চেকোশ্লোভাকিয়া
চেক ও শ্লোভাক প্রজাতন্ত্রদ্বয়ের ফেডারেশন চেকোশ্লোভাকিয়া ১৯৪৫ সালের ১ মে নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে। দেশটির আয়তন ১ লাখ ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ । চেক ও শ্লোভাক জাতির আবাসভূমি চেকোশ্লোভাকিয়া নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপের প্রাচীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও চেকোশ্লোভাকিয়াকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদেশী আগ্রাসনের শিকার হয়ে থাকতে হয়েছিল।
শোষণের দীর্ঘ পথ
চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রাচীন ইতিহাস আলোচনায় দেখা যায় যে, শ্লাভ জাতির এই দেশটিতে সপ্তম শতকে সামো সাম্রাজ্য ও অষ্টম শতকে মোরাভিয়া সাম্রাজ্য বেশ প্রবল প্রতাপান্বিত ছিল। এরপর বোহেমিয়া সাম্রাজ্য তথা চেক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। এই সব সাম্রাজ্য ছিল সামন্ত অধিপতিদের শোষণের লীলাভূমি। একাদশ শতক থেকে শ্লোভাকিয়া হাঙ্গেরীয়ান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয় এবং ষোড়শ শতক থেকে চেকও হ্যাপসবার্গ তথা অস্ট্রো-হাঙ্গেরী সাম্রাজ্যের করতলগত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চেক ও শ্লোভাকরা অস্ট্রো-হাঙ্গেরী সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
সামন্ততান্ত্রিক শাসকের দ্বারা পরাধীন থাকার সময়েই চেক ও শ্লোভাকিয়া ইতিহাসের স্বাভাবিক পথে পুঁজিবাদী ধারায় অগ্রসর হতে সক্ষম হয়। ইউরোপের বিভিন্ন স্বাধীন দেশ যে সময়ে সামন্তবাদী প্রাধান্য ছিন্ন করে বুর্জোয়া বিকাশের ধারায় অগ্রসর হয়, দেরিতে হলেও পরাধীন চেকোশ্লোভাকিয়ায় সে ধারা জন্মলাভ করে ১৯ শতকের প্রথম দিকে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গিল্ড উৎপাদন ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে বড় আকারের পুঁজিবাদী যন্ত্রশিল্প গড়ে ওঠতে থাকে চেক ও শ্লোভাকিয়াতে। সাথে সাথে জন্মলাভ করে দুটি বিবদমান শ্রেণী: বুর্জোয়া ও সর্বহারা। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে বুর্জোয়ারা, উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়ে তারা বিপ্লব ঘটাতে উদ্যোগী হয়।
বুর্জোয়া বিপ্লব
১৮৪৮ সালে চেকোশ্লোভাকিয়ার বুর্জোয়ারা বিশেষ তৎপরতা পরিচালনা করতে সক্ষম হয় যা বুর্জোয়া বিপ্লবে পরিণতি লাভ করে। ১৮৩০-এর দশক থেকেই অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থা, গিল্ড প্রথায় প্রচলিত বিধি ব্যবস্থা, ক্ষমতায় অভিজাতদের প্রাধান্য, জাতিগত বৈষম্য ইত্যাদি কারণে চেক ও শ্লোভাক বুর্জোয়ারা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এই সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে বুর্জোয়া বিকাশ অবাধ করতে চায় বুর্জোয়ারা। নিজস্ব শ্রেণী স্বার্থেই বুর্জোয়ারা ভূমিদাস প্রথা বাতিল, জাতীয় অধিকার ও জাতীয় ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জার্মান বুর্জোয়াদের সাথে দ্বন্দ্ব থাকার কারণে চেক ও শ্লোভাক বুর্জোয়ারা হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্যের অধীনে থেকেই কিছু দাবি দাওয়া আদায় শ্রেয় মনে করে। কারণ অস্ট্রো-হাঙ্গেরী রাজতন্ত্রের বিভিন্ন কাঠামোতে শ্লাভদেরই প্রাধান্য ছিল। ১৮৩১ সালে ভূমিদাসরা বিদ্রোহ করে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য জনগণও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বুর্জোয়ারা এই সব ঘটনার দ্বারা সৃষ্ট পরিস্থিতিকে নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের জন্য সচেষ্ট হয়। ১৮৪৮ সালের ১১ মার্চ প্রাগে বুর্জোয়াদের উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তারা জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ কতিপয় দাবি দাওয়া সম্বলিত দরখাস্ত পাঠায় রাজার কাছে। এই সময়ে দেশব্যাপী ভূমিদাস ও শ্রমিকরা সংগ্রাম শুরু করে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে। বুর্জোয়ারা শ্রমিকদের উত্থান প্রতিহত করার জন্যে রাজতন্ত্রের সাথে আপসের পথ ধরে।
শেষ পর্যন্ত ভূমিদাস প্রথা বাতিল হয়। বুর্জোয়ারা একটা প্রাধান্য বিস্তারকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং শ্রমিকরা আলাদা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এমন লক্ষণ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। বুর্জোয়া বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে ১৮৬৭ সালে সীমিত নাগরিক অধিকার, শ্রমিকদের আন্দোলন আংশিক আইনসিদ্ধ, বুর্জোয়া বিকাশের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সংবিধান ঘোষিত হয়। এই সময়ে হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে: চেক থাকে অস্ট্রিয়া অংশে, শ্লোভাকিয়া থাকে হাঙ্গেরীতে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরী সাম্রাজ্যে চেক বুর্জোয়ারা শক্তিশালী থাকায় সরকার তাদের সাথে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয় এবং অস্ট্রিয়ার অধীনে চেক আইনসভা ও সরকার গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments