ইসলাম
ইসলাম একটি ধর্মমত। কিন্তু আমরা এতোটুক বলেই সন্তুষ্ট নই: বরং গলার জোর যথা সম্ভব বাড়িয়ে বলতে চাই—ইসলাম শুধু একটি ধর্মমত নয়—‘একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান।
অবশ্য জোরেই বলি আর আস্তেই বলি, একথা বলার অধিকার আমাদের আছে। নিজের ধর্মমতকে কেই বা ছোট বলতে চায়! তাছাড়া ইসলাম শুধু আমাদের বলার জন্য নয়, ঐতিহাসিকভাবেই জীবন বিধানের দাবী নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। প্রচলিত যতোগুলি ধর্মমত আছে, তার মধ্যে একমাত্র ইসলামই ইতিহাসের আলোতে তার সকল আয়োজন ও উপকরণ তুলে ধরতে পেরেছে। এর কোথাও রহস্যের কিছু নেই: লুকোচুরির আড়াল নেই। যে মরু পরিবেশে এর জন্ম, সেই পরিবেশের মতোই প্রখর সূর্যালোকে এর সকল কিছু উদ্ভাসিত!
অথচ...
হ্যাঁ, সে সত্যও আমাদেরকে স্বীকার করে নিতে হয় বৈকি! যে পরিবেশের প্রখর সূর্যালোকে সকল কিছু উদ্ভাসিত, সেখানেই দেখা দেয় মরীচিকা—কি এক মোহকর বিভ্রান্তি জীবন পথিককে নিয়ে যায় মৃত্যুর দ্বারে। ইসলামকে নিয়েও আমরা কি তেমনি কোনো মরীচিকার পিছনে ছুটছি?
এ প্রশ্ন তখনই দেখা দেয়, যখন জোর গলায় উচ্চারণ করি—“ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান'। কারণ এ উচ্চারণ আর আমাদের আচরণ কখনো একখাতে প্রবাহিত হয়না। আমরা আমাদের আচরণের মধ্যে বারবার জীবনকে ভুলে যাই, জীবনের তাৎপর্য নিয়ে বাক্বিতণ্ডার সৃষ্টি করি আর সব চাইতে বেশী করে জীবনের জন্য বিধান, না বিধানের জন্য জীবন—এই ধারণায় তালগোল পাকিয়ে ফেলি।
জীবন? কোন্ জীবন? ইহকালের না পরকালের? ইসলাম তো ইহকাল আর পরকাল উভয়কালের জীবনকে একসাথে মিলিয়ে দেখে। ইহকালের এই জীবনই বিস্তৃত হয় পরকালে। আর এই জীবনের জন্যই তো বিধান—বিধানের প্রয়োজনীয়তা। ইহকালের জীবনেই এই বিধানের উৎপত্তি। সেই বিধানকে ঘিরে আবর্তিত হয় ইহকালের এই জীবন আর পরকালের জীবনে এরই ফলশ্রুতি ভোগ ৷
কিন্তু আমরা ভুলে যাই ইহকালের এই জীবনকে কিংবা ভুল বুঝি। পরকালের অনন্ত জীবনের তুলনায় কি সামান্য আর তুচ্ছই না ভাবি একে! আসলে কি ইহকালের এই জীবন এতোই সামান্য, এতোই তুচ্ছ? আমাদের এই জীবন কি পৃথিবীর দিকে দিকে বিস্তৃত ব্যাপক ও বিরাট জীবন প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন? যদি বিচ্ছিন্ন না হয়, তা হলে সেই বিশাল জীবন সমুদ্রের উত্তরাধিকার যেমন আমরা বহন করছি, তেমনি তার প্রভাবেও তো আমরা প্রতিনিয়ত আন্দোলিত হচ্ছি!
বস্তুতঃ আমরা যতোই এই জীবন সমুদ্র থেকে নিজেদেরকে খণ্ডিত বিচ্ছিন্ন করতে চাইনা কেন, জীবন কিছুতেই তা হতে দেবেনা: জীবন বিধান তো এর ঘোরতর বিরোধী। আর পরিপূর্ণ জীবন বিধান? সে তো এই বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কিছুতেই লাভ করা সম্ভব নয়!
এজন্যই বলতে হয়, জীবনকে হয় আমরা বুঝিনা, নয়তো বুঝেও না বুঝার ভান করি। তা নাহলে এ কথা তো বুঝতে চেষ্টা করতাম যে, এই ইসলাম আবির্ভূত হয়েছিল আজ থেকে চৌদ্দশ'-বৎসর আগে। যে জীবন পরিবেশে এর আবির্ভাব ঘটেছিলো, এই দীর্ঘদিনে তার বহুল পরিবর্তন ঘটেছে। সেদিন যে সমস্যার সরল সমাধান সে নিয়ে এসেছিলো, সে সমস্যা আজ বহু গুণিত হয়ে জটিল হয়েছে। আজ এই জটিল সমস্যার সমাধান করতে হলে চৌদ্দশ' বৎসর আগের সেই সরল আবেদনই যথেষ্ট নয়।
জানি, এখানে শাশ্বত বিধানের কথা টেনে এনে আমার মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে। বলা হবে, ইসলাম মানুষের তৈরী কোনো বিধান নয়, এ বিধান মহাজ্ঞানী আল্লার। তিনি সর্বজ্ঞাতা। এই চৌদ্দশ' বৎসর কেন চৌদ্দ কোটিও তাঁর জ্ঞান-সমুদ্রের জন্য বিন্দুবৎ। সুতরাং তিনি যে বিধান জারী করেছেন, তা চিরকালের, তা শাশ্বত।
এমনি একটা অন্ধ আবেগ এসে আমার মুখ চেপে ধরে বলৰে, টুপ, না লায়েক!' কিন্তু আমি শুধু না লায়েক নই, নাছোড়বান্দাও। তাই এই ধমকের মুখেও আমাকে বলতে হবে, যদি তাই হয়, তাহলে কোরান অবতরণের তেইশ বৎসরের মধ্যে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments