কংগ্রেসে মুসলিম নেতৃত্ব
হাকিম আজমল খান
সর্বভারতীয় কংগ্রেসী নেতাদের মধ্যে হাকিম আজমল খানের নাম সুপরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষেরা মুগল সম্রাট বাবরের সঙ্গে এদেশে চলে আসেন এবং তখন থেকেই ডা. আনসারীর মত হাকিম আজমল খানের পূর্বসূরীরাও চিকিৎসা বিদ্যায় সমগ্র উত্তর ভারতে অসামান্য খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তাঁর পূর্বপুুরুষদের মধ্যে একজন সম্রাট আকবরের আমলে চিকিৎসাকে তার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। তাঁরই এক বংশধর ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় চিকিৎসক। তারপর থেকে তঁাঁদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ রাজ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করে এসেছেন।
এই বিখ্যাত চিকিৎসক বংশের উপযুক্ত বংশধর ছিলেন হাকিম আজমল খান। তাঁর জন্ম ১৮৬৩ সালে। তাঁর পিতার নাম গোলাম মহম্মদ খান।
শিক্ষার দিক দিয়ে তিনি প্রাথমিক বাধ্যতামূলক কোরান অধ্যয়নের পর বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে প্রাচীন দিনের ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা লাভের সুযোগ লাভ করেছিলেন। নিজস্ব পেশা হিসেবে হাকিম আজমল খান প্রাচীন দিনের ঐতিহ্য থেকে প্রাপ্ত চিকিৎসা বিদ্যা অর্থাৎ তিব্বি ইউনানী শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। এজন্য তাঁকে বাইরে যেতে হয়নি, নিজেদের পরিবারের মধ্যে এই শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠিত ছিল। তখনকার দিনের উচ্চ বংশের মুসলমানরা ধর্মভ্রষ্ট ও আচার ভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত কোনো আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছেলেদের পাঠাতেন না। সেই কারণে তরুণ হাকিম আজমল খানকে আধুনিক শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিল। পরবর্তীকালে তিনি যখন স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়লেন, তখন তিনি আধুনিক শিক্ষার মর্ম ও সার্থকতা বুঝতে পেরে একমাত্র নিজের চেষ্টাতেই ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
চিকিৎসক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবার পর তিনি রামপুর করদ রাজ্যের রাজকীয় চিকিৎসক হিসাবে নিযুক্ত হন। তরুণ হাকিম আজমল খান ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রামপুরের নবাব তাঁর সঙ্গে সম্প্রীতি সূচক সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে বিরত হননি। রামপুরে থাকতেই স্যার সৈয়দ আহমেদ কর্তৃক প্রবর্তিত আধুনিক শিক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা তাঁর দৃষ্টিকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে এবং তিনি আলীগড় কলেজের অন্যতম ট্রাস্টি হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু বিরোধটা দেখা দিল অসহযোগ আন্দোলনের সময়। আলীগড় কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঘোর বিরোধী। কিন্তু হাকিম আজমল খান মনে প্রাণে আন্দোলনের সপক্ষে। ফলে তিনি আলীগড় কলেজের ট্রাস্টি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে এলেন।
যখন তাঁর বয়স ত্রিশের উপর, সেই সময় থেকে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে শুরু করলেন। এই কাজ শুরু হলো লেখনী চালনার মধ্যে দিয়ে। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে ‘আকমল উল-আকবর’ নামে একটি উর্দু সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। হাকিম আজমল খান এই পত্রিকায় নানারকম রাজনৈতিক বিষয়ে প্রবন্ধ ও টীকা-টিপ্পনী লিখতেন।
বিংশ শতাব্দীর পদপাতের সাথে সাথে হাকিম আজমল খানদের পরিবারে এক নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত হলো। ইতিপূর্বে এই পরিবারের আর কেউ কোনোদিন রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাননি। হাকিম আজমল খানই সর্বপ্রথম রাজনীতির ক্ষেত্রে এসে প্রবেশ করলেন এবং দেখতে দেখতে তার নাম সারা ভারতের রাজনৈতিক মহলে সুপরিচিত হয়ে উঠল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথমভাগে তিনি একান্তভাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার নিয়েই তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেল বাস্তবিকপক্ষে এটা ছিল তার রাজনৈতিক শিক্ষানবিশীর কাল। কাজের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নতির ফলে তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্কীর্ণ গণ্ডী ভেঙ্গে ফেলে সারা ভারতের জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করলেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম অধ্যায়ে তিনি যখন মুসলিম রাজনীতির গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন সে সময় ১৯০৬ সালে আগা খান এর নেতৃত্বে কয়েকজন অভিজাত শ্রেণীর বিশিষ্ট মুসলমান ভদ্রলোক ভারতের সমগ্র মুসলমান সমাজের স্ব-নির্বাচিত প্রতিনিধি স্বরূপ তাদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দেন-দরবার করার উদ্দেশ্যে সিমলায় বড়লাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments