককালে ফাঁসী-কাঠে উঠবে, এই আমি বলে রাখলুম! তোমরা বরং দেখে নিও!
কিন্তু ফাসী-কাঠ ত পরের কথা, আপাতত এই সৰ্ব্বনেশে ছেলেকে নিয়ে কি করা যায়?
অনেক
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments