ছাগল আর ভেড়া
এক-যে ছিল বুড়ো আর ঝুড়ি। তাদের ছিল একটা ছাগল আর একটা ভেড়া। ছাগল আর ভেড়ার মধ্যে ভারি ভাব: যেখানে ছাগল, ভেড়াও সেখানে; শবজি ভুঁইয়ে ছাগল ঢুকল বাঁধাকপি খেতে, ভেড়াও; ছাগল গেল বাগানে, ভেড়াও তার পেছু পেছু।
বুড়ো বললে, ‘আহ্,, পারি না গিন্নি—ছাগল, ভেড়াকে খেদাতে হয়, নইলে আমাদের শবজি ভুঁইও থাকবে না, বাগানও থাকবে না! ... এ্যাই, ভাগ তো, তোদের টিকিও যেন আর না দেখি!’
তা ছাগল আর ভেড়া একটা বস্তা বানিয়ে নিয়ে চলে গেল।F
যেতে, যেতে, যেতে দেখে মাঠের মধ্যে পড়ে আছে একটা নেকড়ের মাথা। ভেড়া তো তাগড়াই, কিন্তু সাহস তেমন নেই, আর ছাগল বেশ সাহসী। কিন্তু নেই তেমন একটা তাগদ ৷
‘নে ভেড়া, মাথাটা তুলে নে, তুই তো তাগড়াই।’
‘না বাবা, তুই তুলে নে ছাগল, তুই সাহসী।’
দুজনে মিলেই তুলল মাথাটা, বস্তায় ঢোকাল। আবার যায় তারা, যায়, যায়, দেখে আগুন জ্বলছে।
‘চল, আমরাও যাই ওখানে, রাত কাটাব ওখানেই, নেকড়েয় খাবে না।’ গেল সেখানে, দেখে নেকড়েরা সেখানে জাউ রাঁধছে।
‘কুশল হে, বাহাদুররা!’
‘কুশল, কুশল!.. জাউ সেদ্ধ হোক, ততক্ষণ তোমাদের মাংসটায় কিছু পেট ভরানো যাক।'
ভেড়া তখন ভয় পেয়ে গেল, আর ছাগল তো অনেক আগে থেকেই ভয়ে কাঠ। তবু, ছাগলই বললে: ‘বার কর ভেড়া ভায়া, নেকড়ের মণ্ডুটা!’
মুণ্ডু বার করল ভেড়া।
ছাগল বললে, ‘আরে ওটা নয়। বড়ো সড়ো একটা!’
ভেড়া আবার বার করল সেই একই মণ্ডু।
‘আরে না! সবচেয়ে বড়োটা দে!’
তখন ভয় পেয়ে গেল নেকড়েরাই ; ভাবনা-চিন্তা শুরু, হল, তাড়াতাড়ি পিটটান দিতে পারলে হয়। দেখ কাণ্ড, বাপরে, একটার পর একটা নেকড়ের মুণ্ডু বার করছে!
একটা নেকড়ে শেষে বললে: ‘খাসা একটা দল জুটেছে ভাইসব, জাউও দিব্যি ফুটছে, তবে আরো খানিকটা জল দিতে হয়, কিন্তু জল নেই। যাই জল নিয়ে আসি।’
খানিকটা দূরে যেতেই ঠিক করল: ‘মরো গে তোমরা তোমাদের ভোজ নিয়ে!’ বাস, কেটে পড়ল।
তখন আরেকটা নেকড়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করল কী করে পিটটান দেওয়া যায়।
বললে, ‘বেটা হারামজাদা, গেল আর পাত্তা নেই; ওদিকে জাউয়ে জল ঢালতে হয়। যাই লাঠিপেটা করে নিয়ে আসি ওকে।’
গেল, সেও আর ফিরল না। আর তৃতীয়টি বসে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত বললে: ‘এবার আমিই যাব! সবকটাকে টেনে নিয়ে আসব।'
বাস, পালাল। প্রাণটা যে যায় নি তাতে আনন্দে আর বাঁচে না। ওদিকে ছাগল ভেড়াকে বলে: ‘নে ভায়া, চট্পট! ভাববার-টাববার সময় আর নেই। জাউটা খেয়ে নিয়ে প্রাণ থাকতে থাকতে চল পালাই’
প্রথম নেকড়েটা এই সময় ভেবে-চিন্তে বললে: ‘এ কী, বলো দেখি ভাইসব, ভয় পেলাম কিনা ছাগল আর ভেড়াকে? চল যাই, খেয়ে ফেলি গে ওই হারামজাদা বেটাদের!’
এল ওরা, আর ও-দুটি ততক্ষণে জাউটা সাবাড় করে আগুন নিভিয়ে উঠে বসেছে উঁচু ওকগাছে। বসেই আছে। আর সেই ওকগাছের তলেই বসে নেকড়েরা ভাবনা-চিন্তা করছে কিভাবে ছাগল আর ভেড়াকে ধরা যায়। আর ওপর দিকে তাকাতেই দেখে গাছে বসে আছে ওরা। ছাগল সাহসী—উঠেছে সে একেবারে ডগায়, ভেড়া একটু ভীরু, সে রয়েছে নিচে।
সবচেয়ে ঝাঁকড়া-লোম নেকড়েকে তারা বললে, ‘তুমি আমাদের মধ্যে বড়ো, তুমিই ভেবে ঠিক করো কী করে ওদের ধরা যায়।’
লোমশ নেকড়ে শুয়ে পড়ল গাছের নিচে, ভাবতে লাগল। আর গাছের ডালে বসে ভেড়া কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে কাঁপতে আর পারল না, পড়েই গেল নেকড়েটার ওপর। ছাগল আর দেরি করল না, অমনি চেঁচিয়ে উঠল: ‘দে তো আমায় ওই ঝাঁকড়া-লোমটাকে!’ এই বলে সেও মাথা নিচু করে গাছটা থেকে পড়ে গেল নেকড়েদের ওপর।
পড়ি-মরি ছুটল নেকড়েরা, ধূলোর মেঘ উঠল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments