-
লাল গরুটা বুড়ো হয়ে গেছে। দুধও দেয় না, কোনো কাজেও লাগে না। বাড়ির কর্তা নিধিরাম বলল, এটাকে রেখে আর কি হবে? দুচার টাকা যা পাই, তাতেই বিক্রি করে একটা দুধালো গাই কিনে নিয়ে আনাই ভালো। আমরা গরীব মানুষ, আমরা কি আর বাজার থেকে দুধ কিনে খেতে পারি?
নিধিরামের বউ বলল, এমন কথা বলো না গো, অধর্ম হবে। আমার শাশুড়ীর বড় আদরের ছিল গরুটা। বড় লক্ষ্মী আর শান্তস্বভাব, একটু ঢুঁ ঢাঁও মারে না। এরকম গরু হয় না। এতকাল মায়ের মতো আমাদের দুধ খাইয়ে এসেছে, আর এখন ক’টা টাকার লোভে আমরা ওকে কসাইয়ের কাছে বেঁচে দেব?
না না, কসাইয়ের কাছে বেচব কেন?
-
[চার্লস্ ডিকেন্স্ ইংরাজী-সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ঔপন্যাসিক। আমাদের দেশের এক বঙ্কিমচন্দ্রকে এঁর সঙ্গে খানিকটা তুলনা করা যায়, তা ছাড়া আজ অবধি আমাদের দেশে এমন কোনও ঔপন্যাসিক জন্মাননি যাঁকে মনে করে ডিকেন্সের ক্ষমতার কথা বুঝতে পারবে। অন্য কোন দেশেও এতখানি ক্ষমতাশালী ঔপন্যাসিক আর জন্মেছেন কিনা সন্দেহ ৷
ডিকেন্স্-এর উপন্যাসের মধ্যে ডেভিড কপারফীল্ডই শ্রেষ্ঠ, একথা আরও অনেক সমালোচকের সঙ্গে ডিকেন্স্ নিজেও মেনে নিয়েছিলেন। এর সম্বন্ধে আরও একটা কথা বলবার আছে এই যে বইটির প্রথম দিকে ডিকেন্স্-এর নিজের জীবনেরও খানিকটা ছায়া আসে।
ডিকেন্স্-এর বাবা ছিলেন অত্যন্ত উড়নচণ্ডে, তার জন্য সমস্ত বাল্যকাল তাঁর কেটেছিল অতিরিক্ত অর্থকৃচ্ছতার মধ্যে। বাল্যকালেই চাকরীতে ঢুকতে হয়েছিল তাঁকে, যদিও সে চাকুরী
-
একটি মেয়েছেলে গর্ভবতী অবস্থায় পথ হেঁটে যেতে যেতে একদিন পথের কষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়ল। তখনই তাকে তুলে সেই গ্রামের আঁতুরালয়ে নিয়ে যাওয়া হল বটে, কিন্তু মেয়েটিকে আর বাঁচানো গেল না। সেই অবস্থাতেই একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ট হবার পর সে বেচারা মারা গেল।
ছেলেটির কি অবস্থা বুঝে দেখ! নাম নেই, গোত্র নেই, কার ছেলে, কী বৃত্তান্ত, কিছুই জানা নেই; এ অবস্থায় ছেলেটিকে নিয়ে কি করা যায় এই কথা ভেবে ভেবে ত অনাথ আশ্রমের কর্তাদের মাথা গরম হয়ে উঠল। চারিদিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হল যদি তা দেখে কেউ এসে ছেলেটিকে দাবী করে এই ভরসায়, কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। ছেলেটি ওঁদেরই ঘাড়ে চাপল।
তখন
-
মেজো মামার বিয়ে। ছোট মামা আর মেজো মামা তাই এসেছেন দাওয়াত দিতে। বাড়ীর সবাই বিয়ের তিন দিন আগে মামা বাড়ী যাবে। শুধু আমিই যেতে পারব না। কারণ আমার পরীক্ষা। হ্যা, মামার যেদিন বিয়ে ঠিক তার আগের দিনই আমার পরীক্ষা শেষ হবে। মানে সতেরোই ডিসেম্বর মামার বিয়ে, আর ষোলই ডিসেম্বর আমার পরীক্ষা শেষ হবে। সুতরাং তিন দিন আগে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।
মেজো মামা পরদিনই চলে গেলেন। শুধু ছোট মামা রইলেন। তিনি বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে (অবশ্য আমি বাদে) নিয়ে যাবেন।
সেদিন খাওয়ার পর ছোট মামার সাথে গল্প করছিলাম।
আমি বলছিলাম: মেজো মামার বিয়েতে এবার আর যাওয়া হল না।
-
বাঘ বলল, হালুম!
তার মানে? তার মানে আমার খিদে পেয়েছে, আমি খাব।
সেই ডাক শুনে সারা বনের পশু-পাখি চমকে উঠল। ওরে বাপরে বাপ, এক একটা ডাক ছাড়ে আর সারাটা বন যেন কাঁপতে থাকে থর থর করে। পশুরা হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি শুরু করে দিল—পালা, পালা, পালা!
একটা লম্বা ঘুম ঘুমিয়ে নিয়ে সন্ধ্যার পর গা মোড়ামুড়ি দিয়ে উঠে বসেছে বাঘ।
পেটে এখন খিদেয় আগুন জ্বলে উঠেছে। তাই বাঘ বলল,—হালুম! তার মানে আমার খিদে পেয়েছে, আমি খাব।
ঠিক এমনি সময় শেয়ালও বেরিয়েছে খাবারের খোঁজে। পড় তো পড় একে বারে বাঘের মুখোমুখি পড়ে গেল। অবশ্য বাঘ আর শেয়াল মামা-ভাগ্নে! মামা কি আর ভাগনেকে খাবে? কিন্তু
-
প্রাচীন পৃথিবীর সনাতন বিশ্বাস অনুসারে মানুষ ভাবত যে পৃথিবীর সবকিছুই পরিচালিত হয় এক ধরনের অপার্থিব সত্ত্বা দ্বারা। তাদের বলা হয়ে থাকে দেবতা এবং তাদের বাস আকাশে। তারা বিশ্বের প্রতিটি জীবজন্তু, মানুষ—এমনকি প্রেম, ভালোবাসা, যুদ্ধ, সংঘাত ইত্যাদি সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রন করেন। যদি তারা আমাদের ওপর খুশি থাকে, তাহলে আমরা পাই পর্যাপ্ত খাদ্য, পশু ও সম্পদ। আর যদি তারা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমাদের ওপর নেমে আসে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, ভূমিকম্প ইত্যাদি দুর্বিপাক। আর তাই স্তোত্র ও উৎসর্গের বিনিময়ে দেবতাদের তুষ্ট রাখতে সর্বদা নিয়োজিত থাকত যাজক ও পুরোহিতদের বিশাল এক বাহিনী।
কিন্তু আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা
-
প্রথম যখন আগ্রা গিয়েছিলাম তাজমহল দেখতেই গিয়েছিলাম। প্রথম দর্শনের সে বিস্ময়টা এখনও মনে আছে। ট্রেন তখনও আগ্রা স্টেশনে পৌঁছায়নি। একজন সহযাত্রী বলে উঠলেন-ওই যে তাজমহল দেখা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি জানালা দিয়ে মুখ বাড়ালাম। ওই যে—
দূর থেকে দিনের আলোয় তাজমহল দেখে দমে গেলাম। চুনকাম-করা সাধারণ একটা মসজিদের মতো। ওই তাজমহল? তবু নির্নিমেষে চেয়ে রইলাম। হাজার হোক তাজমহল। শা-জাহানের তাজমহল।... অবসন্ন অপরাহ্ণে বন্দী শা-জাহান আগ্রা দুর্গের অলিন্দে বসে এই তাজমহলের দিকেই চেয়ে থাকতেন। মমতাজের বড় সাধের তাজমহল। ...আলমগীর নির্মম ছিলেন না। পিতার ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেননি তিনি...মহাসমারোহে মিছিল চলেছে...সম্রাট্ শাজাহান চলেছেন প্রিয়া-সন্নিধানে! ...আর বিচ্ছেদ সইল না...শবাধার ধীরে ধীরে নামছে ভূগর্ভে...ওই তাজমহলেই মমতাজের ঠিক
-
নানারকমের খুচরো সৌখীন জিনিষ নিয়ে যাদের কারবার সেইসব দোকানকে বলে কিউরিওসিটী শপ্। কিউরিও (curio মানে বিচিত্র—অদ্ভুত সব জিনিস, সেই দোকানে পাওয়া যায়। যা দেখতে আমাদের কৌতুহল হয়, যা দেখে আমাদের বিস্ময়ের সীমা থাকে না, এমনি সব জিনিস! আমাদের দেশেও এরকম দোকান ঢের আছে—হয়ত তোমারা দেখেও থাকবে! পেতলের চীনে বুদ্ধমূর্তি, পুরানো তুর্কি গালিচা, মিশরের তৈরী হয়ত পাথরের খেলনা—নানাবর্ণের, নানা দেশের বিচিত্র সব জিনিস, যাদের পয়সা আছে তারা সখ করে কেনে, যাদের যথেষ্ট নেই তারা চেয়ে থাকে, কিম্বা দর করে।
অনেকদিন আগে বিলেতে এমনি একটা দোকান ছিল। তার বৃদ্ধ মালিক আর তাঁর নাতনী নেলি ঐ দোকানেরই ওপর তলায় বাস করতেন। বাড়ীটা নিজের—দোকানেরও
-
“সেদিন এ বঙ্গপ্রান্তে পণ্য বিপণীর এক ধারে
নিঃশব্দচরণ।
আনিল বণিকলক্ষ্মী সুরঙ্গ পথের অন্ধকারে
রাজসিংহাসন ॥
বঙ্গ তারে আপনার গঙ্গোদকে অভিষিক্ত করি নিল চুপে চুপে।
বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী
রাজদণ্ডরূপে।।”
—রবীন্দ্রনাথ
ইংরেজরা এসেছিল এদেশে বাণিজ্য করতে, ফরাসীরাও তাই। কিন্তু দৈবাৎ ফরাসী অধিনায়ক ডুপ্লের মাথায় গেল যে এই ষড়যন্ত্রপ্রিয়, অকর্মণ্য, কলহপরায়ণ অসংখ্য রাজা ও নবাবের দেশে একটু শক্তির খেলা দেখালে লাভ বই লোকসান নেই। ইউরোপীয় সৈন্যের যে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, তা সেদিন ভারতীয় সৈন্যের ছিল না, অস্ত্রশস্ত্রও খুব আধুনিক ছিল বলে মনে হয় না। সুতরাং শীঘ্রই এই দুটি দেশের বণিকরা ভারতের ইতিহাসে ভাগ্যনিয়ন্ত্রা সেজে বসলেন। কর্ণাটকের যুদ্ধে প্রথমে ফরাসী ও পরে
-
অতি প্রাচীন কাল থেকে পুরুষানুক্রমে লোকের মুখে মুখে চলে এসেছে নানা ধরনের লৌকিক কাহিনী, মায়াময় এক জগৎ আর তার নায়কদের নিয়ে গল্প, তাতে ঝলক দিয়েছে রসবোধ, বুদ্ধির চমক, জনসাধারণের প্রজ্ঞা। বহুযুগ ধরে কথন ছিল তার অবলম্বন, কথক এককালে তা নিজে শুনে আবার অন্যদের শোনাত। এই ‘কথন’ থেকেই এগুলির নাম হয়েছে কাহিনী...
অজস্র ইউক্রেনের লৌকিক কাহিনী, তাতে যত নায়ক আর ঘটনার ভিড়, তার কোনোটা খুবই অতীত কালের, কোনোটা আবার তত পুরনো নয়। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে এ বইয়ের পাত্রপাত্রী, সাধারণ লোকের মধ্যেকার সৎসাহসী সব মানুষদের। আনন্দ দেবে মজার মজার সব কান্ড, পশু-পাখির জ্বলজ্বলে চরিত্র। রূপকথার কাব্যমণ্ডিত নানা ছবিও দেখা যাবে,
-
গল্পে গল্পে বিজ্ঞান: বায়োস্কোপ পর্ব
সুবীর বৈরাগী
দিশি ও দেয়ার কথা মনে আছে তো? ভুললে চলবে না। আজও তাদের কথাই বলবো। ওরা আজ সক্কাল সকাল বেরিয়েছে। বাসায় তাদের বাবু ভাইয়া একা-একা ঘুমুচ্ছে আর ভেলুমাও কখনো কাজ করছে কখনোবা টিভি দেখছে।
বিকেলের দিকে ওরা ফিরে এল। আর এসেই হামলে পড়ল ওদের বাবু ভাইয়ার উপর। আসলে ওদের ছাড়া সারাটাদিন তারও ভালো লাগছিল না, তাই সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ নেড়ে দেখছিল সে। ওরা এসে মাথা দুলিয়ে বলতে লাগল—ভাইয়া, জানো আজকে আমরা সিনেমা দেখেছি?
—তাই নাকি? কী সিনেমা দেখেছিস?
দুজনে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল—কুংফু পান্ডা।
—আচ্ছা। বেশ ভালো।
দেয়া বলল—এতদিন শুধু ঘরে বসে ছোট ছোট
-
মানুষ যেমন, গুগলীও তেমনি হাঁটা-পথে চলে, কাজেই কৈলাস যাবার হাঁটা-পথের খবরই গুগলী রাখত। কিন্তু মাটির উপর দিয়ে হাঁটা-পথ যেমন, তেমনি আকাশের উপর দিয়ে জলের নিচে দিয়ে সব পথ আছে, সেই রাস্তায় পাখিরা মাছেরা দূর-দূর দেশে যাতায়াত করে। মানুষ, গরু, গুগলী, শামুক—এরা সব পাহাড়-জঙ্গল ভেঙে, নদী পেরিয়ে চলে, কাজেই কোথাও যেতে এদের অনেক দিন লাগে। মাছেরা এঁকে-বেঁকে এ-নদী সে-নদী করে যায়, তাদের ডাঙায় উঠতে হয় না, কাজেই তারা আরো অল্পদিনে ঠিকানায় পৌঁছয়। আর পাখিরা নদী-ডাঙা দুয়েরই উপর দিয়ে সহজে উড়ে চলে—সব চেয়ে আগে চলে তারা! কিন্তু তাই বলে পাখিরাও যে পথের কষ্ট একেবারেই পায় না, এমন নয়। আকাশের নানাদিকে নানা-রকম নরম-গরম
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- খান মোহাম্মদ ফারাবী (১২)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (৫)
- গোলাম মোরশেদ খান (৭)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৫৩)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ফরহাদ খুররম (১২)
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (৮)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- লীলা মজুমদার (১)
- শিবরাম চক্রবর্তী (১)
- সত্যেন সেন (১৯)
- সুবীর বৈরাগী (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.