বাঙলাদেশ
তর্জমা: সিদ্ধেশ্বর সেন
আমি একটা দেশ নই
যে তুমি আমাকে জ্বালিয়ে তছনছ করে দেবে
আমি একটা দেওয়াল নই
যে আমাকে ভেঙে গুঁড়োগুঁড়ো করবে
একটা সীমান্তরেখা,—আমি তা'ও নই
যে তুমি আমাকে মুছে ফেলে দেবে
দুনিয়ার পুরোনো একটা নক্সা
তুমি টেবিলে পেতে রেখেছ
এর মধ্যে কিছুই নেই
জটপাকানো কয়েকটা আঁকিবুঁকি ছাড়া
বৃথাই তুমি আমাকে সেখানে খুঁজে মরছো
আমি উদ্বুদ্ধ মানুষের আকাঙ্ক্ষা
নিপীড়িতদের মরণজয়ী স্বপ্ন
মানুষ যখন মানুষকে শুষে রক্তপান শুরু করে
লুঠতরাজ যখন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যায়
দমন-নির্যাতন যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গড়ায়
অদৃশ্য থেকে তখন যেন হঠাৎ আমি বেরিয়ে পড়ি
রক্ত-ঝরা হৃদয়ের ভেতর থেকে আমি জেগে উঠি
এর আগেও হয়তো তুমি আমাকে দেখেছ
কখনো পুবে, কখনো বা পশ্চিমে
শহরের সড়কে অথবা মেঠো-গাঁয়ে
মানুষজনের মধ্যে কখনো, আবার
এমনকি হয়তো বনে জঙ্গলে
আমার রয়েছে একটা ইতিহাস, আর
ইতিহাসই একমাত্র আমার
কিন্তু ভূগোল? না, মোটেই তা নেই
আমার ইতিহাস ঠিক পাখি-পড়া ক'রে
শেখানো যায় না
কিন্তু, মানুষ-তবু তারা গোপনেই
এই সব শিখে নেয়
কখনো কখনো আমি প্রবলভাবে জয়ী
কখনো কখনো বা নির্জিত
কখনো আমিই চড়াই কসাইদের শূলে
কখনো বা নিজেই হই ক্রুশবিদ্ধ
ফারাকটা শুধু এই—
আমাকে যারা মারে, নিজেদেরই তাদের মরতে হয়
আমি, না
আমার মৃত্যু নেই
তুমি কী বেয়াকুফ
পিষে ফেলতে চাও আমাকে ট্যাঙ্কের তলায়
ভিক্ষেয় যা জুটিয়েছো
আমার ওপর ফেলতে থাকো নাপাম বোমা, দিনে-রাতে,
এতে একমাত্র নিজেকেই তুমি ফুরিয়ে ফেলবে
আমার কোন্ হাতটা তুমি শেকলে বাঁধতে চাও?
সাত কোটি হাত রয়েছে!
আমার কোন্ মাথাটা ধড় থেকে নামাতে চাও?
রয়েছে সাত কোটি মাথা!
[কাইফি আজমী বিখ্যাত উর্দু কবি। কিছুদিন আগে বোম্বাই থেকে কলকাতায় এসে সর্বভারতীয় মুশায়েরায় কবিতাটি আবৃত্তি করে যান। শোনার সুযোগ হয়েছিল। কবি সাজ্জাদ জাহীর ছিলেন সভাপতি। আর মুশায়েরাটি ডাকা হয়েছিল বাঙলাদেশের সাহায্যার্থে। —সি সে]
কাইফি আজমি
কাইফি আজমি একজন ভারতীয় প্রথিতযশা উর্দ্দুভাষী কবি ও সাহিত্যিক এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁর কবিতা সমাজসচেতনায় ঋদ্ধ।
-
শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে দীর্ঘকালের আওয়ামী লীগ সরকারের অবসান ঘটেছে এবং দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ কোনদিকে এবং কী ধারায় অগ্রসর হবে তা নিয়ে একটি জাতীয় আলোচনা চলছে। দেশে যেন একনায়কত্বের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সবাই একমত। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যে সংস্কারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে তা হলো বর্তমান ‘উইনার টেকস অল’ (বিজয়ী কর্তৃক সমস্ত পাওয়া—সংক্ষেপে ‘বিসপা’) ভিত্তিক নির্বাচনব্যবস্থার পরিবর্তে আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থার প্রবর্তন। আনুপাতিক নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষে সামান্য কয়েক শতাংশ ভোট বেশি পাওয়ার কারণে সংসদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা
-
এক গভীর ও সর্বব্যাপী সংকটজাল আমাদের দেশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। জনগণের দৈনন্দিন জীবনে, সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে, নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে, সংস্কৃতিতে—সর্বত্রই সংকট, স্থবিরতা ও অবক্ষয়-অধোগতি। মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী সৌভাগ্যবান বাদে সকলেই এই সংকটের জ্বালা কম-বেশি অনুভব করছে। 'উন্নয়নের' নামে যা কিছু হচ্ছে তা মূলত উপরভাসা। এর সামান্যই চুইয়ে এসে পৌঁছতে পারছে আপামর জনগণের কাছে। সিংহভাগ জনগণের অবস্থার যৎসামান্য উন্নতি কিছুটা হয়তো ঘটছে, কিন্তু তার কয়েক'শ গুণ বেশি স্ফীত হচ্ছে মুষ্টিমেয় উপরতলার মানুষের ভাগ্য। শ্রেণী-বৈষম্য ও ধন-বৈষম্য বাড়তে বাড়তে বর্তমানে এক মহা-কুৎসিত আকার ধারণ করেছে। ব্যাপক জনগণের পেটে লাথি মেরে চলছে বেপরোয়া লুটপাটের মহোৎসব। অর্থনীতির এই হালচাল প্রতিফলিত হয়েছে রাজনীতির রুগ্নতা ও অবক্ষয়ে।
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments