জীবন ও প্রকৃতির সম্পর্ক
লেখক: মুহম্মদ আশরাফউজ্জামান
যাদের জীবন আছে তাদের আমরা জীব বলি। বাকিরা জড়। এখন জীবন কি সেই প্রশ্নে আলোচনা স্থগিত রেখে এইটুকু মোটা দাগে বলা যায় জীব-জড় মিলিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ গঠন করে। জীবদের আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় উদ্ভিদ ও প্রাণি। উদ্ভিদ ও প্রাণি যেমন এক অপরের উপর নির্ভরশীল তেমনি তারা উভয়েই জড়জগতের উপর ও নির্ভরশীল। তাই আমরা বলতে পারি যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার সার্বিক অবস্থাটাই হলো পরিবেশ। আমরা এটাও লক্ষ করবো যে এই পরষ্পর নির্ভরশীলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আছে। প্রকৃতি এই ভারসাম্য রক্ষা করে। চট করে বিনষ্ট হতে দেয় না।
জীববিজ্ঞান পড়তে গেলে আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পড়ি। এদের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হল সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্য নিয়ে নিজের খাদ্য উৎপাদন করতে পারে কিন্তু প্রাণি তা পারে না। তাই উদ্ভিদকে খাদ্য আহরণ বা সংগ্রহ করতে হয় না কিন্তু প্রাণিকে তা করতে হয় না শুধু আহরিত খাদ্য সংরক্ষণ ও করতে হয়। খাদ্য প্রতিটি জীবের একটি মৌলিক প্রয়োজন। কে কত দক্ষতার সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন অথবা আহরণ করতে পারে তার উপর নির্ভর করে ঐ জীবের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা। কথায় কথায় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে গেল তা হল, উদ্ভিদ হোক বা প্রাণি হোক প্রত্যেক কে টিকে থাকার জন্য একে অপরের যেমন সহযোগিতা প্রয়োজন তেমনি এদের মদ্যে রয়েছে তীব্র নির্মম প্রতিযোগিতা এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা যাদের রয়েছে প্রকৃতির কাছে তারাই তত উপযুক্ত। সবচাইতে উপযুক্তরাই টিকে থাকে। অন্যরা নিশ্চিহ্ন হয়। প্রকৃতি পরাজিতের প্রতি কোনরূপ করুণা প্রদর্শন করে না।
আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে শুরু করে মৃত্তিকা, জলরাশি, গ্রহ হিসাবে পৃথিবীর আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি, চক্র পাহাড় পর্বত সমতল ভূমি জলাভূমি—মরুভূমি, উদ্ভিদ, প্রাণি সবকিছু মিলিয়েই প্রকৃতি। এই প্রকৃতি কিন্তু স্থির অর্থাৎ নিত্য নয়। উপাদান ভিত্তিতে দ্রুত বা ধীরে পরিবর্তনশীল। জীবজগতের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধারা সচল পরিবর্তন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার সাথেই এই পরিবর্তন প্রয়োজন। সাধারণত এই পরিবর্তনের গতি ধীর, তবে কখনো কখনো এটা আকষ্মিক ও হতে পারে। এই সকল পরিবর্তনের ফলে জীব তার প্রতিযোগিতার দক্ষতা হারাতে বা লাভ করতে পারে।
এখন আমরা সাধারণভাবে জীবজগত সম্পর্কে আলোচনা স্থগিত রেখে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে অর্থাৎ মানবজাতি সম্পর্কে আলোচনায় প্রবেশ করবো। ইতিহাস প্রমান করেছে মানুষের মধ্যে এমন কিছু গুণ বিকশিত হয়েছে যে জন্য সে প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে কিংবা মোকাবেলা করতে পেরেছে।
তুলনা করলে আমরা দেখতে পাই সমসাময়িক স্তন্যপায়ী মেরুদণ্ডী প্রাণিদের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে মানুষ সবচাইতে দূর্বল। কিন্ত তার প্রতিটি দুর্বলতা প্রতিটি শারীরিক অভাবকে কোন না কোনোভাবে মোকাবেলা করেছে, অতিক্রম করেছে, এমনকি নতুন সক্ষমতায় পরিণত করেছে। এর প্রধান কারন মানুষের সৃজনশীল মস্তিস্ক যা বুদ্ধির বিকাশ ও ধারণক্ষম। তাই সে শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর কৌশল ক্রমাগত উদ্ভাবনে সক্ষম। অন্য কোন প্রাণির মধ্যে আমরা এমনটি লক্ষ করি না। মানবজাতির উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহার তার মস্তিষ্ক বিকাশের ইতিহাস বটে। প্রকৃতি ও প্রকৃতির ভারসাম্যের উপর মানুষ যতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে আর কোন জীব তা পারেনি। এই ধরনের প্রভাব সৃষ্টিকারী কাজের মধ্যে কৃষি অন্যতম এবং প্রধান। মেরুদণ্ডী স্তন্যপায়ী অন্যান্য প্রাণির তুলনায় মানুষ তার মস্তিস্ক বিকাশের কারণেই শুধু যে অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করে কাজ করতে পারতো তাই নয় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন কিছুও সে কল্পনা করতে পারতো। এটা হল মানুষের অনন্য গুন। অন্যান্য গুনের সাথে এই কল্পনাশক্তি যুক্ত হয়ে মানুষকে স্রষ্টার আসনে আসিন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments