- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ২২০
ছাগল আর ভেড়া
এক-যে ছিল বুড়ো আর ঝুড়ি। তাদের ছিল একটা ছাগল আর একটা ভেড়া। ছাগল আর ভেড়ার মধ্যে ভারি ভাব: যেখানে ছাগল, ভেড়াও সেখানে; শবজি ভুঁইয়ে ছাগল ঢুকল বাঁধাকপি খেতে, ভেড়াও; ছাগল গেল বাগানে, ভেড়াও তার পেছু পেছু।
বুড়ো বললে, ‘আহ্,, পারি না গিন্নি—ছাগল, ভেড়াকে খেদাতে হয়, নইলে আমাদের শবজি ভুঁইও থাকবে না, বাগানও থাকবে না! ... এ্যাই, ভাগ তো, তোদের টিকিও যেন আর না দেখি!’
তা ছাগল আর ভেড়া একটা বস্তা বানিয়ে নিয়ে চলে গেল।F
যেতে, যেতে, যেতে দেখে মাঠের মধ্যে পড়ে আছে একটা নেকড়ের মাথা। ভেড়া তো তাগড়াই, কিন্তু সাহস তেমন নেই, আর ছাগল বেশ সাহসী। কিন্তু নেই তেমন একটা তাগদ ৷
‘নে ভেড়া, মাথাটা তুলে নে, তুই তো তাগড়াই।’
‘না বাবা, তুই তুলে নে ছাগল, তুই সাহসী।’
দুজনে মিলেই তুলল মাথাটা, বস্তায় ঢোকাল। আবার যায় তারা, যায়, যায়, দেখে আগুন জ্বলছে।
‘চল, আমরাও যাই ওখানে, রাত কাটাব ওখানেই, নেকড়েয় খাবে না।’ গেল সেখানে, দেখে নেকড়েরা সেখানে জাউ রাঁধছে।
‘কুশল হে, বাহাদুররা!’
‘কুশল, কুশল!.. জাউ সেদ্ধ হোক, ততক্ষণ তোমাদের মাংসটায় কিছু পেট ভরানো যাক।'
ভেড়া তখন ভয় পেয়ে গেল, আর ছাগল তো অনেক আগে থেকেই ভয়ে কাঠ। তবু, ছাগলই বললে: ‘বার কর ভেড়া ভায়া, নেকড়ের মণ্ডুটা!’
মুণ্ডু বার করল ভেড়া।
ছাগল বললে, ‘আরে ওটা নয়। বড়ো সড়ো একটা!’
ভেড়া আবার বার করল সেই একই মণ্ডু।
‘আরে না! সবচেয়ে বড়োটা দে!’
তখন ভয় পেয়ে গেল নেকড়েরাই ; ভাবনা-চিন্তা শুরু, হল, তাড়াতাড়ি পিটটান দিতে পারলে হয়। দেখ কাণ্ড, বাপরে, একটার পর একটা নেকড়ের মুণ্ডু বার করছে!
একটা নেকড়ে শেষে বললে: ‘খাসা একটা দল জুটেছে ভাইসব, জাউও দিব্যি ফুটছে, তবে আরো খানিকটা জল দিতে হয়, কিন্তু জল নেই। যাই জল নিয়ে আসি।’
খানিকটা দূরে যেতেই ঠিক করল: ‘মরো গে তোমরা তোমাদের ভোজ নিয়ে!’ বাস, কেটে পড়ল।
তখন আরেকটা নেকড়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করল কী করে পিটটান দেওয়া যায়।
বললে, ‘বেটা হারামজাদা, গেল আর পাত্তা নেই; ওদিকে জাউয়ে জল ঢালতে হয়। যাই লাঠিপেটা করে নিয়ে আসি ওকে।’
গেল, সেও আর ফিরল না। আর তৃতীয়টি বসে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত বললে: ‘এবার আমিই যাব! সবকটাকে টেনে নিয়ে আসব।'
বাস, পালাল। প্রাণটা যে যায় নি তাতে আনন্দে আর বাঁচে না। ওদিকে ছাগল ভেড়াকে বলে: ‘নে ভায়া, চট্পট! ভাববার-টাববার সময় আর নেই। জাউটা খেয়ে নিয়ে প্রাণ থাকতে থাকতে চল পালাই’
প্রথম নেকড়েটা এই সময় ভেবে-চিন্তে বললে: ‘এ কী, বলো দেখি ভাইসব, ভয় পেলাম কিনা ছাগল আর ভেড়াকে? চল যাই, খেয়ে ফেলি গে ওই হারামজাদা বেটাদের!’
এল ওরা, আর ও-দুটি ততক্ষণে জাউটা সাবাড় করে আগুন নিভিয়ে উঠে বসেছে উঁচু ওকগাছে। বসেই আছে। আর সেই ওকগাছের তলেই বসে নেকড়েরা ভাবনা-চিন্তা করছে কিভাবে ছাগল আর ভেড়াকে ধরা যায়। আর ওপর দিকে তাকাতেই দেখে গাছে বসে আছে ওরা। ছাগল সাহসী—উঠেছে সে একেবারে ডগায়, ভেড়া একটু ভীরু, সে রয়েছে নিচে।
সবচেয়ে ঝাঁকড়া-লোম নেকড়েকে তারা বললে, ‘তুমি আমাদের মধ্যে বড়ো, তুমিই ভেবে ঠিক করো কী করে ওদের ধরা যায়।’
লোমশ নেকড়ে শুয়ে পড়ল গাছের নিচে, ভাবতে লাগল। আর গাছের ডালে বসে ভেড়া কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে কাঁপতে আর পারল না, পড়েই গেল নেকড়েটার ওপর। ছাগল আর দেরি করল না, অমনি চেঁচিয়ে উঠল: ‘দে তো আমায় ওই ঝাঁকড়া-লোমটাকে!’ এই বলে সেও মাথা নিচু করে গাছটা থেকে পড়ে গেল নেকড়েদের ওপর।
পড়ি-মরি ছুটল নেকড়েরা, ধূলোর মেঘ উঠল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments