বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন : সমস্যা ও করণীয়
ছাত্রদের শিক্ষাজীবনে আজ অগণিত সমস্যা রয়েছে। আবার ছাত্রসমাজ দেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় সমস্যায়ও জর্জরিত। এই উভয়বিধ সমস্যা ছাত্র- সমাজকে পঙ্গু করে তুলেছে। ছাত্রদের শিক্ষা-সমস্যা ছাত্রদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে বা, যে মুষ্টিমেয় সৌভাগ্যবান ছাত্র শিক্ষার সীমিত সুযোগ পাচ্ছে, তারাও শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির জন্যে প্রয়োজনীয় মানের শিক্ষা অর্জন করতে পারছে না। আবার আমাদের বন্ধ্যা সমাজ নতুন নতুন শিক্ষিত যুবকদের জন্ম আনুপাতিক হারে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারছে না। তাই ছাত্রবয়সের প্রান্তসীমায় এসে যুবক-তরুণরা এক অবধারিত নিষ্ফল ভবিষ্যতের মুখোমুখী হচ্ছে। এর ওপর রয়েছে জাতীয় জীবনে সামা-জক-অর্থনৈতিক সমস্তার চাপ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বেকারত্ব প্রভৃতি অভিভাবকদের উপরে যে চাপ সৃষ্টি করে তার বোঝা পর্যায়ক্রমে ছাত্রদের উপরও আসে এবং আর্থিক, মানসিক ও স্নায়বিক আঘাত হানে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে ছাত্রদের শিক্ষাজীবনের এই করুণ চিত্রটি পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর, আজ পর্যন্ত ছাত্রদের এইসব মৌ লক সমস্যাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠে নাই। ছাত্রদের সংঘবদ্ধ অবস্থান এবং তরুণ বয়সের জন্য, ছাত্রজীবনে ছাত্রদের শিক্ষাজীবনের সমস্য। এবং ভবিষ্যত জীবনের সমস্যা নিয়ে এক দৃঢ় আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। ছাত্রদের নিজস্ব শিক্ষাজীবনের সমস্যাগুলোর ভিত্তিতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা সহজ। কিন্তু দেশের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এইরকম দৌলিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে কাজের প্রবণতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
দেখা যায়, অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন কোন না কোন রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিরাজ করে। এর ফলে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অনুসারী ছাত্ররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে ছাত্র হিসেবে ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দৃঢ় আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টা অনেক ছাত্র-সংগঠনই গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করে না। এই দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব জাতীয় ভিত্তিক ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হিসেবে বিরাজ করছে।
ছাত্র নেতৃত্বের এই সামগ্রিক দুর্বলতার কারণে ছাত্রসমাজ তার নিজস্ব শক্তির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। ছাত্ররাও যে সমাজে একটি বড় শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সফল সংগ্রামের পথে অগ্রসর হতে পারে-এরকম কোন চিন্তা থেকে ছাত্রসমাজ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।
বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনে এই দৈন্যদশা চলছে।
ছাত্র আন্দোলনের অতীত ঐতিহ্য
অতীতে আমাদের দেশে ছাত্রসমাজ এক বিরাট আন্দোলনের ঐতিহ্য সৃষ্টি করে এসেছে। ১৯৫২ সাল থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত-পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর এই পুরো আমল জুড়েই বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ একের পর এক ছাত্র-গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। এইসব আন্দোলনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে '৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬২ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং '৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
এইসব আন্দোলনের সূচনা ঘটায় মূলতঃ ছাত্রসমাজ এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই আন্দোলনগুলো ব্যাপক জাতীয় ভিত্তিক গণচরিত্র লাভ করে। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ৬৯-এর ফেব্রুয়ারী-মার্চ সময়কালে সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জাতীয় সমস্যা নিয়ে, পারিবারিক, জমিজমা সংক্রান্ত ও অন্যান্য বিবিধ সমস্যা নিয়ে ঢাকার তৎকালীন ইকবাল হলে ছাত্র নেতৃত্বের কাছে আসতো। সেই স্বল্পকালীন সময়ের জন্য সাধারণ মানুষ ছাত্রনেতৃত্বকে কার্যতঃ বিকল্প সরকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন •২-র কালপর্বে ছাত্র সমাজকে তার বিভিন্ন সমস্যার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরে- ছিল এবং ছাত্রসমস্যা ও জাতীয় সমস্যা নিয়ে নির্ভীক, নিরলস ও আন্তরিকতাপূর্ণ সংগ্রাম করতে পেরেছিল বলেই জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছিল। এইভাবে স্বাধীনতা পূর্বকালে ছাত্রসমাজ এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য সৃষ্টি করে।
বিন্তু স্বাধীনতার পর সমস্ত পরিপ্রেক্ষিত বদলে যায়। জাতীয় সমস্যার মর্মবস্তু পরিবর্তিত হয়। জাতীয় ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নটা সামনে আসে। গরীব মেহনতী শ্রেণীর অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্ন সামনে আসে। পরি- বর্তিত
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments