চীন
শত কোটি মানুষের বিশাল দেশ চীনের আয়রন ১৬ লাখ বর্গ কিলোমিটার। বিশ্ব সভ্যতার প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘকাল পর্যন্ত সামন্তবাদী ও আধা উপনিবেশ হিসেবে শোষিত হয়েছে। দেশী-বিদেশী শোষকদের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৪৯ সালের অক্টোবরে চীনের গণবিপ্লব বিজয় অর্জন করে।
প্রাচীন আমল
দাসযুগের খণ্ড খণ্ড রাজ্যের স্থলে খ্রীষ্টের জন্মের সোয়া দুইশত বছর আগে চীনে ছিন রাজবংশের আমলে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সামন্ততন্ত্র শক্ত খুঁটির ওপর দণ্ডায়মান হয়। তা টিকে ছিল বর্তমান শতাব্দীর প্রথম পর্যন্ত। ছিন, পূর্ব হান ও পশ্চিম হান রাজবংশের আমলে সামন্ততান্ত্রিক ভূমি মালিকানার পোক্ত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলেও ব্যাপক কৃষকের জীবন ছিল চরম শোষনে ভরা। তাই ঘটে বিরাট বিরাট কৃষক অভ্যুত্থান। পরবর্তী চীনা রাজবংশগুলো এবং মঙ্গোল, মাঞ্চু প্রভৃতি দখলদারদের রাজত্বও কৃষক বিদ্রোহের দ্ধারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। কৃষকরা বিদ্রোহ করলেও বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হয়নি। কারণ তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় কৃষক বিদ্রোহ অন্য রাজবংশকেই কেবল প্রতিষ্ঠিত করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
প্রাচীন চীনে শোষণ বজায় রাখার অনুকূলে সৃষ্টি হয়েছিল কনফুসিয়াসের দার্শনিক তত্ত্ব। স্বর্গ থেকেই মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়—এক্ষেত্রে মানুষের করনীয় কিছুই নেই—এই ছিল কনফুসিয়াস দর্শনের মূল কথা। অভিজাত আর সাধারণ মানুষের ব্যবধান ঘোচতে পারেনা এবং সাধারণ মানুষকে সবসময়ই উচ্চবিত্তকে শ্রদ্ধা করতে হবে—কনফুসিয়াসের এই শিক্ষা দীর্ঘদিন পর্যন্ত (এমনকি আধুনিক কাল পর্যন্ত) চীনাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। প্রথম শতাব্দী থেকে চীনে বৌদ্ধ মতবাদও প্রবেশ করে।
বৈদেশিক নিয়ন্ত্রণ
ইউরোপীয় বণিকেরা পৃথিবীর দেশে দেশে হানা দেয় সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে। চীনও তার ব্যতিক্রম নয়। বৃটেনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী চীনে বিপুল পরিমাণ চোরাই আফিম নিয়ে আসে ও গোটা চীনের সামাজিক-অর্থনৈতিক জীবনে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। চোরাচালানে এই ব্যবসার মাধ্যমে চীনের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বাইরে পাচার হয়ে যেতে থাকে। ছিং বংশের রাজা এই আফিম ব্যবসা বন্ধ করতে গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ও ইংরেজের পদানত হয়ে পড়ে। যুদ্ধের পর চীন সরকারকে বিপুল অংকের ক্ষতিপূরণ এবং ভূখণ্ড (হংকং) দিয়ে দিতে হলো ইংরেজদেরকে। এছাড়া সাংহাইসহ পাঁচটি বন্দর বিদেশী বণিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হলো। এরপর ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও অনুরূপ ‘শান্তি চুক্তি’ করতে হয়। ফলশ্রুতিতে চীনে সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ হয়ে যায় পশ্চিমা বুর্জোয়াদের দ্বারা। চীন পরিণত হলো আধা উপনিবেশে।
চীনের রাজতন্ত্রী সরকার বিদেশীদের অর্থ দেওয়ার দায়ভাগ চাপিয়ে দেয় জনগণের কাধে। শোষিত-বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ওপর ধার্য করে আরও অধিক কর। ফলে জনমনে সৃষ্টি হয় বিরাট অসন্তোষ। অসন্তোষ থেকে জন্ম নেয় বিক্ষোভ-বিদ্রোহ। কৃষক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত এই বিদ্রোহী বাহিনী ১৮৫১ সালে ‘থাইপিং স্বর্গীয় রাজ্য’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদ্রোহের সূচনা করেন। ক্রমান্বয়ে ১০ লাখ মানুষের বাহিনী গঠন করেন এবং ১৭টি প্রদেশের ওপর দিয়ে অভিযান চালিয়ে ৬০০ এর বেশি শহর মুক্ত করেন। বিদ্রোহের ধাক্কায় টলটলায়মান ছিং রাজা তখন বিদেশী শক্তির সাহায্য নিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন (১৮৬৪)। ইত্যবসরে জাপান চীনের বিরাট এলাকা দখল করে নেয়। ফ্রান্স, বৃটেন, জার্মানীও চীনের অনেক অঞ্চল ইজারা নিয়ে নেয়। জারের রাশিয়া অসম চুক্তি করতে বাধ্য করে চীনা রাজাকে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আদায় করে ‘মুক্তদ্বার’ নীতি। উনিশ শতকের শেষ দিকে কার্যতঃ চীনের সার্বভৌমত্ব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। রাজপরিবার সিংহাসন আঁকড়ে থেকেই সন্তুষ্ট থাকলো।
পশ্চিমা পুঁজিবাদী দেশগুলোর অবাধ বাজার হওয়া সত্ত্বেও চীনে কিছু কিছু দেশীয় বুর্জোয়া সৃষ্টি হয়। তারা নিজ শ্রেণী স্বার্থেই বিদেশী আধিপত্যের অবসান কামনা করে। তারা রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি করে। বিদেশী আধিপত্যের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত কৃষকরাও ১৯০০ সালে শুরু করে লড়াই। বিদেশীরা এই বিদ্রোহ দমন করার জন্য সৈন্য পাঠায়। সরকারও
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments