- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
ভুলো আর রঙ্গী
কুকুর থাকে ঘরের বাইরে। তাকে কেউ ঘরে ঢুকতে দেয় না। অবশ্য বিলেতী কুকুরদের বেলা অন্য ব্যাপার। তাদের সঙ্গে কথা কি। ভুলো একদম দেশী কুকুর, একেবারেই আসল দেশী, একটু ভেজাল নেই। তার বারো বছরের মনিব নীলু তাকে কোথা থেকে জোগাড় করে নিয়ে এসেছিল, ভুলো এখন আর সে কথা মনে করতে পারে না। সেই থেকে নীলুই তাকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছে।
নীলুর মতো এমন মানুষ সারা পৃথিবী খুঁজলে মিলবে না, একথা ভুলোর ভালো করেই জানা আছে। সেই তো রোজ তাকে নিজের হাতে খেতে দেয়। মাঝে মাঝে আবার স্নান করিয়ে দেয়। দেশী কুকুরদের অবশ্য স্নান করতে নেই। কিন্তু নীলুকে সে কথা কিছুতেই বোঝানো যাবে না। নীলুর ওই একটি মাত্র দোষ। তা একটু আধটু দোষ মানুষ মাত্রেরই থাকে। বাইরের ঘরে বারান্দাটার এক কোণে একরাশ শুকনো পাতা বিছিয়ে তার উপর একটা পুরু বস্তা পেতে দিয়েছে নীলু। গদীর মতো নরম। তার উপর শুয়ে ঘুমোতে কি আরাম! ঘরের মধ্যে নাই বা ঢুকতে পারল সে, কি হয়েছে তাতে?
কিন্তু অসহ্য লাগে তখন, যখন ওই রঙ্গী বেড়ালটা ওর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে। ভাবটা এই, দেখ দেখি, আমি কেমন আছি। দিদিমণিদের কাছে ‘না’ পেয়ে পেয়ে ওর পায়া বেড়ে গেছে। শুধু কি তাই? শুধু যদি হাসতই, ভুলো না হয় চুপ করেই সহ্য করে যেত, দেখি-না দেখি না করেই থাকত। কিন্তু মাঝে মাঝে চটাং চটাং কথা বলে যে, তখন সারা গায়ে আগুন জ্বলতে থাকে।
একদিন কিছুর মধ্যে কিছু না, হঠাৎ বলে বসল, এই ভুলো, তুই আমাদের খাওয়ার সময় চৌকাঠের সামনে নোলাটা বের করে বসে থাকিস কেন রে? খাওয়ার সময় অমন করে দৃষ্টি দিলে পেট ফাঁপবে না? রাগে ভুলোর সারা গা রি রি করে উঠল। হতচ্ছাড়ী বলে কি? সে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলে ওঠে, থাম তুই ফেচকিমুখী, তোর কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। আর একটা কথা বলবি তো তোর ওই মুখটা দেয়ালের গায়ে ঘষে একদম পালিশ করে দেব। রঙ্গী কথা শুনে পিঠ ফুলিয়ে ওঠে, বলে ওঁ-ও-ও, এই তো বললাম কথা। আয় না দেখি, দেখি কেমন তোর মুরোদ। কিন্তু যত রাগই হোক না কেন, সত্য সত্যই ভুলো তো আর ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে না। তখন মনটা বড়ই খারাপ হয়ে যায়।
কিন্তু যে যাই বলুক না কেন, রান্নাঘরের চৌকাঠটা ঘেঁষে দাঁড়াতেই হবে তাকে। এ না করে পারে না। এ ঘর থেকেই তো নীলু তার জন্য ভাত নিয়ে এই দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসবে। সে সময় ওখানে না দাঁড়িয়ে থাকলে চলে? তা ছাড়া, নীলু স্কুলে যাওয়ার পর ক্রমে ক্রমে বাড়ির আর সবাই খায়। তখন কেউ কেউ কখনো সখনো তার কথা মনে করে দু-এক মুঠো নিয়ে আসে। তখন ভুলো লেজ নাড়তে নাড়তে তার পেছন পেছন যায়। কে কোনোদিন দেবে না দেবে, তার তো বাধা ধরা নিয়ম নেই, তাই দুপুর বেলায় খাওয়ার সময়টাকে রোজই তাকে ওই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে হাজিরা দিতে হয়। কপালে থাকলে জোটে, না থাকলে জোটে না।
আর একদিন হয়েছে কি, খাবারের দিকে চেয়ে চেয়ে কেমন মনের ভুলে মাথাটা আর সামনের পা দুটো চৌকাঠ ডিঙ্গিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সব সময় কি অত খেয়াল থাকে? কারুর কারুর নজরে পড়ে নি, কিন্তু রঙ্গীটার সব কিছুতেই ফোঁপরদালালি, সে চোখ পাকিয়ে বলে উঠল, এই ভুলো, একেবারে যে ঘরের মধ্যেই এসে পড়েছিস। বড় বাড় বেড়েছে তো। গেলি?
কাজটা-যে বে-আইনী হয়েছে, এ বোধ ভুলোর ছিল। কিন্তু তাই বলে রঙ্গীর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments