- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২৬৭
খাটিয়ে চাষী
বহুদিন আগে ছিল এক চাষী। খুব ইচ্ছা তার বড়লোক হবার। তাই সৎপরিশ্রমে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটে সে জমাল তিনশ’ সোনার মোহর। একটা কৌটোর মধ্যে সে রেখে দিয়েছে সেগুলোকে, প্রতিদিন সেগুলোকে ঢেলে গোনে একবার করে।
একদিন সে এমনি গুনছিল যখন তখন বাড়ীর ফটকের কাছে শুনতে পেল বন্ধুর গলা। ভয় হল তার যে বন্ধু জেনে ফেলবে তার এই সম্পত্তির কথা, তাই তাড়াতাড়ি সেগুলোকে ভয়ে রাখল একটা কলসের মধ্যে, তারপর গেল বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে। বন্ধ বলল: ‘ওই বাড়ীর প্রতিবেশী তোকে আর আমাকে যেতে বলেছে। চল যাই।’
চলল তারা দু’জনে। যাক তারা, আমরা এদিকে দেখি চাষীর বাড়ীতে কি হল। তার বউ কলসটা নিয়ে জল আনতে চলল। কিন্তু নদীর কাছে অনেক লোক থাকায় সে জল নিতে পারল না, আর একজন লোক নিতে যাচ্ছিল দেখে তাকে বলল জল এনে দিতে। লোকটা তার হাত থেকে কলসটা নিয়ে অবাক হল সেটা ভীষণ ভারী বলে। কলসের ভিতরে তাকিয়ে দেখে সোনার মোহর তার ভিতরে। সেগুলোকে নিজের কলসের ভিতর ঢেলে নিয়ে ফাঁকা কলসে জল ভরে দিল চাষীর বউয়ের হাতে। তারপর লোকটা বাজারে গিয়ে দশ মোহর দিয়ে একটা মোষ কিনল আর বাকী দুশ’ নব্বই মোহর সঙ্গে নিয়ে বাড়ী চলল। পথে যেতে যেতে সে ভাবল: ‘যদি এখন ডাকাত পড়ে আমার ওপর তো লুঠে নেবে মোহরগুলো। মোষটাকে একটা লুকান যায়গায় নিয়ে গিয়ে মোহরগুলো ওকে গিলতে দেব আর বাড়ীতে ওটাকে কেটে মোহর বার করে নেব।’
মোষটাকে একপাশে সবার চোখের আড়ালে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে মোহরগুলো গিলতে বাধ্য করল, তারপর নিশ্চিন্তমনে বাড়ী চলল। পথে দেখা হল তার ছেলের সঙ্গে। ছেলে জিজ্ঞাসা করল, ‘বাড়ীর জন্য যা যা দরকার সব কিনেছ তো, বাবা?’
‘না তো কিনি নি।’ বলে বাবা।
ছেলের কাছে মোষটা দিয়ে সে ফিরে চলল বাজারে আর ছেলে মোষটা নিয়ে চলল বাড়ীতে। এবার বলা যাক মোহরের মালিকের কথা। বন্ধুর বাড়ীতে গিয়ে আমোদ আহ্লাদে সে খুব মেতে গেল। হঠাৎ এক সময় তার মনে পড়ল যে মোহরগুলো সে ঢেলে দিয়েছিল জলের কলসের মধ্যে, খুব দুশ্চিন্তায় পড়ল সে, কিন্তু তারপর ভাবল বউ হয়ত লুকিয়ে রেখেছে মোহরগুলো। কিছুক্ষণ পরে সে আর তার বন্ধু বাড়ীর দিকে চলল। তারা দেখে একটা ছেলে মোষ নিয়ে যাচ্ছে। চাষী তার বন্ধুকে বলল, ‘ভাই রে, কবে থেকে ভাবছি এমনি একটা মোটাসোটা মোষ কিনে কেটে গরীব মানুষের মধ্যে বিলি করব মাংস।’
ছেলেটার কাছে এসে তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় মোষটা কিনলি রে, বাছা?’
‘বাজারে।’
‘কত দিয়ে?’
‘দশ মোহরে।’
‘আরও বেশী যদি দিই তোকে তো বেচে দিবি ওটা আমাদের?’
‘দেব।’
অনেকক্ষণ দরাদরি করে শেষে বিশ মোহরে রফা হল। দাম মিটিয়ে দিয়ে মোষটাকে নিয়ে বাড়ী চলল চাষী।
এবার শোন সেই ছেলেটির বাবার কথা যে মোষকে মোহর গিলিয়ে, ছেলের হাতে তাকে বাড়ীতে নিয়ে যাবার ভার দিয়ে বাজারে ফিরে গিয়েছিল। বাজারে গিয়ে যা যা দরকার ছিল সব কিনে বাড়ীতে ফিরে এসে দেখে মোষ নেই। ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল: ‘হ্যাঁ রে, মোষটা কই?’
‘বাবা তুমি ওটা দশ মোহরে কিনেছিলে আমি বিশ মোহরে বেচে দিয়েছি।’
একথা শুনেই তো তার চীৎকার করে উঠল, দেয়ালে মাথা ঠুকতে লাগল, হা-হুতাশ করতে লাগল, কিন্তু বলার কিছুই নেই। থাক ওর কথা, এবার দেখা যায় চাষী যে মোষ কিনে বাড়ীতে নিয়ে গেল তার কি হল। বন্ধুকে নিয়ে বাড়ীতে এল সে। বন্ধুকে বাইরে উঠোনে বসিযে ঘরে ঢুকে কলসের মধ্যে তাকাল, কিন্তু কলসের মধ্যে মোহর নেই। চিৎকার করে উঠল সে, ‘বউ রে,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments