ওল্ড কিউরিওসিটী শপ
নানারকমের খুচরো সৌখীন জিনিষ নিয়ে যাদের কারবার সেইসব দোকানকে বলে কিউরিওসিটী শপ্। কিউরিও (curio মানে বিচিত্র—অদ্ভুত সব জিনিস, সেই দোকানে পাওয়া যায়। যা দেখতে আমাদের কৌতুহল হয়, যা দেখে আমাদের বিস্ময়ের সীমা থাকে না, এমনি সব জিনিস! আমাদের দেশেও এরকম দোকান ঢের আছে—হয়ত তোমারা দেখেও থাকবে! পেতলের চীনে বুদ্ধমূর্তি, পুরানো তুর্কি গালিচা, মিশরের তৈরী হয়ত পাথরের খেলনা—নানাবর্ণের, নানা দেশের বিচিত্র সব জিনিস, যাদের পয়সা আছে তারা সখ করে কেনে, যাদের যথেষ্ট নেই তারা চেয়ে থাকে, কিম্বা দর করে।
অনেকদিন আগে বিলেতে এমনি একটা দোকান ছিল। তার বৃদ্ধ মালিক আর তাঁর নাতনী নেলি ঐ দোকানেরই ওপর তলায় বাস করতেন। বাড়ীটা নিজের—দোকানেরও আয় খুব মন্দ ছিল না, সুতরাং দুটি প্রাণীর ভালই চলবার কথা, কিন্তু বৃদ্ধের দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়লেন। তবে তার আগে বৃদ্ধের পারিবারিক ইতিহাস কিছু বলা দরকার।
নেলির দাদামশাইরা ছিলেন দুই ভাই। তাঁরা দুজনেই একটি মেয়েকে ভালবাসতেন, দুজনেই চেয়েছিলেন তাকে বিয়ে করতে! তাই মেয়েটি যখন ওদের মধ্যে বড় ভাই অর্থাৎ নেলির দাদামশাইকে বিয়ে করলেন, তখন ছোট ভাই-এর মনে এত আঘাত লাগল যে তিনি হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না বলে, বাড়ী ছেড়ে চলে গেলেন। অনেক খোঁজ খবর করেও তাঁর পাত্তা পাওয়া গেল না, কেউ বললে তিনি আমেরিকায় গেছেন, কেউ বললে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে চাষবাস করছেন।
যাই হোক—বড় ভাই বিয়ে-থা করে সংসার পাতলেন, কিন্তু বেশি-দিন তাঁর সে সুখ সইল না। একটি মেয়ে হবার অল্প কয়েকদিন পরেই নেলির দিদিমা মারা গেলেন। ওর দাদামশাইয়ের খুবই কষ্ট হলো কিন্তু মেয়ের মুখ চেয়ে তাও সামলে নিলেন! সেই স্ত্রীরই শেষ চিহ্ন মনে করে, বলতে গেলে নিজের বুকের রক্ত দিয়ে, মেয়েকে মানুষ করে তুললেন! কিন্তু সুখ যার অদৃষ্টে নেই সে বার বার আঘাত পায়। মেয়েটি বড় হয়ে যাকে বিয়ে করলে, বিয়ের পর দেখা গেল যে সে লোকটা মহা পাজী। মেয়েটির দুঃখের সীমা রইল না। স্বামী মাতাল, স্বামী বদমাইস, কিন্তু তবুও নেলির মা তাকে ভালবাসত, তাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চাইত না। কিন্তু শেষ পৰ্য্যন্ত দুঃখ কষ্ট অনশনে তার দেহ ভেঙ্গে গেল; একটি ছেলে আর একটি মেয়েকে বাপের কোলে তুলে দিয়ে সেও একদিন মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করলে।
উপর্যুপরি এই আঘাতে বুড়োর বুক ভেঙ্গে গেল ৷ কিন্তু তবু তারই ছেলে-মেয়ে, এই ভেবে আবারও বুক বাঁধলেন। মানুষ করে তোলবার চেষ্টা করতে লাগলেন নাতি-নাতনী দুটিকে ৷ নাতনীটি হল তার মায়ের মতই লক্ষ্মী ও সেবাপরায়না; কিন্তু ছেলেটি একেবারে বাপের মত হয়ে উঠল। কুসঙ্গে মিশে নানা কমে পয়সা-কড়ি ওড়াতে লাগল। দাদামশাই ওকে সৎপথে আনবার অনেক চেষ্টা করলেন কিন্তু সব বৃথা হল। বহুদিন ওর অত্যাচার সহ্য করে শেষে ওকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু তাতেও নিস্তার ছিল না, মাঝে মাঝে এসে নেলিকে কেড়ে নিয়ে যাবার ভয় দেখিয়ে কিছু-কিছু আদায় করে নিয়ে যেত। তার বিশ্বাস ছিল বুড়োর হাতে বিলক্ষণ দুপয়সা আছে। তা-ছাড়া নেলিকে ছেড়ে তিনি নিশ্চয়ই থাকতে পারবেন না, সেই ভয় যেখান থেকে হোক টাকা জোগাড় করে দেবেনই।
এই সব নানাকারণে বুড়োর মাথা গেল একেবারেই খারাপ হয়ে। স্ত্রী ও মেয়ের প্রতি যা কিছু ভালবাসা, সব গিয়ে জমা হয়েছিল ঐ মেয়েটির ওপর। পাছে তিনি মারা গেলে মেয়েটি কষ্ট পায় এই হল তাঁর ভাবনা। অবশ্য সত্যি-সত্যিই তাঁর হাতে যা টাকা ছিল, তাছাড়া দোকান এবং বাড়ী এইগুলোই সব যদি নেলির জন্য রেখে যেতেন তাহলে তার গ্রাসাচ্ছাদন নিশ্চয়ই চল্ত, কিন্তু তিনি তাতে নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না। বিশেষ করে তাঁর অত আদরের নেলি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments