নতুন শহর নাভোদ
এক দেশে ছিল এক দয়ালু ন্যায়পরায়ণ লোক। লোকটি খুব ভাল জানত মালীর কাজ, এক চমৎকার বড় বাগান তৈরী করেছে সে নিজের জন্য। যখন তার বয়স হল নিজে আর খাটতে পারে না তখন নিজের ছেলে হামদামের হাতে তুলে দিল দেখাশোনার ভার। বাবার থেকে হামদামও পেয়েছে দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ চরিত্র আর সেই সঙ্গে ফুল-গাছপালার প্রতি ভালবাসা।
বিয়ে করেছে হামদাম, দুটি অতি সুন্দর ছেলে তার।
মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে একদিন তার বাবা ছেলেকে ডেকে পাঠাল, বন্ধু আর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বলল ছেলেকে: ‘বাপ হামদাম!’ আমি মরে গেল যে কাজ আমি আরম্ভ করেছি তা তুই চালিয়ে যাবি... সৎভাবে পরিশ্রম করবি, দয়ালু আর ন্যায়পরায়ণ হবি, কখনও অন্যের জিনিস নিই নি আমি আর কারুর কাছে কিছু ধারি না। কিন্তু মানুষের ভুল হতে পারে, হয়ত আমি কারুর কাছে কিছু নিয়েছি ফিরত দিতে ভুলে গিয়েছি... যদি কেউ তোকে বলে আমার দেনা মিটিয়ে দিতে তো অস্বীকার করে আমার মুখে কালি দিস না, পরপারে আমার শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাস না।’ একথা বলে চুপ করে গেল বুড়ো।
‘হামদাম, তোর বাবা যা বলল মনে রাখিস। বিশেষ করে শেষের কথাগুলি!’ বলল তাদের প্রতিবেশী ব্যবাসায়ী।
সেই রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলল হামদামের বুড়ো বাবা। খুব ভালভাবেই বাবার শেষ কাজ করল হামদাম, কাঁদলও খুব।
বাবা তাকে যেমনটি হতে বলেছিল ঠিক তেমনটি হতেই চেষ্টা করে সে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে নিজের বাগানে, অতিথিপরায়ণ সে, আর সাহায্য করে সবাইকেই যার আশ্রয় বা কোন সাহায্যের দরকার।
এক দিন সন্ধ্যাবেলায় তার কাছে বাগানে এল প্রতিবেশী ব্যবসায়ী যে শুনেছিল তার বাবার শেষ কথাগুলি।
‘এই যে হামদাম! তোর কাছে এলাম একটা দরকারে!’ বলল সে। ‘তোরে পরলোকগত বাবা আমার কাছে টাকা ধার করেছিল। বলেছিল কিছুদিন বাদেই ফিরত দেবে, বোধহয় ভুলে গিয়েছিল। এতদিন কাটাল। আমি তোকে এতদিন একথা মনে করিয়ে দিই নি, ভেবেছিলাম তুই নিজেই তোর বাবার দেনা শোধ করে দিবি। তোর বাবা তোকে কি এ দেনার কথা বলেনি?’
‘না...বাবা তো আমাকে কিছু বলে নি।’ বলল হামদাম অবাক হয়ে। ‘কত টাকা নিয়েছিলেন বাবা আপনার কাছে?’
‘পাঁচশ টাকা।’
‘একটু অপেক্ষা করুন এখানে।’ ব্যবসায়ীকে বলে হামদাম বাড়ির মধ্যে গিয়ে টাকা নিয়ে এসে দিল তার হাতে।
‘এবার তোর বাপ শান্তিতে ঘুমোতে পারবে কবরে শুয়ে—ছেলে তার নাম ডোকয় নি!’
কয়েকদিন বাদে হামদামের কাছে এল গ্রামের জমিদার। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল যেন কথা আরম্ভ করতে ভরসা পাচ্ছে না, শেষে অর্থপূর্ণভাবে জিজ্ঞাসা করল: ‘হামদাম, তোর বাবা মরার আগে তোকে কিছু বলে যায় নি ধারদেনার কথা?’
‘না... কেন বলুন তো?’
‘আমার কাছে দানাশস্য নিয়েছিল সে। প্রথমে তোর বিয়ের সময় নেয়ে দশকাঠা গম। আমি তাকে মনে করিয়ে দিই নি সে দেনার কথা, সেও আর ফিরত দেয় নি... তারপর তোর ছেলেদের জন্মের সময় আবার নেয় বারো কাঠা গম আর পাঁচকাঠা চাল।
‘আশ্চর্য, এতখানি ধার করে বাবা আমায় কিছু বলেন নি তো?’ অবাক হল হামদাম।
‘ভুল হয় তো মানুষমাত্রেরই।’ বলল জমিদারটি।
কি বলবে ভেবে পেল না হামদাম। মৃত্যুর পূর্বে বাবা যে উপদেশ দিয়েছিল তা মনে পড়ল, ‘দেনা’ মিটিয়ে দিতে হল তাকে।
কিন্তু বাবার ‘দেনা’ মিটোতে গিয়ে বাগানের খানিকটা অংশ বেচে দিতে হল তাকে।
এই দেনা মিটোবার পরেও হামদামের কাছে আরও আসতে লাগল অনেক, বাবার দেনা শোধ করার দাবী করতে লাগল। এখন আর হামদামের বাগানে কাজ করার সময় হয় না মোটেই। বাবার মৃত্যুর পরে যা কিছু তার হাতে এসেছিল সে সবই ক্রমে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments