-
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাস। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা মাত্রই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। প্রায় দুইশ বছরের লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে এবং ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলেও ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। এই প্রভাব সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও চিন্তার গভীরে সক্রিয় রয়েছে—যা সমকালীন তাত্ত্বিক পরিভাষায় কলোনিয়ালিটি (Coloniality) বা ঔপনিবেশিকতা নামে পরিচিত। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কলোনিয়ালিটিকে বোঝা যায় একটি ঐতিহাসিক উৎপাদন সম্পর্ক, শ্রেণি শোষণ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিক রূপ হিসেবে। ঔপনিবেশিক
-
অবশ্য ইতিমধ্যেই আমরা ইসলামী দুনিয়ার কথ। শুনতে পাচ্ছি। বাংলাদেশও সেই ইসলামী দুনিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন সেই ঘনিষ্ঠতাকে আরো ব্যাপক করে তুলছে। কিন্তু কোন্ ভিত্তির উপর এই ঘনিষ্ঠতা? কোন্ সূত্র ধরে এই ইসলামী মৈত্রী বন্ধন গড়ে উঠেছে? এ কি শুধু ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী স্বপ্ন? বাস্তব জীবনের সমস্যার সাথে এর কি কোনো যোগ নেই? যদি তাই হয়, তা হলে তো ইসলাম এখানে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে গৃহীত হয়নি। আর যদি হয়েই থাকে, তা হলে তার স্বরূপ কী? সে কি শোষণ অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে, না পক্ষে? শুধু ইসলামী সংস্থা, ইসলামী ব্যাংক আর ইসলামী সম্মেলন তো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনা।
-
আড্রিয়াটিক সাগরের তীরে ইউরোপীয় ক্ষুদ্র দেশ আলবেনিয়ার আয়তন ২৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ২৫ লাখ ১১ হাজার (১৯৭৯’র তথ্য) মানুষের এই দেশটি ১৯৪৪ সালের নভেম্বর মাসে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা করে। দেশের অধিকাংশ মানুষ (৭০%) মুসলিম ধর্মাবলম্বী। বাকিদের ২০% অর্থোডক্স ও ১০% রোমান ক্যাথলিক। সুদূর অতীত থেকে দেশের মানুষ বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে।
বিদেশী আধিপত্য
পর্বত ঘেরা, সাগর ধোয়া এই দেশটির সাথে ভৌগলিক কারণেই বাইরের যোগাযোগ খুব ক্ষীণ। দেশের প্রাচীন ইতিহাসও বাইরের দুনিয়ার কাছে অনেকটা রহস্যাবৃত। তবে ইউরোপের বিশেষত বলকান অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ইতিহাসের সাথে সঙ্গতি রক্ষা করে একথা ধারণা করা হয় যে, আলবেনিয়ার
-
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে জয়লাভ করে সমাজ পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হওয়ার কর্মসূচী নিলেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াই পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছে আরও তিন দশক কাল। কৃষি প্রধান এই দেশের আয়তন ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬ শত বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ৫ কোটি ৭০ লাখ (১৯৮৩ সালের তথ্য)।
পূর্ব ইতিহাস
অতি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান ভিয়েতনামের ভূখণ্ডে মনুষ্য বসতি ছিল বলে জানা যায়। ব্রোঞ্জ যুগে হ্যাং রাজবংশের শাসনামলে ভিয়েতনামে জাতীয় রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে কাও ব্যাং প্রদেশের একজন স্থানীয় রাজা গোটা দেশ অধিকার করেন। এরপর একের পর এক ঘটে চীনা আক্রমণ এবং হাজার বছর ধরে
-
হেগেল বিশ্ব ইতিহাসের দর্শন রচনা করিয়াছেন। এই আলোচনায়ই তাহার দর্শনের মর্ম সহজে ফুটিয়া উঠিয়াছে। কি করিয়া আত্মা (spirit) সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়, তাহা দেখানোই বিশ্ব ইতিহাসের কার্য। বিশ্ব ইতিহাসেই ‘প্রজ্ঞার’ (reason) উদয় হয়; ইহারই ভেতরে ‘প্রজ্ঞা’ তাহার বিকাশ ও স্বতস্ফূর্ততার পথ খুঁজিয়া লয় এবং পরিশেষে আত্মোপলব্ধির আনন্দে সার্থক হয়। হেগেল লিখিত ইতিহাস পর্যালোচনায় এই মূল কথাটি মনে রাখিতে হইবে।
ইতিহাসকে দেখা হইয়াছে তিন রকমে (১) মৌলিক ইতিহাস (Original History) (২) ভাবমূলক ইতিহাস (Reflective History) (৩) দার্শনিক ইতিহাস (Philosophical History). হিরোটাস এবং থুসিডিডস্ লিখিয়াছেন প্রথম শ্রেণীর ইতিহাস। তাঁহাদের রচনা সম-সাময়িক তথ্য এবং ঘটনাদি বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাহারা এমন জিনিস রচনা করিয়াছেন
-
১৮১৮ সালে ৫ মে জার্মানিতে মহামতি কার্ল মার্কসের জন্ম। স্বদেশের ভূমিতে তাঁর শেষ শয্যা রচিত হয়নি। প্রবাসী অবস্থায় ১৮৮৩ সালে ১৪ মার্চ তাঁর নশ্বর জীবনের মৃত্যু ঘটে। তাঁর শেষ শয্যা রচিত হয়েছে লন্ডন শহরের হাইগেট ভিলেজের সমাধিক্ষেত্রে। তাঁর এই সমাধি আজ হয়েছে বিশ্ব প্রলেতারিয়েত এবং প্রগতিশীল কোটি কোটি মানুষের তীর্থভূমি।
স্বদেশে কেন তাঁর সমাধি হলো না- সে ইতিহাস আমরা কম আর বেশি সকলেই জানি। যে লোকটি বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তিতে তত্ত্ব দিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন পুঁজিতান্ত্রিক সমাজের ধ্বংস অনিবার্য এবং বিশ্বকে অবশ্যম্ভাবীরূপে জয় করে নেবে সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণি, সে লোকটিকে জার্মানির ধনিকশ্রেণি এবং তাদের সেবাদাস সরকারগুলো কেন স্বদেশে থাকতে দেবে? তাই অদ্যাবধি এই বিশ্বের
-
লেখক: ড. তাইবুল হাসানলেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় বলশেভিক পার্টি' যে সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করেছে তা'কোন আকস্মিক ঘটনা নয়। লেনিনের রচনায় স্পষ্ট প্রতিয়মান যে এই বিপ্লবের পশ্চাতে রয়েছে রুণ বিপ্লবী আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস। বুর্জোয়া কিছু ইতিহাসবিদ সমাজবিজ্ঞানীরা বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে রুশ বিপ্লবের ইতিহাসকে বিকৃত করে মূলতঃ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের গভীরতাকে খাট করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তারা বলশেভিক বিপ্লবকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুষ্টিমেয়দের ক্ষমতা দখল বলে অভিহিত করেছেন। আলোচ্য অধ্যায়ে লেনিনের রচনার আলোকে রুশ বিপ্লবী আন্দোলনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং শ্রেণী সংগ্রামের তীব্রতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রাশিয়ার শ্রমিক কৃষক ও মেহনতী মানুষরা যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে তার পূর্বকথা আলোচিত হয়েছে।রাশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসকে লেনিন তিনটি অধ্যায়ে
-
শত বছর পূর্বে রাশিয়ায় ঘটে এক বিশ্বকাঁপানো ঘটনা, যা মানব সভ্যতার গতিপথ পাল্টে দেয়। দুনিয়াটা আর অতীতের ধারাবাহিকতায় অক্ষুণ্ন থাকে না, ছেদ ঘটায়। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করার এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে রুশ দেশের মেহনতি মানুষ। শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বহু যুগের অন্যায়-অবিচার-জুলুম-নিপীড়ন-ভেদাভেদ-অমর্যাদা-অধিকারহীনতার অবসান হয়। গোটা বিশ্বকে এক নয়া উন্নত মানবিক সভ্যতার পথ দেখায় তারা, যার নাম 'সমাজতন্ত্র'। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় এই সমাজতন্ত্র কায়েমের মহাকর্মযজ্ঞ দুনিয়া কাঁপানো ‘রুশ বিপ্লব’ রূপে খ্যাত। অতীতে নানা দেশে আরও অনেক বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু এসব বিপ্লব অধিকাংশ মানুষের ওপর মুষ্টিমেয়ের শোষণ-শাসন-নিপীড়নের অবসান ঘটায়নি। কেবল এসবের ধরন
-
চেক ও শ্লোভাক প্রজাতন্ত্রদ্বয়ের ফেডারেশন চেকোশ্লোভাকিয়া ১৯৪৫ সালের ১ মে নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে। দেশটির আয়তন ১ লাখ ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ । চেক ও শ্লোভাক জাতির আবাসভূমি চেকোশ্লোভাকিয়া নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপের প্রাচীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও চেকোশ্লোভাকিয়াকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদেশী আগ্রাসনের শিকার হয়ে থাকতে হয়েছিল।
শোষণের দীর্ঘ পথ
চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রাচীন ইতিহাস আলোচনায় দেখা যায় যে, শ্লাভ জাতির এই দেশটিতে সপ্তম শতকে সামো সাম্রাজ্য ও অষ্টম শতকে মোরাভিয়া সাম্রাজ্য বেশ প্রবল প্রতাপান্বিত ছিল। এরপর বোহেমিয়া সাম্রাজ্য তথা চেক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
-
মধ্য ইউরোপের দেশ জার্মানীতে অনেকদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিলনা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্রাইবে বিভক্ত জনগোষ্ঠী প্রাচীন গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের রীতিনীতিতে বসবাস করতো। বিদেশী আক্রমণ বিশেষত রোমান সাম্রাজ্যের আক্রমণ তাদেরকে সংঘবদ্ধ হতে বাধ্য করে। খ্রীষ্টজন্মের সমসাময়িক কাল থেকে রোমান, হুনসহ বিভিন্ন বাইরের শক্তির সাথে জার্মান ট্রাইবগুলোর লড়াই পরিচালনার বিবরণ পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ জার্মান সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে রাজা হেনরীর সময়ে (৯১৯-১৩৬)। সাম্রাজ্যের অধিকার নিয়ে ত্রয়োদশ শতকে সামন্ত অধিপতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে সাম্রাজ্যের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।
বুর্জোয়া বিপ্লব
ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে জার্মানীতে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় এবং কৃষকদের লড়াই শুরুর লক্ষণ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। রোমান ক্যাথলিক চার্চের আরোপিত কঠোর বিধিমালা
-
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ১০ মাইলের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম গোলার্ধের একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সন্ধিস্থলে আটলান্টিক মহাসাগর বিধৌত ১৬০০ দ্বীপের দেশ কিউবার আয়তন ১ লাখ ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তবে এই দ্বীপমালার মধ্যে কিউবা দ্বীপের আয়তনই সবচেয়ে বড় (৯৪%)। ১৭ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবীদের শাসন কায়েম হয়।
আগের কথা
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের (১৪৯২) আগে কিউবার আদি অধিবাসীরা ছিল রেড ইণ্ডিয়ান। দেশটিতে সোনা-রূপার সন্ধান না পাওয়ায় ইউরোপীয় অনুসন্ধানী ও বসতি স্থাপনকারীরা কিউবাকে ছাড়িয়ে চলে যায় উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকায়। কিন্তু কালক্রমে স্পেনীয়রা এই দ্বীপের দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে। তাছাড়া অনেক ভাগ্যান্বেষী এবং উদ্বাস্তু ইউরোপ থেকে এখানে
-
উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খলে আবদ্ধ উপমহাদেশে সকল ভাষাভাষী জনগণের সম্মিলিত জাতীয় মুক্তির অভ্যুদয়ে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ও শ্রমজীবী শ্রেণীর আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার সাধনে, কমিউনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলার কাজে এবং প্রগতিবাদী লেখক-লেখিকাদের সমবায়ী প্রয়াসে সাজ্জাদ জহীরের বহুমুখী অবদান রয়েছে। তিনি অবশ্য প্রধানতঃ ১৯৩৫ থেকে সত্তরের দশকের শুরু পর্যন্ত প্রগতি সাহিত্যের কর্ণধার হিসাবে পরিচিত। তিনি একাধারে একদিকে যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রেমচাঁদের মতো দিকপাল প্রবীণদের গণমুখী সাহিত্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্রতী নবীন লেখক-লেখিকাদের দলবাঁধা প্রয়াসের মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন, তেমনি এই ঐক্যের ধারাকে প্রত্যক্ষভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দেশীয় তাঁবেদার কায়েমী স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে বিরাট বিরাট গণ-অভ্যুদয়ে শরিক করে বিপর্যয়ের অগ্নিপরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ করেছিলেন।
১৯৭৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৬৮ বছর
ক্যাটাগরি
আর্কাইভ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.