-
খান জানিবেকের একটা ঘোড়া ছিল, খুব ভাল জাতের আর তেজী। ঘোড়া তো নয় যেন ঝড়। এই ঘোড়াটা ছিল খানের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও গর্বের বস্তু। হঠাৎ ঘোড়াটা অসুখে পড়ল। খান মনোকষ্টে অধীর হয়ে পড়ল। প্রতিদিনের কাজকর্ম, আমোদ-আহলাদ, এমন কি খাওয়াদাওয়া, ঘুম সব ছাড়ল। লোকদের কানে গেল তার হুমকি: ‘যদি কারুর এমন সাহস হয় যে বলে আমার ঘোড়া মারা গেছে তো আমি তার গলায় শলা ঢুকিয়ে দেব!’
প্রাসাদের লোকেরা ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। খানের দাসদাসীরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে চলাফেরা করতে লাগল। সহিসরা এক মুহূর্তেও ঘোড়ার পাশ ছেড়ে নড়ে না। ঘোড়া এদিকে মাটিতে পড়ে মরে গেল। করার কিছুই নেই। সবাই জানত যে
-
অনেক দিন আগের কথা। এক শহরে বাস করত এক দক্ষ কামার। মানুষ যতকিছু জিনিসের কথা জানে সবকিছুই সৃষ্টি করতে পারত তার হাত দুটি—সে হাত দুটি পারত না কেবল কামার আর তার বৌয়ের জন্য যথেষ্ট আহার যোগাতে। সেই শহরের লোকেরা ছিল খুবই গরীব, তাই কামার কোথাও কোন কাজ না পেয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। সে কখনও মনখারাপ করত না, সবসময়েই ঠাট্টাতামাসা করত, গান গাইত, কিন্তু দুঃখেকষ্টে তার মনটা পুড়ে কয়লার মতই কালো হয়ে গেছে। সে নিজে সব দুঃখকষ্টই সহ্য করতে পারে, কিন্তু তার অল্পবয়সী বৌ, অমন সুন্দরী একশো বছরে একজন জন্মায়, সে অভাবে এত কষ্ট পাচ্ছে দেখে তার ভীষণ দুঃখ হয়।
-
একজন লোকের তিনটি ছেলে ছিল, প্রথমপক্ষের দুটি ছেলে আর দ্বিতীয়পক্ষের একটি। দ্বিতীয়পক্ষের ছেলেটিই সবার ছোট, নাম তার আসপান। যদিও আসপান বুদ্ধিমান, দয়ালু আর নরম স্বভাবের ছিল, কিন্তু তার বড় ভাইয়েরা ছোটবেলা থেকেই সহ্য করতে পারত না তাকে। তাদের অত্যাচার, চড়-চাপড়, বিদ্রূপ অনেক সইতে হয়েছে ছোট ভাইকে, লুকিয়ে কেঁদেছে সে, কিন্তু বাবাকে কখনও নালিশ করে নি, ভাইদের ক্ষতি করতে সে কখনই চায় নি।
দিন যায়, মাস যায়, ছেলেদের বয়স বাড়ে, বাবাও ক্রমশঃ বৃদ্ধ হতে থাকে। বাবার মৃত্যুর পরে বাবা যা রেখে গিয়েছিল তা বড় দুই ভাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল আর ছোট ভাইকে দিল কেবল একটা কালো ইয়ুরতা[☆]আর
-
অনেকদিন আগে এক সদাচারী জ্ঞানী লোক ছিল। তার তিন ছেলে ছিল। লোকে বলে: শিকারীর ছেলে তীরে শান, দেয়, দর্জির ছেলে কাপড় কাটে। জ্ঞানী লোকটির ছেলেরা ছোট বয়স থেকেই বিভিন্ন জ্ঞানবিজ্ঞানের বই পড়েই সময় কাটায়। তাদের মধ্যে বড় যে ভাই সে তখনও ঘোড়ায় উঠে বসতে পারে না আর ইতিমধ্যে বিচার, পরামর্শ করার জন্য লোক আসে ভাইয়েদের কাছে।
একদিন তাদের কাছে দুজন লোক এল দুটি উট আর একটি উটের বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে ৷ তারা বলল: ‘আমাদের দু’জনেরই একটি করে উট আছে। উটদুটি সর্বদাই একসঙ্গে চরত মাঠে। কয়েকদিন আগে ওদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে দেখি দুটি সদ্যজাত উটশিশু, একটি জীবিত, অপরটি মৃত। এখন আমরা
-
একসময় এক বুড়ো কাঠুরে তার ন’বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকত এক ভাঙা কুঁড়েঘরে।
থাকার মধ্যে ছিল কেবল তার একটা ভাঙা কুড়ুল, একটা খোঁড়া ঘোড়া আর বুড়ো একটা গাধা। কিন্তু কথায় বলে ‘ধনীর সুখ তার ঘোড়াগরুর পালের দিকে তাকিয়ে আর দরিদ্রের সুখ তার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে।’ সত্যিই, নিজের ছোট্ট মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঠুরে সব দুঃখকষ্ট ভুলে যেত।
মেয়ের নাম আয়না-কিজ। সুন্দরী বুদ্ধিমতী আর হাসিখুশী স্বভাব তার, একবার তাকে দেখলেই ভালবেসে ফেলে তাকে সবাই। দূরের দূরের ইয়ুরতা থেকে বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আসে তার সঙ্গে খেলা করার জন্য, দূর দূর গ্রাম থেকে বৃদ্ধেরা আসে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য। একদিন বুড়ো কাঠুরে খোঁড়া ঘোড়ার পিঠে
-
কোন এক সময় একজন লোক ছিল। তার স্ত্রী ছিল খুব সুন্দরী আর সাজগোজ করতে খুব ভালবাসত সে। তারপর অভাবে পড়ল তারা, পয়সাকড়ি নেই হাত মোটেই। একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, ‘বাজারে গিয়ে কিছু নিয়ে আসি খাবার জন্য।’
একটা সুন্দর পোশাক পরল সে, কানে দুল ঝোলাল, সুর্মা টানল ভ্রুতে, গালে একটা তিল আঁকল, তারপর বাজারে চলল কোমর নাচাতে নাচাতে হাসতে হাসতে। দেখে মাংসওয়ালা একটা ভেড়া কেটে ছাল ছাড়াচ্ছে। মেয়েমানুষটি তার দিকে একটা রূপার মোহর এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই মোহরের বদলে মাংস দাও আমায়।’
‘আরে মেয়ে ও মোহরের কোন দামই নেই!’ বলল মাংসওয়ালা।
‘মোহরটার হয়ত দাম নেই, কিন্তু আমার তো দাম আছে!’
-
এক ছিল বুড়ো আর তার এক বুড়ী। তাদের এক ছেলে ছিল, নাম তার কাম্বার। খুবই কষ্টে দিন কাটে তাদের।
বুড়ী একদিন সূতো কেটে ছেলেকে বলল, ‘তুই বড় হয়েছিস, বাপ, এবার আমাদের সাহায্য কর। বাজারে যা, সূতো বেচে রুটি কিনবি।’
বাজারে গেলে ছেলেটা, সূতো বেচল, রুটি কিনতে যাবে, এমনসময় দেখে একটা কুকুর দৌড়াচ্ছে আর ছেলের দল তাড়া করছে তাকে, মেরে ফেলতে চাচ্ছে তারা কুকুরটাকে।
‘মেরো না কুকুরটাকে, ওটা দিয়ে দাও আমায়!’ বলল কাম্বার ছেলেদের।
‘এর জন্য দাম দাও, তাহলেই পাবে ওটাকে।’ বলল ছেলেরা।
সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো ছেলেদের দিয়ে দিল কাম্বার আর কুকুরটাকে নিয়ে বাড়ী ফিরল।
‘কি কিনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার
-
এক দেশে ছিল এক দয়ালু ন্যায়পরায়ণ লোক। লোকটি খুব ভাল জানত মালীর কাজ, এক চমৎকার বড় বাগান তৈরী করেছে সে নিজের জন্য। যখন তার বয়স হল নিজে আর খাটতে পারে না তখন নিজের ছেলে হামদামের হাতে তুলে দিল দেখাশোনার ভার। বাবার থেকে হামদামও পেয়েছে দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ চরিত্র আর সেই সঙ্গে ফুল-গাছপালার প্রতি ভালবাসা।
বিয়ে করেছে হামদাম, দুটি অতি সুন্দর ছেলে তার।
মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে একদিন তার বাবা ছেলেকে ডেকে পাঠাল, বন্ধু আর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বলল ছেলেকে: ‘বাপ হামদাম!’ আমি মরে গেল যে কাজ আমি আরম্ভ করেছি তা তুই চালিয়ে যাবি... সৎভাবে পরিশ্রম করবি, দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ
-
ছিল একটা লোক, ছিল তার একটা বেড়াল, কিন্তু এতই বুড়ো যে ইঁদুর ধরতে পারত না। বাড়ির কর্তা ভাবলে, ‘এ বেড়াল দিয়ে আমার কী হবে? নিয়ে যাই, বনে ছেড়ে দিয়ে আসি।’ তাই নিয়ে গেল।
আমাদের বেড়ালটি ফারগাছের তলে বসে বসে কাঁদে। ছুটে আসে শেয়ালি দিদি শুধোয়: ‘তুমি কে গা?’
বেড়াল তার লোম ফুলিয়ে বললে: ‘হুঁ-হুঁ-হুঁ, আমি রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ!’
এমন গণ্যমান্য এক মহাশয়ের সঙ্গে আলাপ হওয়ায় ভারি আনন্দ হল শেয়ালির। বললে: ‘আমায় বিয়ে করো। ভালো বৌ হব আমি। খাওয়াব তোমায়।’
‘বেশ,’ বেড়াল বললে, ‘তা বিয়ে করা যাক।’
কথাবার্তা হয়ে গেল, শেয়ালির বাড়িতে থাকতে লাগল তারা ৷
সবরকমে শেয়ালি তোয়াজ করত তার: কখনো
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর ঝুড়ি। তাদের ছিল একটা ছাগল আর একটা ভেড়া। ছাগল আর ভেড়ার মধ্যে ভারি ভাব: যেখানে ছাগল, ভেড়াও সেখানে; শবজি ভুঁইয়ে ছাগল ঢুকল বাঁধাকপি খেতে, ভেড়াও; ছাগল গেল বাগানে, ভেড়াও তার পেছু পেছু।
বুড়ো বললে, ‘আহ্,, পারি না গিন্নি—ছাগল, ভেড়াকে খেদাতে হয়, নইলে আমাদের শবজি ভুঁইও থাকবে না, বাগানও থাকবে না! ... এ্যাই, ভাগ তো, তোদের টিকিও যেন আর না দেখি!’
তা ছাগল আর ভেড়া একটা বস্তা বানিয়ে নিয়ে চলে গেল।F
যেতে, যেতে, যেতে দেখে মাঠের মধ্যে পড়ে আছে একটা নেকড়ের মাথা। ভেড়া তো তাগড়াই, কিন্তু সাহস তেমন নেই, আর ছাগল বেশ সাহসী। কিন্তু নেই তেমন একটা
-
মুরগি চুরি করে শেয়ালি ছুটল। ছুটতে ছুটতে ছুটতে নেমে এল ঘোর-ঘুরঘুটি রাত। দেখে এক চাষিবাড়ি, গেল সেখানে; নিচু হয়ে কুর্নিশ করলে, বললে: ‘কুশল গো ভালোমানুষেরা!
‘কুশল শেয়ালি দিদি।’
‘ভেতরে আসতে দাও, রাত কাটাই এখানে।’
‘হায় রে শেয়ালি দিদি, আমাদের এখানে ঠাসাঠাসি, তোমায় শুতে দেবার জায়গা হবে না।’
‘ও কিছু না, আমি ওই বেঞ্চির তলে গুটিশুটি ঢুকব, লেজটা টেনে নেব, রাতটুকু কেটে যাবে।’
বাড়ির লোকেরা বললে: ‘তাহলে বেশ, রাত কাটাও!’
‘কিন্তু মুরগিটা কোথায় রাখি?’
‘রেখে দাও চুল্লির তলে।’
তাই রাখল সে। আর রাতে উঠল চুপিচুপি, মুরগিটা খেয়ে পালক-টালক ঢিপ করে রাখল কোণে। পরের দিন ভোর-ভোর উঠল, মুখ ধুল ধবধবে করে, বাড়ির
-
একজনের একটা কুকুর ছিল সেরকো, বুড়ো-থুত্থুরে। কুকুরটাকে সে তাড়িয়ে দিলে আঙিনা থেকে। ঘুরে বেড়ায় সে মাঠে, ভারি দুঃখ, তার। ‘কত বছর মালিকের কাজ করলাম, ভালো করে পাহারা দিতাম, আর এখন বুড়ো বয়সে আমায় একটুকরো রুটি দিতেও ওর কষ্ট হয়, তাড়িয়ে দিলে বাড়ি থেকে।’ ঘুরে বেড়ায় আর এইসব ভাবে... দেখে—নেকড়ে আসছে। নেকড়ে তার কাছাকাছি এসে শুধোয়:
‘ঘুরে ঘুরে বেড়াস কেন?’
সেরকো বললে: ‘কর্তা তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই ঘুরে বেড়াই।’
নেকড়ে বললে: ‘কর্তা যাতে তোকে আবার ফেরত নেয়, তার ব্যবস্থা করব?’
সেরকোর ভারি আনন্দ হল: ‘কর ভাই, কর! আমি তার শোধ দেব।’
নেকড়ে বলে: ‘তাহলে শোন, কর্তা-গিন্নি যখন ফসল তুলতে যাবে, গিন্নি ছেলেটিকে
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- খান মোহাম্মদ ফারাবী (১২)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (৫)
- গোলাম মোরশেদ খান (৭)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৫৩)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ফরহাদ খুররম (১২)
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (৮)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- লীলা মজুমদার (১)
- শিবরাম চক্রবর্তী (১)
- সত্যেন সেন (১৯)
- সুবীর বৈরাগী (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.