জাদুকরের দান

এক ছিল বুড়ো আর তার এক বুড়ী। তাদের এক ছেলে ছিল, নাম তার কাম্বার। খুবই কষ্টে দিন কাটে তাদের।

বুড়ী একদিন সূতো কেটে ছেলেকে বলল, ‘তুই বড় হয়েছিস, বাপ, এবার আমাদের সাহায্য কর। বাজারে যা, সূতো বেচে রুটি কিনবি।’

বাজারে গেলে ছেলেটা, সূতো বেচল, রুটি কিনতে যাবে, এমনসময় দেখে একটা কুকুর দৌড়াচ্ছে আর ছেলের দল তাড়া করছে তাকে, মেরে ফেলতে চাচ্ছে তারা কুকুরটাকে।

‘মেরো না কুকুরটাকে, ওটা দিয়ে দাও আমায়!’ বলল কাম্বার ছেলেদের।

‘এর জন্য দাম দাও, তাহলেই পাবে ওটাকে।’ বলল ছেলেরা।

সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো ছেলেদের দিয়ে দিল কাম্বার আর কুকুরটাকে নিয়ে বাড়ী ফিরল।

‘কি কিনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার মা।

‘কুকুর কিনলাম। ছেলেগুলো একে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, মায়া হল আমার, তাই কিনে নিলাম ওটাকে।’

‘ওরে আকাট, মুখ্যু! ঘরে রুটি নেই আমাদের আর তুই শেষ কাণাকড়িটাও দিয়ে দিলি কুকুরটার জন্য।’ হাহুতাশ করতে লাগল তার মা।

কয়েকদিন বাদে বুড়ী আবার ছেলেকে পাঠাল সূতো বেঁচে রুটি কেনার জন্য।

সূতো বেঁচে রুটি কিনতে যাবে কাম্বার এমন সময় দেখে ছেলেরা একটা সাপ ধরেছে, মেরে ফেলতে চাইছে সেটাকে।

‘মেরো না ওটাকে, আমায় দিয়ে দাও!’ বলল কাম্বার।

‘ওটার দাম দাও, তাহলেই নিতে পার।’ বলল ছেলেরা।

কাম্বার সূতো বেঁচে পাওয়া পয়সাগুলো দিয়ে দিল ছেলেদের আর সাপটাকে পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে নিয়ে চলল বাড়ী।

‘কি আনলি?’ জিজ্ঞাসা করল তার মা।

‘সাপ একটা। ছেলেগুলো এটাকে মেরে ফেলেছিল, আমার মায়া হল ওটার জন্য, তাই কিনে নিলাম।’

‘ওরে অপদার্থ! আমরা মরি খিদের জ্বালায় আর ও এদিকে শুধু শুধু পয়সা খরচ করছে। দূর হয়ে যা তুই তোর সাপটা নিয়ে!’

কাম্বার মনের দুঃখের চলল যেদিকে দুচোখ যায়।

চলতে চলতে এল এক মরুভূমিতে। সেখানে না আছে ঘাস, না গাছপালা, না জল। কাম্বার খিদেতেষ্টা আর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ল। খাবার নেই কিছুই, কাঁদতে আরম্ভ করল সে। হঠাৎ তার পোশাকের ভিতর নড়েচড়ে উঠল সাপটা আর বলল, ‘কাঁদিস না, কাম্বার, পিছনে চেয়ে দেখ।’

কাম্বার পিছন ফিরে দেখে এক বিরাট প্রাচীর উঠেছে।

‘ঢুকে যা ফটকের মধ্য দিয়ে!’ বলল সাপটা। ‘এখানে থাকেন আমার বাবা—জ্ঞানী সাপ-জাদুকর।’

সাপের বাবা ছেলেকে ফিরে পেয়ে এত খুশী হল যে দাসদের হুকুম দিল শিঙা, ঢাক বাজাতে আর সাপের রাজ্যের সবাইকে আহবান জানাতে ভোজে।

‘ছেলেরা আমায় ধরে মেরে ফেলছিল। কাম্বার আমাকে কিনে নিয়ে আমার জীবন বাঁচায়।’ বলল সাপ তার বাবাকে।

‘তোর এই উপকারের পরিবর্তে তুই আমার কাছে থাকতে পারিস যতদিন চাস!’ বলল কাম্বারকে সাপের বাবা আর দাসদের নির্দেশ দিল ছেলেটি যা চাই তাই তাকে দিতে।

কিন্তু সাপেদের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছে হল না কাম্বারের।

তুই আমাকে বাঁচিয়েছিস বলে বাবা তোকে পুরষ্কার দিতে চাইবে।’ সাপটা বলল তাকে। ‘তুই তার কাছে উপহার হিসাবে জমি, শহর, মণিমুক্ত নিস না। তুই চাইবি যে পাত্র আপনা থেকে রান্না করে, যে চাদর পাতলেই খাবার ভরে ওঠে, সে গাধার মুখ থেকে সোনা বেরোয় আর সেই লাঠি, যেটা যাকে মারতে বলা হবে তাকেই মারবে।’

কাম্বার সাপের বাবার কাছে গিয়ে নীচু হয়ে অভিবাদন জানিয়ে বলল, ‘এমন আতিথ্যের জন্য ধন্যবাদ, এবার আমাকে নিজের পথে চলতে দিন।’

‘তোকে তো খালি হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।’ বলল সাপের বাবা। ‘তুই আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচিয়েছিস! কি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি তোকে? যা তুই চাস, তাই পাবি।’

‘তাই যদি হয় তো আমাকে দিন সেই পাত্র, যাতে আপনা থেকেই রান্না হয়, সে চাদর বিছালে আপনা থেকেই খাবার এসে পড়ে, যে গাধার মুখ থেকে সোনা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice