-
মা একদিন বাবাকে বললেন, ‘হ্যাঁগো, মৌমাছি পাললে হয় না? পাড়ার সবাই পালে। ঘরের মধু খায়।’
‘ঠিক আছে, পালা যাবে’, বললেন বাবা।
রবিবার বাজার থেকে উনি দুটি মৌমাছি পালনের খাঁচা নিয়ে এলেন।
প্রায়ই দেখতাম, বাবা এসে খাঁচার ডালাটা খুলতেন, চাকটা বার করে আনতেন সেখান থেকে, তারপর মা সেখান থেকে ঘন মধু ঢালতেন সোনালি রঙের। প্রথম প্রথম বাবা ডালা খোলার আগে মাথায় কাপড় জড়িয়ে নিতেন। পরে খালি মাথাতেই খুলতেন। মৌমাছির কামড়ের কথা কখনো বলেননি।
একদিন মা-বাবা গেছেন কী একটা বিয়ের ভোজে। একা একা আমার বিছছিরি লাগছিল, ডেকে আনলাম আহমেদকে। মৌমাছির আলাপটা ঠিক কী থেকে উঠেছিল মনে নেই। তবে আমি বড়াই করে বলেছিলাম,
-
বৃষ্টি চলছিল অনেকক্ষণ।
কালো পিচের ওপর আলোর হলদে ছোপগুলো যেন কড়াইয়ের ওপর ডিমের কুসুম। গাছপালা, ঘরবাড়ি, রেলিঙ, খবরের কাগজের কিওস্ক আর ছোট্ট স্কোয়ারটার গেটের সামনে প্লাস্টার অব প্যারিসের হর্ণ বাজিয়ে মূর্তিগুলো এমন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আগেই ভিজে একেবারে জবজবে হয়ে গেছে তারা, এখন আর কিছুতেই এসে যায় না। তাই সবাই নিজের নিজের কাজ করে চলল, ‘শাখা দুলিয়ে চলল গাছেরা, মস্কো থেকে আসা সার্কাসের ভেজা পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল রেলিঙ, বাড়িগুলো তাদের সদর দরজা খোলে আর বন্ধ করে, নানা রঙের আলোয় ঝকমল করে চলল জানলাগুলো, আর হর্ণ বাজিয়েরা শিঙায় মুখ দিয়ে তৈরি হয়েই থাকল, দরকার পড়লে ভোঁ দেবে।
শুধু পত্রিকার
-
মেজো মামার বিয়ে। ছোট মামা আর মেজো মামা তাই এসেছেন দাওয়াত দিতে। বাড়ীর সবাই বিয়ের তিন দিন আগে মামা বাড়ী যাবে। শুধু আমিই যেতে পারব না। কারণ আমার পরীক্ষা। হ্যা, মামার যেদিন বিয়ে ঠিক তার আগের দিনই আমার পরীক্ষা শেষ হবে। মানে সতেরোই ডিসেম্বর মামার বিয়ে, আর ষোলই ডিসেম্বর আমার পরীক্ষা শেষ হবে। সুতরাং তিন দিন আগে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।
মেজো মামা পরদিনই চলে গেলেন। শুধু ছোট মামা রইলেন। তিনি বিয়ের তিন দিন আগে সবাইকে (অবশ্য আমি বাদে) নিয়ে যাবেন।
সেদিন খাওয়ার পর ছোট মামার সাথে গল্প করছিলাম।
আমি বলছিলাম: মেজো মামার বিয়েতে এবার আর যাওয়া হল না।
-
আচ্ছা, তোমাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে কীভাবে, কতদিন আগে পৃথিবীর বুকে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে, তাহলে তোমরা কি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? আমি জানি, তোমাদের মধ্যে অনেকেই এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে যাবে। অবশ্য এতে তোমাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, কারণ প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমাদের বড়দের পক্ষেই দেওয়া খুব কঠিন। আমাদের বিজ্ঞানী-ইতিহাসবিদেরা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে সবাই একমত হতে পারেন না।
এর কারণ কী, তা জানো? এর কারন হচ্ছে যে মানুষের জৈবিক বিবর্তন ও সভ্যতা বিকাশের ইতিহাস এখনও ঢাকা রয়েছে ঘন কুয়াশার অন্তরালে। পৃথিবীর বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন যুগে বসবাসকারী মানুষের কাছাকাছি আকৃতির প্রাণীর নানা
-
শেয়ালনী, ও শেয়ালনী, আঃ হা, কোথায় গেলে তুমি? শেয়াল গর্তে ঢুকেই হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি শুরু করে দিয়েছে।
শেয়ালনী তার ছানাগুলোকে আদর করছিল। শেয়ালের এত হাঁকডাক শুনে আর বসে থাকতে পারল না। ওদের কোনো রকমে ঠেলে-ঠুলে সরিয়ে দিয়ে ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে ছুটে এলো। কিন্তু সব চেয়ে ছোটটা হাড়ে হাড়ে বজ্জাত, নাছোড়বান্দা। সে মায়ের ঘাড়ে শক্ত করে কামড়ে ধরে ঝুলতে ঝুলতে আর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে চলে এলো।
মা বাচ্চাটার দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে বলল, দেখেছ, পাজির কাণ্ডটা।
শেয়াল বলল, ব্যাটা এক নম্বরের বদমাইশ হবে।
হ্যাঁ, বাপের মতোই হবে। কিন্তু আমাকে অমন করে ডাকছিলে কেন গো তুমি? হয়েছে কি? শেয়ালনী জিগ্যেস করল।
মা-বাপের মন! বাচ্চাটাকে
-
পিঠোপিঠি দুটি ভাই। লোকে বলে রাম আর লক্ষ্মণ। আজকালকার দিনে এমন নাকি দেখা যায় না। যেখানে যাবে দুটিতে এক সঙ্গে যাবে, যাই করবে দুজনে এক সঙ্গে মিলে করবে। একজনকে ছেড়ে আর একজন একদণ্ড থাকতে পারে না। যে দেখে সেই বলে, নাঃ, সেই রাম-লক্ষ্মণই যেন ফিরে এসেছে।
ঘরে ঘরেই ওদের নিয়ে কথা। সবাই নিজের ছেলেমেয়েদের কাছে ওদের তুলনা দিয়ে বলে, দেখ তো, রাম-লক্ষ্মণ, কি সুন্দর দুটি ভাই। আর তোরা এমন? ওদের বাপ মা’র দেওয়া নামটা পেছনে পড়ে রইল। লোকের মুখে মুখে রাম-লক্ষ্মণ নাম ক্রমে চালু হয়ে গেল। ওদেরও শুনে শুনে অভ্যাস হয়ে গেছে। রাম-লক্ষ্মণ বলে ডাকলে ওরা সাড়া দেয়।
কিন্তু গ্রামের
-
এক বাঘ। বাঘ কি বাঘ, প্রকাণ্ড বড় বাঘ। এত বড় বাঘ কেউ কোনোদিন দেখে নি। তার চোখ দুটো, ও বাবা! তাঁর দাঁতগুলো, ওরে মা! দেখলে পরে জন্তু জানোয়ার ভয়ে আর কেউ নড়তে চড়তে পারে না। আর তখন বাঘ তাদের ঘাড় ভেঙ্গে খায়।
বনের যত প্রাণী সবাই তার ভয়ে থর থর করে কাঁপে। কোনো সংসারে সুখ নেই। বাচ্চা হরিণের মা-টা ডোবার ধারে জল খেতে গিয়েছিল। খুব তেষ্টা পেয়েছিল কিনা, চারদিকে তাকাবার মতো আর ফুরসত ছিল না। গলাটাকে লম্বা করে দিয়ে চক চক করে জল খাচ্ছিল। ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত্রি, আড়ালে আড়ালে কত কিছু থাকে, সব কিছু তো দেখা যায় না। সে কি
-
কুকুর থাকে ঘরের বাইরে। তাকে কেউ ঘরে ঢুকতে দেয় না। অবশ্য বিলেতী কুকুরদের বেলা অন্য ব্যাপার। তাদের সঙ্গে কথা কি। ভুলো একদম দেশী কুকুর, একেবারেই আসল দেশী, একটু ভেজাল নেই। তার বারো বছরের মনিব নীলু তাকে কোথা থেকে জোগাড় করে নিয়ে এসেছিল, ভুলো এখন আর সে কথা মনে করতে পারে না। সেই থেকে নীলুই তাকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছে।
নীলুর মতো এমন মানুষ সারা পৃথিবী খুঁজলে মিলবে না, একথা ভুলোর ভালো করেই জানা আছে। সেই তো রোজ তাকে নিজের হাতে খেতে দেয়। মাঝে মাঝে আবার স্নান করিয়ে দেয়। দেশী কুকুরদের অবশ্য স্নান করতে নেই। কিন্তু নীলুকে সে কথা
-
ধোপা আর নাপিত। দুই বন্ধু চলল বাণিজ্য করতে। বাণিজ্য করে সওদাগরেরা, ধোপা-নাপিত বাণিজ্যের কি জানে? এমন কথা কেউ জন্মেও শোনেনি। যে শোনে হাসে। কিন্তু যেই যত হাসুক, কেউ ওদের ঠেকাতে পারল না। ওরা বাণিজ্য করবেই।
আর বাণিজ্য না করে কি করবেই বা বলো। ধোপার হাতে জোর বেশী, সে যে কাপড় ধরে আছাড় মারে, সেই কাপড় ছিঁড়ে যায়। নাপিতের ক্ষুরে তেজ বেশী, যে গালে টান মারে সেই গালেই রক্তারক্তি কাণ্ড। এইভাবে দিন যায়। কিন্তু কদিন এইভাবে চলে? গ্রামের লোকের প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। কত কাপড় খোয়ানো যায়, আর কত রক্ত ঝরানো যায়! একদিন গ্রামের লোক সবাই একত্র হয়ে তাদের জানিয়ে দিল,
-
এর আগের গল্পগুলোতে তোমরা জানতে পেরেছ যে বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে এবং সে সময়টি ছিল যিশুখ্রিস্ট জন্মের কয়েক শতাব্দী আগে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা বাধা পায় খ্রিস্ট জন্মের কয়েকটি শতাব্দী পর—আর সে বাধার মূল কারণটি কিন্তু তারই প্রচারিত নতুন ধর্ম-খ্রিস্ট ধর্ম। কীভাবে এ বিষয়টি ঘটলো, সেটাই এখন তোমাদের সংক্ষেপে বলছি। আর ধর্মের সে বাধাটি জয় করে তার হাজার বছর পর বিজ্ঞান আবার আমাদের ফিরে এলো—সে গল্পটিই হচ্ছে রেনেসাঁ বা নবজাগরনের গল্প। তাহলে এসো, সে গল্পটিই এখন কাছে শোনা যাক।
ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্মের উত্থান শুরু হয় চতুর্থ শতকে, যখন রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন নিজে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন
-
বহুদিন আগে ছিল এক চাষী। খুব ইচ্ছা তার বড়লোক হবার। তাই সৎপরিশ্রমে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটে সে জমাল তিনশ’ সোনার মোহর। একটা কৌটোর মধ্যে সে রেখে দিয়েছে সেগুলোকে, প্রতিদিন সেগুলোকে ঢেলে গোনে একবার করে।
একদিন সে এমনি গুনছিল যখন তখন বাড়ীর ফটকের কাছে শুনতে পেল বন্ধুর গলা। ভয় হল তার যে বন্ধু জেনে ফেলবে তার এই সম্পত্তির কথা, তাই তাড়াতাড়ি সেগুলোকে ভয়ে রাখল একটা কলসের মধ্যে, তারপর গেল বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে। বন্ধ বলল: ‘ওই বাড়ীর প্রতিবেশী তোকে আর আমাকে যেতে বলেছে। চল যাই।’
চলল তারা দু’জনে। যাক তারা, আমরা এদিকে দেখি চাষীর বাড়ীতে কি হল। তার বউ কলসটা
-
এক ছিল জেলে। একদিন সে নদীতীরে এসে ছিপ ফেলে একটা মাছ ধরল। মাছটা কিন্তু যে সে মাছ নয়—সে হল গুলেদোর, সারা শরীর লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত ফুলে ঢাকা; পৃথিবীতে তার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই। খুশী হযে জেলে বঁড়শী থেকে মাছটা খুলে নিয়ে দেখতে লাগল সে তাকে মুগ্ধ হয়ে, হঠাৎ মাছটা তার হাত ফসবে পালিয়ে গেল জলের মধ্যে।
সেই থেকে জেলের মন থেকে সুখ আনন্দ বিদায় নিল। বাড়ি ছেড়ে চলে গেল সে নদীর ধারে, সেখানেই একটা কুটির তৈরী করে থাকতে লাগল; সারাদিনরাত নদীতে ছিপ ফেলে বসে থাকে। কিন্তু গুলেদোর মাছ আর পড়ে না তার ছিপে কিছুতেই। তেমনি করে নদীর ধারেই
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- খান মোহাম্মদ ফারাবী (১২)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (৫)
- গোলাম মোরশেদ খান (৭)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৫৩)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ফরহাদ খুররম (১২)
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (৮)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- লীলা মজুমদার (১)
- শিবরাম চক্রবর্তী (১)
- সত্যেন সেন (১৯)
- সুবীর বৈরাগী (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.