- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২৩৭
জাদুকরের দান
এক ছিল বুড়ো আর তার এক বুড়ী। তাদের এক ছেলে ছিল, নাম তার কাম্বার। খুবই কষ্টে দিন কাটে তাদের।
বুড়ী একদিন সূতো কেটে ছেলেকে বলল, ‘তুই বড় হয়েছিস, বাপ, এবার আমাদের সাহায্য কর। বাজারে যা, সূতো বেচে রুটি কিনবি।’
বাজারে গেলে ছেলেটা, সূতো বেচল, রুটি কিনতে যাবে, এমনসময় দেখে একটা কুকুর দৌড়াচ্ছে আর ছেলের দল তাড়া করছে তাকে, মেরে ফেলতে চাচ্ছে তারা কুকুরটাকে।
‘মেরো না কুকুরটাকে, ওটা দিয়ে দাও আমায়!’ বলল কাম্বার ছেলেদের।
‘এর জন্য দাম দাও, তাহলেই পাবে ওটাকে।’ বলল ছেলেরা।
সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো ছেলেদের দিয়ে দিল কাম্বার আর কুকুরটাকে নিয়ে বাড়ী ফিরল।
‘কি কিনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার মা।
‘কুকুর কিনলাম। ছেলেগুলো একে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, মায়া হল আমার, তাই কিনে নিলাম ওটাকে।’
‘ওরে আকাট, মুখ্যু! ঘরে রুটি নেই আমাদের আর তুই শেষ কাণাকড়িটাও দিয়ে দিলি কুকুরটার জন্য।’ হাহুতাশ করতে লাগল তার মা।
কয়েকদিন বাদে বুড়ী আবার ছেলেকে পাঠাল সূতো বেঁচে রুটি কেনার জন্য।
সূতো বেঁচে রুটি কিনতে যাবে কাম্বার এমন সময় দেখে ছেলেরা একটা সাপ ধরেছে, মেরে ফেলতে চাইছে সেটাকে।
‘মেরো না ওটাকে, আমায় দিয়ে দাও!’ বলল কাম্বার।
‘ওটার দাম দাও, তাহলেই নিতে পার।’ বলল ছেলেরা।
কাম্বার সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো দিয়ে দিল ছেলেদের আর সাপটাকে পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে নিয়ে চলল বাড়ী।
‘কি আনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার মা।
‘সাপ একটা। ছেলেগুলো এটাকে মেরে ফেলেছিল, আমার মায়া হল ওটার জন্য, তাই কিনে নিলাম।’
‘ওরে অপদার্থ! আমরা মরি খিদের জ্বালায় আর ও এদিকে শুধু শুধু পয়সা খরচ করছে। দূর হয়ে যা তুই তোর সাপটা নিয়ে!’
কাম্বার মনের দুঃখের চলল যেদিকে দুচোখ যায়।
চলতে চলতে এল এক মরুভূমিতে। সেখানে না আছে ঘাস, না গাছপালা, না জল। কাম্বার খিদেতেষ্টা আর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ল। খাবার নেই কিছুই, কাঁদতে আরম্ভ করল সে। হঠাৎ তার পোশাকের ভিতর নড়েচড়ে উঠল সাপটা আর বলল, ‘কাঁদিস না, কাম্বার, পিছনে চেয়ে দেখ।’
কাম্বার পিছন ফিরে দেখে এক বিরাট প্রাচীর উঠেছে।
‘ঢুকে যা ফটকের মধ্য দিয়ে!’ বলল সাপটা। ‘এখানে থাকেন আমার বাবা—জ্ঞানী সাপ-জাদুকর।’
সাপের বাবা ছেলেকে ফিরে পেয়ে এত খুশী হল যে দাসদের হুকুম দিল শিঙা, ঢাক বাজাতে আর সাপের রাজ্যের সবাইকে আহবান জানাতে ভোজে।
‘ছেলেরা আমায় ধরে মেরে ফেলছিল। কাম্বার আমাকে কিনে নিয়ে আমার জীবন বাঁচায়।’ বলল সাপ তার বাবাকে।
‘তোর এই উপকারের পরিবর্তে তুই আমার কাছে থাকতে পারিস যতদিন চাস!’ বলল কাম্বারকে সাপের বাবা আর দাসদের নির্দেশ দিল ছেলেটি যা চাই তাই তাকে দিতে।
কিন্তু সাপেদের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছে হল না কাম্বারের।
তুই আমাকে বাঁচিয়েছিস বলে বাবা তোকে পুরষ্কার দিতে চাইবে।’ সাপটা বলল তাকে। ‘তুই তার কাছে উপহার হিসাবে জমি, শহর, মণিমুক্ত নিস না। তুই চাইবি যে পাত্র আপনা থেকে রান্না করে, যে চাদর পাতলেই খাবার ভরে ওঠে, সে গাধার মুখ থেকে সোনা বেরোয় আর সেই লাঠি, যেটা যাকে মারতে বলা হবে তাকেই মারবে।’
কাম্বার সাপের বাবার কাছে গিয়ে নীচু হয়ে অভিবাদন জানিয়ে বলল, ‘এমন আতিথ্যের জন্য ধন্যবাদ, এবার আমাকে নিজের পথে চলতে দিন।’
‘তোকে তো খালি হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।’ বলল সাপের বাবা। ‘তুই আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচিয়েছিস! কি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি তোকে? যা তুই চাস, তাই পাবি।’
‘তাই যদি হয় তো আমাকে দিন সেই পাত্র, যাতে আপনা থেকেই রান্না হয়, সে চাদর বিছালে আপনা থেকেই খাবার এসে পড়ে, যে গাধার মুখ থেকে সোনা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments