বাংলাদেশের খেলাধুলা
যাত্রা সম্ভবতঃ অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, যদিও তার সঠিক কোন দিনপঞ্জী নেই। উনিশশো সাইত্রিশ সালে ঢাকার বৃষ্টিস্নাত এক নিদাঘ অপরাহ্নে বিশ্বখ্যাত আইলিংটন কোরিম্বিয়ানস ফুটবল দলকে হারিয়ে এ দেশের খেলাধুলার প্রথম স্বীকৃতি ঘটে। তখন বৃটিশ আমল। সারা দেশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আর সংস্থার মাঠ সবে গড়ে উঠতে শুরু করেছে। বৃটিশ জাতের যত দোষই থাকুক না কেন তাদের একটা গুণ অনেক দোষকে ঢেকে দেবে সন্দেহ নেই। এ গুণটা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতি তাদের ভালবাসার, আকর্ষণ ও ঐকান্তিকতা। তারা জাতীয় জীবনে রাষ্ট্রীয় জীবনে মানবিক জীবনে এই খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা বুঝেছিল। যার জন্য আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টার চেয়ে তাদের খেলাধুলার প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্রীড়া সংস্থা আর ক্রীড়া সংস্থার মাঠ গঠন বা তৈরী করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
আমাদের দেশের খেলাধুলার এই প্রথম পর্ব আরো একজন অসামান্য খেলোয়াড়ের অনন্য ক্রীড়ানৈপুন্য খেলাধুলাকে আমাদের দেশে জনপ্রির করে তোলে। অনন্য ক্রীড়ানৈপুন্যের অধিকারী সেই অসামান্য খেলোয়াড় যাদুকর সামাদ আজ আমাদের খেলাধুলা ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। আর সেই চোখ ধাঁধানো মনজুড়ানো খেলা যে কত অসংখ্য মনুষকে মাঠের দিকে টেনে ছিল তার কোন হিসেব নেই। বৃটিশ সরকার চেষ্টাচরিত্র করলেও সত্যি বলতে কি খেলাধুলার প্রতি আমাদের দেশের মনুষের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত থাকায় এর কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। খেলাধুলা আমাদের দেশে ঢিমে তেতলা ভাবে চলতে থাকে।
বৃটিশ আমলে আমাদের দেশে (তখন পূর্ব বাংলা) খেলাধূলার প্রতি বেশ অনিহা দেখালেও এখানকার বহু খেলোয়াড় কোলকাতার মাঠে খেলে সুনাম কুড়াতো। শুধু তাই নয়, এখানকার খেলোয়াড়রা যারা কোল কাতার মাঠে খেলতো তারা তাদের আশানুরূপ ক্রীড়ানৈপুন্য দিয়ে ঝড় তুলতো। বিশেষ করে ফুটবল খেলাটাই এখানে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছিল। অন্যান্য সব খেলা অনুষ্ঠিত হলেও তা এদেশের মানুষের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি। ফটবল খেলা প্রায় সব খানেই হোত। ক্রিকেট খেলা হোত দেশের বিশেষ কয়েকটি জায়গায়। রমনা রেসকোর্সের ঢাকা ক্লাব মাঠে জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বালিশের। ক্লাব মাঠে ইউরোপীর সাহেবরা শীতকালে বেশ জৌলুস সহকারে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতেন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পরের বছর অলিম্পিক বছর। পাকিস্তানের জাতীয় হকি দল অংশ নিল তাতে। জাতীয় দল শুধু নামেই, কারণ দলের সব খেলোয়াড় পশ্চিম পাকিস্তানের। চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমিটির সদস্য হয়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল প্রথম সরকারী ক্রিকেট সফরে গেল ভারতে। জাতীয় ক্রিকেট দলের সমস্ত খেলোয়াড় পশ্চিম পাকিস্তানের। এদিকে বার্মা, সিংহল, ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে কোয়াডে জুলার ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলা শুরু হয়েছে বছর বছর। ঢাকা সারা বাংলাদেশ নয় সারা পাকিস্তানের ফুটবলের প্রানকেন্দ্র। অথচ জাতীয় ফুটবল দল যখন গঠন হোল দেখা গেল একজন কি দুজন খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তখন 'জাতীয়তা আর দেশ প্রেমে' এতই উদ্বুদ্ধ যে কেউই সেদিকে খেয়াল করতাম না এমনি করেই ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রথম সফরে এলো পাকিস্তানে। পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের দেশে এটাই প্রথম সরকারী সফর। প্রথম সরকারী প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটম্যাচ বিদেশী দলের সাথে চট্টগ্রামে প্রথম সরকারী টেষ্ট ঢাকায়। সেই ঢাকা শহরে যেখানে একটা ক্রিকেট লীগ খেলা দেখতে পাঁচশোর বেশী দর্শক পাওয়া যেতনা, প্রথম সরকারী ক্রিকেট টেষ্ট দেখার জন্য খেলা শুরুর একঘণ্টা আগেই ঢাকা কাঠের গ্যালারীর ষ্টেডিয়াম পঁচিশ হাজার দর্শকে পূর্ণ। বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসে সে এক অভাবনীয় মুহূর্তে। খেলা শুরু হবে হবে। হাজার হাজার দশকের সাথে আমরাও কৈশোরের সেই উৎসুক্য নিয়ে মাঠের দিকে তাকালাম। আম্পায়ার নামলো, খেলোয়াড় নামলো, দূরে স্কোরার স্কোরবোর্ড পাল্টানোর মানুষ সব কিছু—পশ্চিম পাকিস্তানী। ঢাকা স্টেডিয়াম খেলা অথচ ঢাকার কোন খেলোয়াড়, আম্পায়ার, স্কোরার কিছুই নেই। এর চেয়ে বড়
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments