শিক্ষা আন্দোলনের পটভূমি

নিতাই দাস
বাংলাদেশে কয়েক হাজার বছর আগে শিক্ষার সূচনা হলেও শিক্ষা আন্দো-লনের ব্যয়স কিন্তু খুবই কম। ইতিহাসের গত হওয়া দীর্ঘ অধ্যায়গুলোতে শিষ্য আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার কারণে। প্রাক ঐতিহাসিক যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই কোন অস্তিত্ব ছিলনা, যেমন ছিলনা অয়ার প্রসংগঠিত সংগঠন। অনুন্নত সই আদিম ও অসহায় জীবনে মানুষ টিকে থাকার প্রয়োজনেই নিঃশুর সংগ্রাম করে যেতে বাধ্য হতে।। অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় সেই দীর্ঘ কালপর্বে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে ভোলার কোন বান্ধব অবস্থায় পৃথিবীর গঙ্গার দেশের মতো বাংলা-দেশেক ছিল না।
প্রাচীন বাংলায় আাইদের আগমনের পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করলে শিক্ষা অনানুষ্ঠানিকতার পর্যায় অতিক্রম করে আনুষ্ঠাটিক তথা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। সেই সময়কার বাস-সামন্ততান্ত্রিক সমাজের কাঠামোকে চটকিয়ে রাখার জঙ্গ যতটুকু প্রয়োজন তার বেশি লোককে শিক্ষিত করা হতো না-এই নীতির উপর ভিত্তি করে প্রাচীন যুগের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠায় বঙ্গত কারণেই অবিকাশে শোধিত মেহনতী মানুখ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হতো। কারণ তখন রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালিত হতে। সমাজের অধিকাংশ মানুষকে শোষণ করে মুষ্টিমেয় মানুষের ভোগ-বিলাস অক্ষুত রাখার জন্ম। তাই রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় তাদেরই ভূমিকা থাকছে। যারা শোধিত নয়, শোষক। সেই সম্বয়ে শিক্ষায় ছিল ধর্মীয় আবরণ অর্থাৎ জৈন, যৌদ্ধ, বৈদিক প্রভৃতি বর্ষের সাথে সম্পতিত হয়েই শিক্ষা ব্যবস্থা ঘুরপাক খেত। সঙ্গত কারণেই শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতো রাষ্ট্রের পরিপতি ও ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা। সাধারণ মানুষের অনুপস্থিতিতে শিক্ষা আন্দোলন তথা শিক্ষার জাগরণ গড়ে উঠার কোন সুযোগ প্রাচীন বাংলায় ছিল না। রাজ আনুকূল্যে মন্দির মঠ কেন্দ্রিক গুটিকয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌভাগ্যবান পরিবারের গুটিকয় মানু-যই শিক্ষার সুযোগ পেতো, এর বাইরে কিছু করার চিন্তা তখনকার সমাজ কাঠামোর বাস্তবতায় ছিল অনুপস্থিত।
মধ্যযুগের চিত্র আরও করুণ। সমস্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে এই সময়ে গোটা দেশ। এমনকি সমুদ্রযাত্রা কিংবা বাণিজ্য ছিল নিষিদ্ধ বিষয়। তাই শিক্ষাও সীমিত হয় ক্ষুদ্রতর সংকীর্ণ পরিমণ্ডলে। নতুন শাসকের আগমনে এই শিক্ষা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং নতুন রাজার আনুকূল্যে নতুন শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। অবশ্য শিক্ষার মৌলিক চরিত্রের কোন পরিবর্তন ঘটেনা। এই যুগে অনেক পুরানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নতুন শাসকরা (তুর্কী, পাঠান, মোঘল প্রভৃতি) ধ্বংস করে দেয়। সংস্কৃত-পালি শিক্ষার জন্য কিছু প্রাচীন প্রতিষ্ঠান এই সময়ে টিকে থাকে মাত্র। এসবের পাশাপাশি নতুন শাসকদের শাসন-শোষণের প্রয়োজনে আরবী-ফারসী ভিত্তিক মক্তব-মাদ্রাসা গড়ে ওঠে। সমাজের উচ্চস্তরের অভিজাত পরি-বারের সন্তানরাই এই শিক্ষালাভ করার সুযোগ পেতো। বিত্তবান পরি-বারের সুযোগের ধন-শিক্ষা নিয়ে এই যুগেও কোন আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি।
বংলাদেশ আধুনিকতার পরশ পায় ব্রিটিশ আমলে। ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের প্রয়োজনেই একদিন আধুনিক শিক্ষার প্রবর্তন হয় এদেশে। আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী জন্মলাভ করে যাদের দ্বারা এক সময়ে শিক্ষা আন্দোলনেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মূলকেন্দ্র (ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী) কলিকাতা নগরীকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন প্রসারিত হয়েছিল।
ব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষা আন্দোলনের অঙ্কুরোদগম হয়েছিল পুরানে। ধারার শিক্ষা কাঠামোকে বাঁচিয়ে রাখার দাবিতে। ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করার সাথে সাথেই ব্রিটিশ শাসকরা ইউরোপীয় শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি, বরং পূর্ব থেকে চালু থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথেই যোগসূত্র স্থাপন করে। এই সমরে কলিকাতা মাদ্রাসা (১৭৮১) ও বেনারস সংস্কৃত কলেজ (১৭৯১) প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজদের উদ্যোগে। সম্ভবত দেশীয় বিচারালয় টিকিয়ে রাখা ও জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্যেই তারা এই পন্থা অবলম্বন করেছিল। কিন্তু উনিশ শতকের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যায়ে ইংরেজরা ইংরেজী শিক্ষাকে মদতদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এক সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে মাদ্রাসায়ও ইংরেজী চালু হয় এবং কোন ছাত্র আরবীর সাথে ইংরেজী না

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice