রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ
ছিল একটা লোক, ছিল তার একটা বেড়াল, কিন্তু এতই বুড়ো যে ইঁদুর ধরতে পারত না। বাড়ির কর্তা ভাবলে, ‘এ বেড়াল দিয়ে আমার কী হবে? নিয়ে যাই, বনে ছেড়ে দিয়ে আসি।’ তাই নিয়ে গেল।
আমাদের বেড়ালটি ফারগাছের তলে বসে বসে কাঁদে। ছুটে আসে শেয়ালি দিদি শুধোয়: ‘তুমি কে গা?’
বেড়াল তার লোম ফুলিয়ে বললে: ‘হুঁ-হুঁ-হুঁ, আমি রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ!’
এমন গণ্যমান্য এক মহাশয়ের সঙ্গে আলাপ হওয়ায় ভারি আনন্দ হল শেয়ালির। বললে: ‘আমায় বিয়ে করো। ভালো বৌ হব আমি। খাওয়াব তোমায়।’
‘বেশ,’ বেড়াল বললে, ‘তা বিয়ে করা যাক।’
কথাবার্তা হয়ে গেল, শেয়ালির বাড়িতে থাকতে লাগল তারা ৷
সবরকমে শেয়ালি তোয়াজ করত তার: কখনো মুরগি নিয়ে আসত, কখনো বনের এটা সেটা কোনো একটা জীব। নিজে খাক, না খাক, ওকে খাওয়াত।
একদিন তার সঙ্গে দেখা হল দৌড়-খোশ খরগোশের, সে বললে: ‘শেয়ালি দিদি, আমি তোমার বাড়ি আসব বিয়ের পাকা কথা কয়ে নেবার জন্যে।’
‘না, না, কখখনো এসো না! আমার বাড়িতে এখন থাকে রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ। তোমায় কামড়ে কুটিকুটি করে দেবে।’
বেড়াল বেরিয়ে এল গর্ত থেকে। লোম ফুলিয়ে পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে ফ্যাঁচফ্যাঁচ করল, ‘ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ্!’
ভয়ে খরগোশ মরেই বুঝি, বনে ছুটে গিয়ে নেকড়ে, ভালকে আর বনশুয়োরকে বললে কী ভয়ংকর এক জন্তু দেখেছে সে—রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ।
ওরা ভাবতে লাগল কী করে মার্জারচাঁদের নেকনজরে পড়া যায়, ঠিক করলে শেয়ালির সঙ্গে তাকে খেতে ডাকবে।
পরামর্শ করতে লাগল অতিথির জন্যে ভালোমন্দ কী রান্না করা যায়। নেকড়ে বললে: ‘আমি যাব চর্বি আর মাংসের জন্যে যাতে সুরুয়াটা হয় ভালো।’
বনশুয়োর বললে: ‘আমি বীট আর আলু খুঁড়ে আনব।’
ভালুক বললে: ‘খাওয়া শেষের মিষ্টিমুখ হিশেবে আমি নিয়ে আসব মধু,।’
আর খরগোশ ছুটল বাঁধাকপির খোঁজে।
রান্না হল, খাবারগুলো টেবিলে সাজিয়ে তর্ক বাধল কে শেয়ালি আর মার্জারচাঁদকে নিয়ে আসবে।
ভালক বললে: ‘আমি মুটকো, হাঁপিয়ে যাব।’
বনশুয়োর বললে: ‘আমি জবরজং, পেরে উঠব না।’
নেকড়ে বললে: ‘আমি বুড়ো, কানে কম শুনি।’
খরগোশকেই যেতে হল।
শেয়ালির গর্ত পর্যন্ত ছুটে গিয়ে জানলায় তিনবার টোকা দিল সে: টুক-টুক-টুক!
বেরিয়ে এল শেয়ালি, দেখে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে খরগোশ।
জিগ্যেস করলে, ‘কী চাই তোমার?’
‘নেকড়ে, ভালুক, বনশুয়োর আর আমি তোমাদের, শেয়ালি দিদি তোমায় আর রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদকে আমাদের ওখানে খেতে নেমন্তন্ন করছি।’
বলেই পালাল। ছুটে যখন এল, ভালুক তাকে শুধোয়: ‘ওরা যেন চামচে সঙ্গে নিয়ে আসে সেটা বলতে ভোলো নি তো।’
‘এই যাঃ মনে ছিল না!’ খরগোশ বললে, আবার ছুটল শেয়ালির কাছে। ছুটে এসে টোকা দিল জানলায়।
বললে, ‘সঙ্গে চামচে নিতে ভুলো না।’
শেয়ালি বললে: ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে, ভুলব না।’
শেয়ালি দিদি তৈরি হয়ে নিল, রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদের হাত ধরে এগুতে থাকল। মার্জারচাঁদ ওদিকে আবার লোম ফোলায়, ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে।
চোখ এমন জ্বলছে যেন সবুজ দুটো আগুন।
নেকড়ে ভয় পেয়ে গেল, বসে পড়ল ঝোপের পেছনে, বনশুয়োর ঢুকল টেবিলের তলায়, ভালুক আঁকুপাঁকু করে কোনোরকমে উঠে পড়ল গাছে আর খরগোশ ঢুকিয়ে পড়ল তার গর্তে।
ওদিকে টেবিলে মাংসের গন্ধ পেতেই বেড়াল হুমড়ি খেয়ে পড়ল তার ওপর, ডেকে উঠল, ‘ম্যাও-ম্যাও-ম্যাও।’
আর জন্তুদের মনে হল সে বুঝি বলছে, ‘কমম্-কমম্-কমম্ !
ভাবল, ‘পেটুক, এত সবেও কুলচ্ছে না।’
রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ খেল, পান করল, টেবিলের ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ৷
বনশুয়োর ওদিকে টেবিলের তলে পড়ে থেকে লেজ নাড়াচ্ছে। বেড়াল ভাবল ওটা ইঁদুর। তার দিকে যেতে গিয়েই দেখে সেটা বনশুয়োর, ভয় পেয়ে সে উঠতে লাগল সেই গাছটায় যেখানে বসে ছিল ভালুক ৷
ভালুক ভাবলে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments