কালো মানুষদের লোককথা
১. মানুষ কাজ করে কেন
আকাশ এককালে ছিলো মাটির খুব কাছে। সত্যি বলতে, মাথার ওপর হাত তুললে হাতটা যতটা উঁচুতে ওঠে, আকাশটা কিন্তু তার চাইতে বেশি উঁচুতে ছিলো না। যখনই কারোর খিদে পেতো, তাকে শুধু হাতটা ওপরে তুলে আকাশের একটা টুকরো ভেঙে খেয়ে ফেললেই হ’তো। সেইজন্যেই কাউকে কখনো কোনো কাজকর্ম করতে হতো না ৷
তা কিছুকাল তো দিব্যি খাসা চললো এই ব্যবস্থায়, কিন্তু সময় সময় লোকে এমন একেকটা বড়ো টুকরো ভেঙে নিতো যা তাদের পেটেই আঁটে না—ফলে যা তারা খেয়ে শেষ করতে পারতো না, মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিতো। আকাশ কিনা এতই বড়ো যে চিরকালই লোকের খাবার মতো অনেকটা আকাশ থেকেই যাবে। কীই বা এসে যায়, যতটা তাদের দরকার তার চাইতে বড়ো কোনো টুকরো ভেঙে নিলে?
তা তাদের না-হয় এই ব্যাপারে কিছুই এসে যায় না, তবে আকাশের অনেক কিছু এসে যায়। সত্যি বলতে, নিজেকে আধখাওয়া অবস্থায় মাটিতে প’ড়ে থাকতে দেখে আকাশ রেগেই যেতো। তাই একদিন আকাশ একেবারে হাউমাউ ক’রে উঠলো, বললো, ‘বলি, হচ্ছেটা কী, অ্যা? নাঃ, এ আমি মোটেই বরদাস্ত করবো না! উঁহু, মোটেই না। খিদেয় পেট চোঁ-টো করলেই তোমরা এসে যে যেমন-খুশি আমার গা থেকে একেকটা টুকরো ছিড়ে নেবে, তারপর এক কামড় খেয়েই বাকিটুকু ফেলে দেবে, এ আর চলবে না। যদি এই বদভ্যেস তোমরা না ছাড়ো, তবে আমি কিন্তু এতই দূরে চ’লে যাবো যে কেউ আর কোনোদিন আমার নাগাল পাবে না। কথাটা মাথায় ঢুকলো?’
তা মর্মার্থটা লোকে বুঝতে পারলে ঠিকই! সত্যি বলতে, তারা ভালো একটা ঝাঁকুনিই খেলো, আর কিছুকাল বেশ খেয়াল রাখলো, যাতে যতটা পেটে ধরে তার চেয়ে বড়ো কোনো টুকরো কেউ আকাশ থেকে ভেঙে না-নেয়। কিন্তু দিনে-দিনে শাসানিটা তারা ভুলতে বসলো। একদিন একটা লোক চল্লিশজন লোকের মাসভর খাবার মতো মস্ত একটা টুকরো ভেঙে নিলো। মাত্র অল্প কয়েকটা ছোট্ট কামড় দিয়ে, ধারগুলো জিভ দিয়ে চেটে-চেটে, বাকিটুকু সে কাঁধের ওপর দিয়ে কোন দূরে ছুঁড়ে ফেলে রাস্তা দিয়ে এমন ভাবভঙ্গি ক’রে হাটান দিলে যে অমন পরিতুষ্ট আর আকাট লোক তোমরা কেউ কোনোদিন চোখেও হ্যাখোনি। হুম! আকাশ কথাটিও কইলে না, শুধু প্রচণ্ড এক হাঁক ছেড়ে সে যতটা উঁচুতে উঠতে পারে ততটা উঁচুতে উঠে গেলো, আর তা উঁচুই, বেশ উঁচু।
লোকের যখন মালুম হ’লো কী কাণ্ড ঘটে গেলো, তখন তারা হাউ-হাউ ক’রে কান্নাকাটি জুড়ে দিলে। আর ফিরে আসার জন্য আকাশের কাছে তাদের সে কী কাকুতিমিনতি! তারা শপথ ক’রে বললো যে আর কখনও তারা এমন কর্ম করবে না, কিন্তু আকাশ এমন একটা ভাব করতে লাগলো যেন একটা কথাও তার কানে যায়নি।
পরদিন তো কারোরই আর একফোটা খাবার নেই—কাজেই পেট ভরাবার জন্যে বাধ্য হ’য়ে তাদের কাজে যেতে হলো—আর এই জন্যেই সেদিন থেকে লোকে কাজ করে।
২. সাপ কী ক’রে পেলো তার ঝমঝম
ভগবান যখন সাপ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন মাথায় যত সুন্দর-সুন্দর রঙের কথা খেলে গিয়েছিলো, সব তাকে দিয়ে দিয়েছিলেন—সব লাল, বাদামি আর কমলার ছোপ—আর তারপর তিনি সাপকে ছেড়ে দিয়েছিলেন এখানে যাতে সে সব জমি আর ঝোপঝাড়ের শোভা বাড়িয়ে দেয়, সবকিছুতেই যাতে একটু রং লাগিয়ে দেয়।
তা, পৃথিবীকে এভাবে সাজাতে সাপ মোটেই কোনো আপত্তি করলে না, কিন্তু মাঝে-মাঝে সে ভাবতো ভগবান কি জানেন তার জীবনটা কেমন কষ্টের। আর কষ্ট ব’লে কষ্ট! তাতে সন্দেহের কোনো লেশ নেই। পাখিদের মতো তার ডানা নেই—তাই সে উড়তে পারে না। মাছেদের মতো তার কানকো আর পাখনা নেই—তাই নদীতে সাঁতার কাটতে যেতে পারে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
জুলিয়াস লেস্টার
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments