- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২০১
নতুন শহর নাভোদ
এক দেশে ছিল এক দয়ালু ন্যায়পরায়ণ লোক। লোকটি খুব ভাল জানত মালীর কাজ, এক চমৎকার বড় বাগান তৈরী করেছে সে নিজের জন্য। যখন তার বয়স হল নিজে আর খাটতে পারে না তখন নিজের ছেলে হামদামের হাতে তুলে দিল দেখাশোনার ভার। বাবার থেকে হামদামও পেয়েছে দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ চরিত্র আর সেই সঙ্গে ফুল-গাছপালার প্রতি ভালবাসা।
বিয়ে করেছে হামদাম, দুটি অতি সুন্দর ছেলে তার।
মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে একদিন তার বাবা ছেলেকে ডেকে পাঠাল, বন্ধু আর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বলল ছেলেকে: ‘বাপ হামদাম!’ আমি মরে গেল যে কাজ আমি আরম্ভ করেছি তা তুই চালিয়ে যাবি... সৎভাবে পরিশ্রম করবি, দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ হবি, কখনও অন্যের জিনিস নিই নি আমি আর কারুর কাছে কিছু ধারি না। কিন্তু মানুষের ভুল হতে পারে, হয়ত আমি কারুর কাছে কিছু নিয়েছি ফিরত দিতে ভুলে গিয়েছি... যদি কেউ তোকে বলে আমার দেনা মিটিয়ে দিতে তো অস্বীকার করে আমার মুখে কালি দিস না, পরপারে আমার শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাস না।’ একথা বলে চুপ করে গেল বুড়ো।
‘হামদাম, তোর বাবা যা বলল মনে রাখিস। বিশেষ করে শেষের কথাগুলি!’ বলল তাদের প্রতিবেশী ব্যবাসায়ী।
সেই রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলল হামদামের বুড়ো বাবা। খুব ভালভাবেই বাবার শেষ কাজ করল হামদাম, কাঁদলও খুব।
বাবা তাকে যেমনটি হতে বলেছিল ঠিক তেমনটি হতেই চেষ্টা করে সে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে নিজের বাগানে, অতিথিপরায়ণ সে, আর সাহায্য করে সবাইকেই যার আশ্রয় বা কোন সাহায্যের দরকার।
এক দিন সন্ধ্যাবেলায় তার কাছে বাগানে এল প্রতিবেশী ব্যবসায়ী যে শুনেছিল তার বাবার শেষ কথাগুলি।
‘এই যে হামদাম! তোর কাছে এলাম একটা দরকারে!’ বলল সে। ‘তোরে পরলোকগত বাবা আমার কাছে টাকা ধার করেছিল। বলেছিল কিছুদিন বাদেই ফিরত দেবে, বোধহয় ভুলে গিয়েছিল। এতদিন কাটাল। আমি তোকে এতদিন একথা মনে করিয়ে দিই নি, ভেবেছিলাম তুই নিজেই তোর বাবার দেনা শোধ করে দিবি। তোর বাবা তোকে কি এ দেনার কথা বলেনি?’
‘না...বাবা তো আমাকে কিছু বলে নি।’ বলল হামদাম অবাক হয়ে। ‘কত টাকা নিয়েছিলেন বাবা আপনার কাছে?’
‘পাঁচশ টাকা।’
‘একটু অপেক্ষা করুন এখানে।’ ব্যবসায়ীকে বলে হামদাম বাড়ির মধ্যে গিয়ে টাকা নিয়ে এসে দিল তার হাতে।
‘এবার তোর বাপ শান্তিতে ঘুমোতে পারবে কবরে শুয়ে—ছেলে তার নাম ডোকয় নি!’
কয়েকদিন বাদে হামদামের কাছে এল গ্রামের জমিদার। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল যেন কথা আরম্ভ করতে ভরসা পাচ্ছে না, শেষে অর্থপূর্ণভাবে জিজ্ঞাসা করল: ‘হামদাম, তোর বাবা মরার আগে তোকে কিছু বলে যায় নি ধারদেনার কথা?’
‘না... কেন বলুন তো?’
‘আমার কাছে দানাশস্য নিয়েছিল সে। প্রথমে তোর বিয়ের সময় নেয়ে দশকাঠা গম। আমি তাকে মনে করিয়ে দিই নি সে দেনার কথা, সেও আর ফিরত দেয় নি... তারপর তোর ছেলেদের জন্মের সময় আবার নেয় বারো কাঠা গম আর পাঁচকাঠা চাল।
‘আশ্চর্য, এতখানি ধার করে বাবা আমায় কিছু বলেন নি তো?’ অবাক হল হামদাম।
‘ভুল হয় তো মানুষমাত্রেরই।’ বলল জমিদারটি।
কি বলবে ভেবে পেল না হামদাম। মৃত্যুর পূর্বে বাবা যে উপদেশ দিয়েছিল তা মনে পড়ল, ‘দেনা’ মিটিয়ে দিতে হল তাকে।
কিন্তু বাবার ‘দেনা’ মিটোতে গিয়ে বাগানের খানিকটা অংশ বেচে দিতে হল তাকে।
এই দেনা মিটোবার পরেও হামদামের কাছে আরও আসতে লাগল অনেক, বাবার দেনা শোধ করার দাবী করতে লাগল। এখন আর হামদামের বাগানে কাজ করার সময় হয় না মোটেই। বাবার মৃত্যুর পরে যা কিছু তার হাতে এসেছিল সে সবই ক্রমে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments