সেরকো

একজনের একটা কুকুর ছিল সেরকো, বুড়ো-থুত্থুরে। কুকুরটাকে সে তাড়িয়ে দিলে আঙিনা থেকে। ঘুরে বেড়ায় সে মাঠে, ভারি দুঃখ, তার। ‘কত বছর মালিকের কাজ করলাম, ভালো করে পাহারা দিতাম, আর এখন বুড়ো বয়সে আমায় একটুকরো রুটি দিতেও ওর কষ্ট হয়, তাড়িয়ে দিলে বাড়ি থেকে।’ ঘুরে বেড়ায় আর এইসব ভাবে... দেখে—নেকড়ে আসছে। নেকড়ে তার কাছাকাছি এসে শুধোয়:

‘ঘুরে ঘুরে বেড়াস কেন?’

সেরকো বললে: ‘কর্তা তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই ঘুরে বেড়াই।’

নেকড়ে বললে: ‘কর্তা যাতে তোকে আবার ফেরত নেয়, তার ব্যবস্থা করব?’

সেরকোর ভারি আনন্দ হল: ‘কর ভাই, কর! আমি তার শোধ দেব।’

নেকড়ে বলে: ‘তাহলে শোন, কর্তা-গিন্নি যখন ফসল তুলতে যাবে, গিন্নি ছেলেটিকে রেখে যাবে গাছের তলায়, তুই সেই জায়গাটায় ঘোরাঘুরি করবি, তাতে আমি বুঝতে পারব কোথায়। ছেলেটিকে আমি তুলে নেব, তুই ছাড়িয়ে নিতে যাবি। আমি তখন যেন ভয় পেয়েছি, এই ভাব করে ছেলেটিকে ফেলে দেব।’

কর্তা-গিন্নি তো গেল ক্ষেতে ফসল তুলতে। গিন্নি ছেলেটিকে রেখে গেল ঝোপের তলে। ফসল তুলছে সে, কোনোরকম সন্দেহই করে নি। হঠাৎ কে জানে কোত্থেকে এল নেকড়ে। ছেলেটিকে মুখে নিয়ে চলল মাঠ উজিয়ে। সেরকো ছুটে গেল নেকড়ের পেছনে, পাল্লা ধরল তার, কর্তা ওদিকে চেঁচায়:

‘হুই, হুই সেরকো!’

সেরকো নেকড়ের পাল্লা ধরে ছিনিয়ে নিল ছেলেটিকে, নিয়ে এসে রাখল কর্তার সামনে। কর্তা তখন থলে থেকে রুটি আর একটুকরো চর্বি বার করে বললে: ‘খা সেরকো, এটা তোর জন্যে, আমার ছেলেকে বাঁচালি বলে!’

সন্ধেয় খেত থেকে ফিরল সবাই, সেরকোকেও সঙ্গে নিলে। বাড়ি এসে কর্তা বললে: ‘পুলি বানাও গিন্নি, বেশি করে, চর্বির মায়া করো না।’

রাঁধা হল পুলি। সেরকোকে খেতে বসাল কর্তা, নিজে বসল পাশে। বললে: ‘পুলি দাও গিন্নি, খাওয়া যাক।’

টেবিলে পুলি রাখল গিন্নি, পুরো এক বাটি পুলি নিল কর্তা, ফুঁ দিতে লাগল যাতে সেরকোর ছ্যাঁকা না লাগে।

সেরকো তখন ভাবল, ‘এমন ব্যাপার যখন, নেকড়ের উপকারের তাহলে যে করেই হোক শোধ দিতে হবে।’

তারপর হল কী, কর্তা ঠিক করল তার বড়ো মেয়ের বিয়ে দেবে। সেরকো মাঠে গেল, নেকড়ের খোঁজ করে তাকে বললে: ‘রবিবার সন্ধেয় আমাদের শবজি-ভুঁইয়ে আসিস, আমি তোকে বাড়ির ভেতর নিয়ে গিয়ে উপকারের বদলে উপকার করব।’

এল রবিবার, সেরকো যেখানে যেতে বলেছিল, সেখানে গেল নেকড়ে। আর সেই দিনই বিয়ে হচ্ছিল। সেরকো নেকড়েকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে ঢুকিয়ে রাখল টেবিলের নিচে। তারপর টেবিল থেকে এক ভাঁড় ভোদকা আর সুস্বাদু, একখণ্ড মাংস নিয়ে দিয়ে এল নেকড়ের কাছে। নিমন্ত্রিতরা কুকুরটাকে মারতে উঠেছিল, কিন্তু কর্তা তাদের থামাল: ‘মেরো না সেরকোকে! ও আমার উপকার করেছে, যতদিন বেঁচে আছি, ওর উপকার করে যাব।’

তা সেরকো টেবিল থেকে মাংসের ভালো ভালো টুকরো নিয়ে দিয়ে আসে নেকড়ের কাছে। তাকে সে এমন খাওয়াল দাওয়াল যে নেকড়ের খুব ফুর্তি হল, বললে: ‘আমার গান গাইতে ইচ্ছে করছে।’

ভয় পেয়ে গেল সেরকো। বললে, ‘নারে, গান গাইবি না, ফল হবে খারাপ। আমি তোকে বরং আরো ভোদকা দিচ্ছি, শুধু চুপ করে থাক, দোহাই তোর!’

আরো ভোদকা টেনে নেকড়ে বলে: ‘এবার আমি গাইবই।’

তারপর টেবিলের তল থেকে কী তার ডাক!.. চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠল অতিথিরা, কেউ এদিক ছোটে, কেউ ওদিক ছোটে, দেখে নেকড়ে।

ভয় পেয়ে কেউ পালাল, কেউ কেউ আবার নেকড়েকে মারতে যাচ্ছিল। সেরকো তখন ঝাঁপিয়ে পড়ল নেকড়ের ওপর, যেন তার টুটি চেপে ধরছে। কর্তা তখন বললে: ‘নেকড়েকে মেরো না, নইলে সেরকোও মারা পড়বে! নিজেই ওটাকে সে ধোলাই দেবে—হাত দিও না ওর গায়ে!’

নেকড়েকে মাঠে নিয়ে গিয়ে সেরকো

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice