ডেভিড কপারফীল্ড
[চার্লস্ ডিকেন্স্ ইংরাজী-সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ঔপন্যাসিক। আমাদের দেশের এক বঙ্কিমচন্দ্রকে এঁর সঙ্গে খানিকটা তুলনা করা যায়, তা ছাড়া আজ অবধি আমাদের দেশে এমন কোনও ঔপন্যাসিক জন্মাননি যাঁকে মনে করে ডিকেন্সের ক্ষমতার কথা বুঝতে পারবে। অন্য কোন দেশেও এতখানি ক্ষমতাশালী ঔপন্যাসিক আর জন্মেছেন কিনা সন্দেহ ৷
ডিকেন্স্-এর উপন্যাসের মধ্যে ডেভিড কপারফীল্ডই শ্রেষ্ঠ, একথা আরও অনেক সমালোচকের সঙ্গে ডিকেন্স্ নিজেও মেনে নিয়েছিলেন। এর সম্বন্ধে আরও একটা কথা বলবার আছে এই যে বইটির প্রথম দিকে ডিকেন্স্-এর নিজের জীবনেরও খানিকটা ছায়া আসে।
ডিকেন্স্-এর বাবা ছিলেন অত্যন্ত উড়নচণ্ডে, তার জন্য সমস্ত বাল্যকাল তাঁর কেটেছিল অতিরিক্ত অর্থকৃচ্ছতার মধ্যে। বাল্যকালেই চাকরীতে ঢুকতে হয়েছিল তাঁকে, যদিও সে চাকুরী তিনি বেশীদিন করেননি। ভগবান যাঁর ললাটে সাহিত্যিক যশের রাজতিলক এঁকে দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে ছিলেন, তিনি সামান্য চাকুরী করে দু-চার শিলিং উপার্জ্জন করবেন কেন?
ডিকেন্স্ প্রথম সাহিত্যজগতে ঢুকেছিলেন ছদ্ম পরিচয়ে; ‘বজ’ এই নামে গুটী-কতক ব্যঙ্গ-রসাত্মক রচনা লিখে একটু নাম করে নিয়েছিলেন, অর্থও কিছু হয়েছিল। তারপর এক কাগজের মালিক তাঁকে ডেকে বললেন, কোন এক বিখ্যাত ব্যঙ্গ-চিত্রকরের ছবির বিষয়-বস্তু জোগাতে হবে প্রতি সপ্তাহে ধারাবাহিক ভাবে! ব্যাস্―শুরু হল তাঁর বিজয় যাত্রা!
‘পিক্উইক পেপারস্’ বলে তাঁর বিশ্ববিখ্যাত বইটি এই উপলক্ষেই বেরোতে শুরু হল; যে ব্যঙ্গ-চিত্রকরের জন্য তাঁর লেখার কথা, তিনি সূত্রপাতেই মারা গেলেন কিন্তু তখন দেখা গেল ছবিটা তুচ্ছ—রচনাটাই বড়। বিদ্যুৎদ্বেগে ডিকেন্স্-এর খ্যাতি দেশে ছড়িয়ে পড়ল; ক্রমে দেশ ছেড়ে বিদেশে। যশ ও অর্থ নানা দিক দিয়ে, নানা পথ বেয়ে আসতে লাগল। তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে যে নিজের রচনা নিজে আবৃত্তি করেই তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জ্জন করেছিলেন।
ডিকেন্স্-এর বিচিত্র এবং আশ্চর্য জীবনের কথা এরপর তোমরা ভাল করে পড়ে দেখো, আমি এখন ডেভিড কপারফীডের গল্পটা শুরু করে দিই—]
ডেভিড কপারফীল্ড, জন্মাবার আগেই ওর বাবা মারা গেলেন। ভদ্রলোক নিরীহ গোছের মানুষ ছিলেন, ডেভিডের মা-ও ছিলেন নিতান্ত সরল এবং ছেলে মানুষ ৷ যাই হোক—ডেভিডের বাবা পয়সা-কড়ি, প্রচুর না হলেও যথেষ্ট রেখে গিয়েছিলেন বলে প্রথমটা কোনও অসুবিধা হয়নি, অনেক দিনের বিশ্বাসী ঝি পেগটীকে নিয়ে তিনি সেই বাড়ীতেই রইলেন এবং যথাসময়ে ডেভিডও জন্মাল।
ডেভিডের জন্মদিনের সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে তার ঠাকুমার আকস্মিক আগমন এবং অন্তর্দ্ধান! এই ঠাকুমাটি হচ্ছেন তার বাপের মাসী, এঁরও ধনী বলে একটা খ্যাতি ছিল! ডেভিডের বাবা ডেভিডের মা ক্লারাকে বিয়ে করায় তিনি এত চটে গিয়েছিলেন যে তারপর থেকে এতদিনের মধ্যে আর কোনও খোঁজ-খবরই করেননি! ক্লারা অত্যন্ত ছেলে মানুষ এবং সংসারে অনভিজ্ঞা বলেই তাঁর এই উষ্মা, তাঁর বিশ্বাস ছিল যে ওরকম ‘বিবি পুতুল’কে বিয়ে করলে মানুষের জীবনে বিড়ম্বনার অবধি থাকে না।...কিন্তু ডেভিডের জন্মদিনে কোথা থেকে খবর পেয়ে তিনি হুস্ করে এসে হাজির হলেন এবং ক্লারাকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, যে চিন্তার কোনও কারণ নেই, তাঁর নিশ্চয়ই মেয়ে হবে, আর সে মেয়েকে মানুষ করার ভার তার ঠাকুমারই। এমন কি সে মেয়ের যে তাঁরই নামানুসারে বেটসী নাম রাখা হবে, তা পর্যন্ত তিনি স্থির করে ফেললেন।
কিন্তু বিধাতার বিড়ম্বনা, যথা সময়ে ক্লারা পুত্র-সন্তান প্রসব করলেন! যে ডাক্তার এসেছিলেন প্রসব করাতে, তিনি তাড়াতাড়ি এই আনন্দ সংবাদ ডেভিডের ঠাকুমাকে দিতে গেলেন, কিন্তু পুরস্কার যা পেলেন, একেবারে অপ্রত্যাশিত—। ডেভিডের ঠাকুমা উঠে দাঁড়িয়ে সোজা একটি চড় বসিয়ে দিলেন ডাক্তারের গালে, তারপর নিজের টুপী আর শাল নিয়ে তৎক্ষণাৎ বাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন! ক্লারার অমার্জ্জনীয় অপরাধ (অর্থাৎ কন্যার পরিবর্তে পুত্রের জন্মদান করা) তিনি সহ্য করতে পারলেন না।
যদিও পরবর্তী জীবনে তাকে এই হট্কারিতার জন্য যথেষ্ট
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments