অদ্ভুত নাম

একজন লোকের তিনটি ছেলে ছিল, প্রথমপক্ষের দুটি ছেলে আর দ্বিতীয়পক্ষের একটি। দ্বিতীয়পক্ষের ছেলেটিই সবার ছোট, নাম তার আসপান। যদিও আসপান বুদ্ধিমান, দয়ালু আর নরম স্বভাবের ছিল, কিন্তু তার বড় ভাইয়েরা ছোটবেলা থেকেই সহ্য করতে পারত না তাকে। তাদের অত্যাচার, চড়-চাপড়, বিদ্রূপ অনেক সইতে হয়েছে ছোট ভাইকে, লুকিয়ে কেঁদেছে সে, কিন্তু বাবাকে কখনও নালিশ করে নি, ভাইদের ক্ষতি করতে সে কখনই চায় নি।

দিন যায়, মাস যায়, ছেলেদের বয়স বাড়ে, বাবাও ক্রমশঃ বৃদ্ধ হতে থাকে। বাবার মৃত্যুর পরে বাবা যা রেখে গিয়েছিল তা বড় দুই ভাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল আর ছোট ভাইকে দিল কেবল একটা কালো ইয়ুরতা[☆]আর কয়েকটা ভেড়া।

আসপান ভাইদের সঙ্গে তর্ক-বিবাদ করতে চাইল না।

‘দিন চলে যাবে আমার’ মনে মনে ভাবল সে, ‘সুস্থ বিবেকবুদ্ধির দাম ধনসম্পদের থেকেও অনেক বেশী…’

কিছুদিন বাদে একটি গরীব মেয়েকে মনে ধরল আসপানের, তাকে বিয়ে করে সুখেস্বচ্ছন্দে থাকতে লাগল।

বছর কাটল। একদিন বড় ভাইয়েরা ছোট ভাইকে ডেকে বলল: ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে যে রাজধানীতে ষাঁড়ের দাম খুব বেড়ে গিয়েছে। আমাদের ষাঁড়গুলোকে সেখানে নিয়ে গিয়ে বিক্রী করব আমরা। ষাঁড়গুলোকে নিয়ে যেতে সাহায্য কর তুই আমাদের। যদি বিক্রীপাটা ভাল হয়, তোকে আমরা একটা ঘোড়া দেব তাহলে।’

‘তোমাদের এই প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ ভাইয়েরা,’ বলল আসপান, ‘কিন্তু আমি কোন পারিশ্রমিক না পেলেও তোমাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

‘খুব ভাল কথা,’ চোখ টেপাটেপি করল বড় দুই ভাই নিজেদের মধ্যে। ‘তুই পারিশ্রমিক নিতে চাচ্ছিস না তো আরো ভাল কথা। বাবা তো সবসময়ই তোর দয়ালু হৃদয়ের প্রশংসা করতেন। তৈরী হয়ে নে। ভোরবেলাতেই রওনা দেব।’

ভোরবেলায় আসপান স্ত্রীর কাছে বিদায় নিল। স্ত্রী তাকে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেলল, বলল:

‘যাত্রা শুভ হোক তোমার! ভালয় ভালয় ফিরে এস। যখন ফিরে আসবে তোমার অপেক্ষায় দোলনায় শহয়ে থাকবে আমাদের প্রথম সন্তান।’

পথে ষাঁড়গুলোকে নিয়ে প্রচণ্ড খাটনি হল আসপানের, ভাইয়েরা তো সেইজন্যই তাকে সঙ্গে নিয়েছে যাতে নিজেদের খাটনি আর ঝামেলা কম হয়। কিন্তু যখন তার স্ত্রীর কথাগুলো মনে আসছিল তাদের সন্তান সম্বন্ধে, সমস্ত ক্লান্তি তার দূর হয়ে যাচ্ছিল সঙ্গে সঙ্গে, মনে হচ্ছিল সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী লোক।

রাজধানীতে এসে পৌঁছাল তারা। বাজারের কাছে একটা খোঁয়াড় ভাড়া করে সেখানে ষাঁড়গুলোকে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজেরাও সেখানে থাকার সব বন্দোবস্ত করতে লাগল। যেই তাদের ঘুমোতে যাবার ব্যবস্থা সব করা শেষ হয়েছে, ঘোড়ার খুরের আওয়াজ শোনা গেল, খানের দেহরক্ষীদল এসে পৌঁছল খোঁয়াড়ে।

তাদের দলনেতা বলল, ‘এই ব্যাপারীরা, তোমাদের ষাঁড়গুলোকে এখানে রেখে আমাদের সঙ্গে চল। খান তোমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন।’

বড় ভাই দু’জনের ভয়ে হাতপা জমে গেল, ছোট ভাই তাদের বুঝাল: ‘আমরা তো খারাপ কাজ কিছ, করি নি। খান কিছু বলবেন না আমাদের। তাঁকে কেবল যথাযোগ্য সম্মান দেখাবে আর তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেবে বুদ্ধি করে।’

যখন তাদের খানের কাছে নিয়ে যাওয়া হল, তিনি বেশ সহৃদয়ভাবেই তাদের গ্রহণ করলেন কোনরকম রক্ষতা ছাড়াই বললেন: ‘প্রতি ঋতুর আছে নিজস্ব ফল, প্রতি এলাকায় নিজস্ব রীতি। আমাদের এখানের রীতি হল: যে কোনো ব্যাপারীই যে কোনো জিনিস নিয়েই সওদা করতে আসক না কেন তাকে খানের সামনে দাঁড়িয়ে খানের বলা ধাঁধার উত্তর দিতে হয়। যে ঠিক উত্তর দেয় সে পরস্কার পায় আর এখানে সওদা চালানোর অনুমতি পায়। আর যে ঠিক উত্তর দিতে পারে না তাকে শহর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার জন্য তৈরী হও তোমরা।’

‘হয়ে গেল আমাদের!’ ফিসফিস করে বলল বড় দুই ভাই।

‘আমার ওপর নির্ভর করতে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice