কিউবা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ১০ মাইলের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম গোলার্ধের একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সন্ধিস্থলে আটলান্টিক মহাসাগর বিধৌত ১৬০০ দ্বীপের দেশ কিউবার আয়তন ১ লাখ ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তবে এই দ্বীপমালার মধ্যে কিউবা দ্বীপের আয়তনই সবচেয়ে বড় (৯৪%)। ১৭ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবীদের শাসন কায়েম হয়।
আগের কথা
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের (১৪৯২) আগে কিউবার আদি অধিবাসীরা ছিল রেড ইণ্ডিয়ান। দেশটিতে সোনা-রূপার সন্ধান না পাওয়ায় ইউরোপীয় অনুসন্ধানী ও বসতি স্থাপনকারীরা কিউবাকে ছাড়িয়ে চলে যায় উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকায়। কিন্তু কালক্রমে স্পেনীয়রা এই দ্বীপের দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে। তাছাড়া অনেক ভাগ্যান্বেষী এবং উদ্বাস্তু ইউরোপ থেকে এখানে আসে। আরও আসে ল্যাটিন আমেরিকার কিছু উদ্বাস্তু জাতীয় মানুষ। ইউরোপীয়রা এক সময় আমেরিকায় অনেক নিগ্রোকে ক্রীতদাস হিসেবে আমদানী করেছিল, তাদের অনেককে কিউবায় আনা হয়। বিবর্তনের মাধ্যমে এই সব গোষ্ঠীর সমবায়েই কালক্রমে কিউবার ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠেছে। দেশটি স্পেনের কলোনী হিসেবে শাসিত হয় দীর্ঘকাল।
স্পেনের কলোনী থাকার সময়ে রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন শহর নির্মিত হয়। সপ্তদশ শতকে ইক্ষু ও তামাকের চাষ এবং পশু পালন বেশ প্রসার লাভ করে। এই সময়ে বোম্বেটে আর জলদস্যুদের আস্তানা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো কিউবার পার্বত্যভূমি আর সমুদ্র উপকূল।
অষ্টাদশ শতকে কিউবার অধিকার নিয়ে স্পেন ও ব্রিটেনের মধ্যে বিরোধ বাধে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ব্রিটেন জয়ী হয়। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে কিউবা ব্রিটিশ কলোনীতে পরিণত হয়। কিন্তু বৃটিশের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১ বছরের মধ্যেই ১৭৯৩ সালে কিউবা আবার স্পেনীয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এই সময়ে কিউবায় চিনি শিল্পের বিকাশ ঘটে। বৃহৎ দাস মালিক তথা ধনী ভূস্বামীরা ছিল এই চিনি শিল্পের মালিক। তারা সঙ্গত কারণেই চিনি শিল্পের তথা ব্যবসার উপর স্পেনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে আগ্রহী ছিল। এই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীনতাই ছিল সর্বোত্তম পথ। তাই তারা উদ্যোগী হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে।
উপনিবেশের অবলুপ্তি
কিউবার ভূস্বামীদের নেতা কার্লোস ম্যানুয়েলের নেতৃত্বে ১৮৬৮ সালের ১০ অক্টোবর প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। ১০ বছর স্থায়ী এই লড়াইয়ের ফলে কিউবায় বিভিন্ন ভাগে বিভাজিত জনগোষ্ঠী দেশপ্রেম দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায়। কিউবান জাতীয়তাবোধও এই লড়াইয়ের ফলে সুস্পষ্ট হয়। এই লড়াই শেষ পর্যন্ত দাস প্রথা বিরোধী লড়াইয়ে পর্যবসিত হয় এবং চরিত্রগতভাবে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক সীমারেখায় অবস্থান করে। এই লড়াই অন্য কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠায় ভাবীকালের বিপ্লবী তৈরীরও একটা শিক্ষা কেন্দ্র রূপে চিহ্নিত হয়ে যায় এই যুদ্ধ।
দশ বছর স্থায়ী এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে কিউবার দেশপ্রেমিকদের সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে ওঠে যার রেশ থাকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত। এই লড়াইয়ে অবশ্য কিউবার দেশপ্রেমিকরা জয়ী হতে পারেনি। শেষে স্বাধীনতা ছাড়াই স্পেনীয় প্রভুদের সাথে কিউবান যোদ্ধাদের শান্তি চুক্তি হয়। এর প্রতিবাদে অনেক বিপ্লবীই নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই প্রতিবাদী বিপ্লবীদের উদ্যোগে কিউবার প্রথম রাজনৈতিক দল কিউবান রেভল্যুশনারী পার্টি গঠিত হয়। গঠনের সময়েই এই সংগঠনের নেতা জোসে মার্টি স্বাধীনতা ও গণপ্রজাতান্ত্রিক কিউবা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
কিউবান রেভল্যুশনারী পার্টির নেতা জোসে মার্টিসহ অন্যান্য বিপ্লবীদের উদ্যোগে ১৮৯৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে আবার স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এই লড়াইয়ের পুরোভাগে থাকে কিউবার মধ্যবিত্ত শ্রেণী। যুদ্ধে জোসে মার্টি সহ অনেক বিপ্লবী মৃত্যুবরণ করেন। তিন বছর যুদ্ধের পর স্পেনীয় বাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।
এই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দৃশ্যপটে উপস্থিত হয়। নাকের ডগার দেশ কিউবায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমেরিকার বুর্জোয়ারা উদগ্রীব হয়ে পড়ে। স্পেনীয়দের পরাজিত হওয়ার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments