এক চালাক মেয়েমানুষের কীর্তিকলাপ
কোন এক সময় একজন লোক ছিল। তার স্ত্রী ছিল খুব সুন্দরী আর সাজগোজ করতে খুব ভালবাসত সে। তারপর অভাবে পড়ল তারা, পয়সাকড়ি নেই হাত মোটেই। একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, ‘বাজারে গিয়ে কিছু নিয়ে আসি খাবার জন্য।’
একটা সুন্দর পোশাক পরল সে, কানে দুল ঝোলাল, সুর্মা টানল ভ্রুতে, গালে একটা তিল আঁকল, তারপর বাজারে চলল কোমর নাচাতে নাচাতে হাসতে হাসতে। দেখে মাংসওয়ালা একটা ভেড়া কেটে ছাল ছাড়াচ্ছে। মেয়েমানুষটি তার দিকে একটা রূপার মোহর এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই মোহরের বদলে মাংস দাও আমায়।’
‘আরে মেয়ে ও মোহরের কোন দামই নেই!’ বলল মাংসওয়ালা।
‘মোহরটার হয়ত দাম নেই, কিন্তু আমার তো দাম আছে!’
তার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখে মাংসওয়ালা সত্যিই খুব সুন্দরী সে। বলে, ‘তোর স্বামী আছে নাকি? তোর ঘরে আসতে দিবি?’
‘যদি আমাকে তোমার পছন্দ হয়ে থাকে তো এসো। কিন্তু তার আগে আমাকে দাও আধমন চাল, আধমন ঘি আর রেশমী পোশাক। আমি এ যে বড় বাড়িটা দেখা যাচ্ছে, ওখানে থাকি। রাতের বেলায় এসো।’
মাংসওয়ালা তাকে দিল সবকিছু যা যা সে চাইল আর বলল: ‘রাতের বেলায় আমার অপেক্ষা থাকিস।’
সেসব জিনিস বাড়িতে নিয়ে রেখে এসে সে গেল শহরের কাজীর কাছে। তাকে মোহরটা দিয়ে বলল, ‘ভাঙিয়ে দাও এটাকে।’
‘এটা কোন দাম নেই,’ বলল কাজী।
‘হয়ত মোহরটার কোন দাম নেই, কিন্তু আমার তো দাম আছে’ বলল মেয়েমানুষটি।
সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে কাজীর মাথা ঘুরে গেল।
‘আমাকে আসতে দিবি তোর কাছে?’ জিজ্ঞাসা করল সে।
‘আমাকে তোমার মনে ধরলে আসবে নাই বা কেন? কিন্তু আমার জন্য ভাল পণ দিতে হবে: আধমন চাল,আধমন ঘি আর রেশমী পোশাক-আশাক।’
কাজী দিল পণ। সেসব বাড়িতে রেখে এসে আবার বাজারে গেল মেয়েমানুষটি। দেখে বাজারের তদারককারী বসে আছে আরাম কেদারায়, মাথায় বিরাট পাগড়ী। তাকে পয়সাটা দিয়ে বলল, ‘এটাকে ভাঙিয়ে দাও।’
‘তোর মোহরের কোন দামই নেই।’
‘হুজুর, মোহরটার দাম নেই তো আমার দাম ও কি কমে গেল নাকি?’
তার দিকে তাকিয়ে বাজারের তাদরককারীর মনের শান্তি ঘুচল।
‘তোর ঘরে আসতে দিবি?’ বলল সে।
‘এসো, কিন্তু পণ দিতে হবে তোমায় আধমন চাল, আধমন ঘি আর রেশমী পোশাক-আশাক। আর ঐখানে আমার বাড়ী।’
সবকিছু দিল তার কথামত, বাড়ী চলে গেল মেয়েমানুষটি। তার স্বামী দেখল যে এত খাবার জিনিস এনেছে, খুশী হল খুব। স্বামীকে বলল মেয়েমানুষটি, ‘এখন তুমি বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাও। রাতের বেলায় আমার কাছে একজন লোক আসবে। যেই সে বাড়ীতে ঢুকবে অমনি তুমিও ঢুকবে তার পিছন পিছন।’
মাঝরাতে এল মাংসওয়ালা। সাজগোজ করে মেয়েমানুষটি তার সামনে এসে দাঁড়াল।
‘তোমায় আলিঙ্গন করতে সাধ হচ্ছে, সুন্দরী।’ বলল মাংসওয়ালা।
মেয়েমানুষটি বলল, ‘দাঁড়াও, আগে খেয়ে দেয়ে নেওয়া যাক, এসো, তারপরে আলিঙ্গন করবে।’
এমন সময় তার স্বামী বাড়িতে ঢুকে ধমাস করে দরজা বন্ধ করল।
‘ও কে?’ ভয় পেয়ে বলল মাংসওয়ালা।
‘ও আমার স্বামী। কয়েকমাস ছিল না এখানে, হঠাৎ এসে পেড়েছে।’
‘কি করব আমি এখন?’
‘ভয় পেও না, আমি তোমায় লুকিয়ে রাখব। স্বামীর চলে যাবার সময় আমাদের গরুর বাছুর হবার কথা ছিল। আমি তোমাকে দরজার বাইরে বেঁধে তারপর দরজা বন্ধ করে দেব। যদি স্বামী জিজ্ঞেস করে তো বলব ওখানে বাছুরটা আছে।
স্বামী ভিতরে এসে বসল, ‘ওগো ভীষণ খিদে পেয়েছে, আমার যেতে দাও।’
‘হা কপাল! কোথা থেকে আমি পাব খাবারদাবার? তুমি তো একেবারে খোঁজই রাখ না বাড়ীর কথা।’
স্বামী বলে: ‘জাহাজে মাল বোঝাই করলাম। কিন্তু জাহাজের দানো ডুবিয়ে দিল জাহাজটাকে, সব মাল ডুবে গেল, আমি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments