- প্রযোজ্য নয়
- ১৯৯০
- ২৩৬
গাঁজাখুরি গল্পের লড়াই
গার্ম শহর থেকে এক পালোয়ান এল হীসার শহরের বাজারে সেখানকার পালোয়ানের সঙ্গে শক্তির লড়াই করে দেখার ইচ্ছা হল তার।
‘এস দেখা যাক, আমাদের মধ্যে কে বেশি শক্তিশালী?’ বলল গার্মের পালোয়ান।
লড়াই আরম্ভ হল তাদের। সে লড়াই দেখতে লোক জড় হল।
লড়াই করতেই লাগল তারা, কিন্তু কেউ কাউকে হারাতে পারে না কিছুতেই। সূর্য পাটে বসেছে। আঁধার নামছে ওদিকে। তখন গার্মের পালোয়ান গীসারের পালোয়ানকে বলল, ‘চল, চাখানায় যাওয়া যাক, চা খাওয়া যাবে আর বাজি রেখে দেখব কে যেতে। আমাদের মধ্যে যে বলতে পারবে সবচেয়ে বড় গাঁজাখুরি গল্প যে গল্পে উপস্থিত শ্রোতাদের কেউ বিশ্বাস করবে না, সেই জিতবে।’
‘ঠিক আছে।’ বলল হীসারের পালোয়ান। ‘এটা তোমার পরিকল্পনা যখন তখন তুমিই আরম্ভ করবে।’
তার চাখানায় গেল, চা খেতে লাগল, লোকেরাও চলল তাদের পিছন পিছন। গার্মের পালোয়ান আরম্ভ করল তার গল্প, ‘আমার বাবা গাড়ি বোঝাই করে আখরোট নিয়ে বাজার রওনা দিল বেচবে বলে। এমন সময় বৃষ্টি নামল। বস্তার মধ্যে আখরোটগুলো ভিজে গাছ গজান আরম্ভ হল। ছোট ছোট চারাগাছগুলো বড় বড় গাছ হয়ে গেল। বাবা কিছু বোঝার আগেই গাছে আখরোট ধরল, হাওয়ায় সেগুলো নীচে পড়তে লাগল আর পড়তে লাগল একেবারে পথচারিদের মাথায়। পথচারীরা রেগে গিয়ে মাটির ঢেলা, পাথর ছুঁড়তে লাগল গাড়ির দিকে। তার ফলে তৈরী হল একবিঘা জমি।
গমের চাষ করতে লাগল আমার বাবা। গমের বীজ পুঁতল, দেখে অমনি ফসল তোলার সময় এসে গেছে। ফসল তুলে মাড়াই করার সময় গমের দানার বদলে বার হতে লাগল মোরগ আর বিচালির থেকে বার হতে লাগল মুরগী। মুরগীগুলো অনেক ডিম পাড়ল, ডিমগুলো ফুটে তখনি বাচ্চা হল, তারা সংখ্যায় এত যে ঝাঁক বেঁধে উড়ে গেল তারা মেঘের মত। এই হল আমার বাবার জীবনে। বলতে চাও—এমন ঘটে নি?’ জিজ্ঞাসা করল গার্মের পালোয়ান।
‘এ সবই সত্যি।’ বলল হীসারের পালোয়ান। ‘এবার শোন আমার বাবার কথা।’
‘বছরে একবার করে আমার বাবা বনে যেত, কাঠ কেটে কেটে একশ’টা গাছের মত উঁচু করে জড় করত। সেই বিশাল কাঠের গাদা নিয়ে আসত গ্রামে। সারা বছর গোটা গ্রামের লোক জ্বালাত সেই কাঠ তবুও এক বছরে ফুরোত সে কাঠ, অর্ধেক কাঠ থেকেই যেত। সেই বাকি কাঠগুলো জড় করে আগুন জ্বালিয়ে দিত বাবা আর গ্রামবাসীদের বলত সেই আগুনের শিখা লাফ দিয়ে পেরোতে সাহস করে না কেউই, কেবল আমার বাবাই লাফ দিয়ে পেরোত সেই আগুনের শিখা, তারপর যেন কিছুই হয় নি এমনিভাবে আবার বনে যেত কাঠ কাটতে।
‘তোমার বাবা আমার পালোয়ান বাবার কথা শুনেছিল, আমার বাবার সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় নামার উদ্দেশ্যে একদিন এল আমাদের গ্রামে। ঐ দিনই আমার বাবা কাঠ কাটতে গিয়েছে বনে। তোমার বাবা অপেক্ষ করবে না ভেবে নিজেই গেল আমার বাবার খোঁজে। খানিক দূরে গিয়েই দেখে তার দিক এগিয়ে আসছে কাঠের এক পাহাড়, আর কাটা গাছের সবুজ ডালপালার আড়ালে চাপা পড়েছে কাঠুরে। সেই পাহাড়টা তোমার বাবাকে পেরিয়ে চলে গেল। তখন তোমার বাবা পিছন পিছন চলতে লাগল আর দড়ি দিয়ে বাঁধা কাঠের গোছার থেকে বেরিয়ে থাকা কাঠের টুকরোগুলো টেনে বার করে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল। টানছে তো টানছেই পাহাড়টা কিন্তু থামে না, এগিয়েই চলেছে। শেষে সে আর খানিক জোরে টান দিতেই কাঠের গোছায় বাঁধা দড়িটা ছিঁড়ে গেল, সব কাঠ গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।
‘তুই আমার কাঠ চুরি করছিস কেন? লজ্জা করে না?’ চেঁচিয়ে উঠল আমার বাবা।
‘তোমার কাঠ আমার কোন প্রয়োজন নেই।’ বলল তোমার বাবা। ‘আমার দরকার তোমাকে। তোমার মত পালোয়ানকেই খুঁজছি আমি।
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রযোজ্য নয়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments