রাজনীতি ও শিক্ষাদীক্ষা

রাজনীতির সঙ্গে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। শিক্ষাদীক্ষায় পেছনে পড়ে থাকলে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি হবে কীভাবে। এ যুগে পড়াশোনা চলে গেছে ব্যাক বেঞ্চে, আর সামনের বেঞ্চে এসে গেছে রাজনৈতিক দলাদলি। আমাদের যুগে এ রকম ছিল না।

আমরা তখন ক্লাস টু-তে পড়ি। পণ্ডিত মহাশয় ক্লাসে ঢুকেছেন, অমনি সবাই চুপ, একেবারে পিনপতন নীরবতা। স্যার হঠাৎ একটা শ্লোক ধরলেন: 'শুভঙ্করের ফাঁকি, ৩৬ থেকে তিন শ গেলে কত থাকে বাকি?' মানে ৩৬ থেকে তিন শ বিয়োগ করলে কত থাকবে সেটাই জানতে চাইছেন স্যার। আমরা তো থ। একটা ছোট সংখ্যা থেকে কোনো বড় সংখ্যা যে বিয়োগ করা যায়, সেটা আমরা জানতামই না! বীজগণিতে সম্ভব, সংখ্যার আগে একটা বিয়োগচিহ্ন বসিয়ে ওরকম অসম বিয়োগ করা যায়। কিন্তু আমরা তো তখনো বীজগণিত জানি না, জানার কথাও নয়। সবার মাথায় হাত। পিটান খেতে হবে নিশ্চয়ই। কিন্তু না, আমাদের বোকা বানাতে পেরে পণ্ডিত মহাশয় মহা খুশি। তিনি রহস্য ভেদ করে বললেন, "আরে বোকা, তোরা জানিস না যে ব্যঞ্জনবর্ণে ৩৬টি অক্ষর? তার মধ্যে রয়েছে শ, ষ, স--মানে তিনটি 'শ' বা তিন শ; এখন ৩৬ থেকে এই তিনটি 'শ' বাদ দিলে থাকে ৩৩।[১] এই সামান্য অঙ্কটি তোরা মেলাতে পারলি না!" আমাদের মধ্যে তখন হাসির রোল পড়ে গেছে।

গণিতের মধ্যে যে মজা আছে, গণিতের রহস্য ভেদে যে মাথা খাটানোর তৃপ্তি আছে, সেটা আমরা ছোটবেলা থেকেই বুঝেছি। বড় হয়ে আমরা শিখেছি গণিতে রয়েছে কত ম্যাজিক। কিছু কৌশল জানা থাকলে অনেক অঙ্কের সমাধান চট করে বের করা যায়। যেমন: দুই অঙ্কের কোনো সংখ্যাকে ১১ দিয়ে গুণ করতে হবে। ধরা যাক ২৬০×১১-এর ফল মুখে মুখে বের করতে হবে। এ জন্য প্রথমে ২ ও ৬-এর মাঝখানে একটু ফাঁক রেখে লিখতে হবে। এবার ২ ও ৬-এর যোগফল ওই শূন্যস্থানে বসালেই গুণফল পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ২৬×১১ = ২৮৬। যদি যোগফল ৯-এর বেশি বা অন্য কথায় দুই অঙ্কবিশিষ্ট হয়, তাহলে প্রথম ঘরে ১ যোগ করে দ্বিতীয় অঙ্কটি শূন্যস্থানে বসালেই ফল পাওয়া যাবে। যেমন: যদি ৯৭-কে ১১ দিয়ে গুণ করতে হয় তাহলে যেহেতু ৯+৭= ১৬, তাই শূন্যস্থানে বসাতে হবে ৬ কিন্তু প্রথম ঘরের ৯-এর পরিবর্তে লিখতে হবে ১০, যেটা পাওয়া যাচ্ছে ৯-এর সঙ্গে ১ যোগ করে। অর্থাৎ, ৯৭×১১ = ১০৬৭। কেন এটা হয় সেটা বুঝতে পারা খুব সহজ। প্রচলিত পদ্ধতিতে ২৬ বা ৯৭-কে ১১ দিয়ে গুণ করলেই দেখা যাবে, কেন অঙ্ক দুটির যোগফল মাঝখানে বসালেই গুণফলটি পাওয়া যায়। বাচ্চারা তাদের কোনো বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে এ ধরনের জটিল হিসাব নিমেষে করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে।

বলা হয় গণিত একটা নীরস বিষয়। গণিতকে নাকি শিক্ষার্থীরা ভয় পায়। কিন্তু ছয়টি বিভাগীয় শহরে গণিত অলিম্পিয়াডে স্কুল-কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে যে ভয় তো নয়ই, বরং গণিতের জন্য তারা পাগল। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের গণিত উৎসব ও অলিম্পিয়াডে গড়ে দেড় থেকে দু হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। রাজশাহীতে গত ১৪ মে তাপমাত্রা ছিল সাড়ে ৪৩ ডিগ্রিরও বেশি। এই দাবদাহের মধ্যে অন্তত হাজার তিনেক ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক সারা দিন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর করে রেখেছিল। বরিশালেও অনুরূপ সাড়া। চট্টগ্রাম, খুলনা বা সিলেট- উৎসবের জোয়ার ছিল সবখানেই।

গণিত প্রতিযোগিতা দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে যে আকর্ষণীয় উৎসবে পরিণত হতে পারে, সে ধারণাটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গণিতবিদের কল্যাণে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice