আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা ও তার ব্যবস্থাপনা
লেখক: ডা. মো. তোফায়েল হোসেন
আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যার প্রতিপাদ্যে দেখা যাচ্ছে দেহে আয়রনের ঘাটতি আছে এবং এ কারণে রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। চায়ে চিনি কম পড়লে আমরা চিনি দেই, তরকারীতে নুন কম পড়লে আমরা লবণ দেই, মোটর সাইকেল বা গাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের অভাব পড়লে আমরা পেট্রোল-অকটেন ভরাই, মবিলের দরকার হলে মবিল দেই, ফুটা দিয়ে তেল পড়লে আমরা ফুটা ঠিক করাই, গাড়ির চাকার হাওয়া লিক করলে ছিদ্র সনাক্ত করে ঠিক করাই।
আয়রন কোথায় থাকে? আয়রন হিমোগ্লোবিনের হিম অণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। এ ছাড়া আয়রন মায়োগ্লোবিনের অংশ। বিভিন্ন কোষকলায় এনজাইম হিসাবে কাজ করে। জমা থাকে ফেরিটিন ও হিমোসাইডেরিন আকারে অস্থিমজ্জায়, লিভার ও স্পিøনে। বহনকারী আয়রন ট্রান্সফেরিনের সাথে আবদ্ধ থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে আয়রন থাকে ৩ থেকে ৫ গ্রাম।
কতখানি আয়রন দরকার? প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ১ মিলিগ্রাম, বয়ঃসন্ধিকাল ২ থেকে ৩ মিলিগ্রাম, ১৫ থেকে ৪৯ বয়সের মহিলা ২ থেকে ৩ মিলিগ্রাম, গর্ভবতী মহিলা ৩ থেকে ৪ মিলিগ্রাম। স্বাভাবিক খাবারে ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। এর এক দশমাংশ শোষিত হয়।
আয়রন কেন দরকার? আয়রন শরীরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। যেমন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায় কোষকলায়। কোষের ভেতর ইলেকট্রন বহন করে নিয়ে যায়। বিভিন্ন অ্যানজাইমের কো-ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে সহযোগিতা করে স্নায়ুসংবেদনায়, স্টেরয়েড হরমোন সংশ্লেষণে, পিত্ত-লবণ সংশ্লেষণে, লিভারকে সহায়তা করা বিষমুক্ত করার কাজে।
লক্ষণ-উপসর্গ: আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতার কারণে শরীর ফ্যাকাশে দেখায়, শরীর অসম্ভব ক্লান্ত লাগে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, খাদ্যে অরুচি, অখাদ্যে রুচি (খাদ্য নয় এমন কিছু যা ইচ্ছা তাই খাওয়া যেমন পোড়া মাটি, কাঁচা চাল, লবণ, চিনি খাওয়া), মাথা ঘুরায়, ক্রমাগত পা নাড়াতে থাকে, চুল পড়ে যায়, জিহ্বা মসৃণ হয়ে যায়, ঠোঁটের কিনারায় প্রদাহ হয়, গলা দিয়ে ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়, বুক ধরফর করে, শ্বাস টানতে ও ছাড়তে কষ্ট হয়, পাকস্থলী সংকুচিত হয়ে পড়ে ও পাতলা হয়ে যায়, নখ ভঙ্গুর হয়, নখ চামচের মতো ডেবে যায়, শরীর খর্বাকৃতির হয়ে পড়ে, বুদ্ধিবৃদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়, পড়াশুনা করতে অসুবিধা হয় ও বিলম্ব হয়, শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। রক্ত পরীক্ষা ও অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করে রোগ সনাক্ত করা যায় আবার ঐসব উপসর্গ আছে আয়রন দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হয়েছে এভাবেও বুঝা যায় আয়রন-ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা আছে।
ঐদিন এক শিশুর অভিভাবকের সাথে কথা হচ্ছিলো। কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে তার ছেলে পড়ে। বোর্ডের বই বিনামূল্যেই পেয়েছে তার সাথে পেয়েছে ৮০০ টাকার একটি বুকলিস্ট। শিশুর পিতা বাধ্য হবে বই কিনতে আর সেই সাথে বাধ্য হবে পুষ্টিকর খাবার কিনা কমিয়ে দিতে। সীমিত আয়ের মানুষ! আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিচ্ছে না সেখানে নাকি পড়াশুনা হয় না!
চিকিৎসা: আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তাল্পতা এ সমস্যায় মানুষকে আয়রন বা কাঁচা লোহা খাওয়ানো হয় না অর্থ্যাৎ চাতে চিনি ঢেলে দেওয়া বা তরকারিতে নুন দেওয়ার মতো নয়। যদি ঘাটতি বেশি হয় তাহলে দুই মাস সময় ধরে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। গর্ভবতী মহিলাদেরকে ৫ থেকে ৬ মাস খাওয়ানো হয়। আয়রন ট্যাবলেট মানে যে ট্যাবলেট আয়রন-সমৃদ্ধ। আবার এই ট্যাবলেট মাসের পর মাস, বছরের পর বছর খাওয়ানো যায় না। তাতে করে লিভার, কিডনীর ক্ষতি হয়। এই আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো ছাড়াও আমরা ময়দায়, চালের গুড়ায়, সয়া সসে আয়রন ঋদ্ধ করা ফর্মুলা খাদ্য খেতে বলি। নলকূপের পানি থেকেও মানুষ আয়রন পায়। সেখানে আবার দেখে নিতে হবে আয়রন বেশি কিনা। বেশি হলে সমস্যা কারণ নলকূপের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments