-
নিতাই দাসবাংলাদেশে কয়েক হাজার বছর আগে শিক্ষার সূচনা হলেও শিক্ষা আন্দো-লনের ব্যয়স কিন্তু খুবই কম। ইতিহাসের গত হওয়া দীর্ঘ অধ্যায়গুলোতে শিষ্য আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার কারণে। প্রাক ঐতিহাসিক যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই কোন অস্তিত্ব ছিলনা, যেমন ছিলনা অয়ার প্রসংগঠিত সংগঠন। অনুন্নত সই আদিম ও অসহায় জীবনে মানুষ টিকে থাকার প্রয়োজনেই নিঃশুর সংগ্রাম করে যেতে বাধ্য হতে।। অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় সেই দীর্ঘ কালপর্বে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে ভোলার কোন বান্ধব অবস্থায় পৃথিবীর গঙ্গার দেশের মতো বাংলা-দেশেক ছিল না।প্রাচীন বাংলায় আাইদের আগমনের পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করলে শিক্ষা অনানুষ্ঠানিকতার পর্যায় অতিক্রম করে আনুষ্ঠাটিক তথা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ
-
বল বীর—
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি,
নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর—
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
খোদার আসন 'আরশ' ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর—
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্ব্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ'লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি মানি নাকো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,
ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জ্জটী,
-
গাহি সাম্যের গান—
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?— পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্ফুসিয়াস্? চার্বআখ চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক—
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, যত সখ—
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? —পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,
তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত পুঁথি —কঙ্কালে?
-
যেখানেতে দেখি যাহা
মা-এর মতন আহা
একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,
মায়ের মতন এত
আদর সোহাগ সে তো
আর কোনোখানে কেহ পাইবে না ভাই।
হেরিলে মায়ের মুখ
দূরে যায় সব দুখ,
মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শীতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।
কত করি উৎপাত
আবদার দিন রাত,
সব সন হাসি মুখে, ওরে সে যে মা!
আমাদের মুখ চেয়ে
নিজে রন নাহি খেয়ে,
শত দোষে দোষী তবু মা তো ত্যজে না।
ছিনু খোকা এতটুকু,
একটুতে ছোটো বুক
যখন ভাঙিয়া যেত, মা-ই সে তখন
বুকে করে নিশিদিন
আরাম-বিরামহীন
দোলা দিয়ে শুধাতেন, ‘কী হল খোকন?’
-
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক মুক্তির ইতিহাস। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা মাত্রই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। প্রায় দুইশ বছরের লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে এবং ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলেও ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। এই প্রভাব সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও চিন্তার গভীরে সক্রিয় রয়েছে—যা সমকালীন তাত্ত্বিক পরিভাষায় কলোনিয়ালিটি (Coloniality) বা ঔপনিবেশিকতা নামে পরিচিত। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কলোনিয়ালিটিকে বোঝা যায় একটি ঐতিহাসিক উৎপাদন সম্পর্ক, শ্রেণি শোষণ ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিক রূপ হিসেবে। ঔপনিবেশিক
-
বৈশাখে আজ ঐ শাখে দ্যাখ্,
ফুটলো রঙের ফুলঝুরি;
দোল দিয়ে যায় আলতো বাতাস,
হাতছানি দেয় লালচে আকাশ,
স্বপন-লোকের পাচ্ছি আভাস—
আজকে সকল দিক জুড়ি'।
ফুটলো রঙের ফুলঝুরি।
বৈশাখে আজ বই রেখে আয়
বৈঠা হাতে ধর্ চেপে,
চল চলে যাই মাঝ-দরিয়ায়,
প্রীতির রঙে প্রাণ ভরি আয়,
খুশির নেশায় গান ধরি আয়,
সবাই মিলে যাই ক্ষেপে;
বৈঠা হাতে ধর্ চেপে॥
নদীর ওপার অধীর হ’ল
আবীর-গোলা রঙ মেখে,
ঝর্না ঝরে সোনার আলোর,
রংমশালের রঙীন ঝালর
দুলিয়ে দিয়ে আজ হ’ল ভোর,
জানিয়ে দিল সঙ্গে কে?
সাজলো ধরা রং মেখে।
শঙ্খ বাজে পাখীর গলায়,—
শঙ্খচিলের কণ্ঠেতে,
আসলো আজি মনোহরণ,
রঙীন গড়ন নবীন ধরন,
আমরা তারে
-
আজি এ প্রভাতে আলোর প্রপাতে
আমরা করিব স্নান,
জ্যোতির্ময়ের বন্দনা করি’
ছন্দে ধরিব গান।
প্রার্থনা মোরা করিব সবাই—
এসো এসো সুন্দর,
সরস পরশে বিকশিত কর
আমাদের অন্তর।
আমাদের মন কর নিস্পাপ,
সন্তাপ কর দূর,—
চিত্ত মোদের পবিত্রতায়
কর তুমি ভরপূর।
সত্যের শুভ-শুভ্র আলোতে
প্রাণ প্রদীপ্ত হোক,
প্রেম-প্রীতি আর শ্রদ্ধা-বিনয়ে
হৃদয় ভরিয়া রোক।
মানবজীবন কর সার্থক,—
দেহে মনে দাও বল—
প্রথম প্রভাতে এই প্রার্থনা
করি কিশোরের দল।
-
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর হাজার বছরের লড়াই সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অর্জন। শ্রমিক নারীর শ্রমের মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের লড়াইের এক অনন্য স্বীকৃতি। আজ থেকে ১১৭ বছর আগে শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের অর্জনকে পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার এ যুগে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নানা রকম পাঁয়তারা চলছে। নারী দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের তাগিদ, উদেগের সাথেই মূলত নারী মুক্তির লড়াই মূল প্রশ্নটির উত্তর জড়িত। কাজেই নারীর মুক্তির প্রকৃত লড়াইকে বা নারী অধস্তনতার প্রকৃত শত্রুকে আড়াল করার জন্য নারী দিবসের আঙ্গিককে আজ ভিন্ন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। ভোগবাদ, পুঁজিবাদ মুক্ত করে নারীর মুুক্তির লড়াইকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে আমাদের
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
- বিজ্ঞান
- কিশোর
- ছোটগল্প
- উপকথা
- চিরায়ত
- পৌরাণিক
- শিশুতোষ
- বই
- আন্দোলন
- গান
- ভাষা
- বইমেলা
- গদ্য
- নারীবাদী
- মার্কসবাদ
- সমাজতন্ত্র
- সাম্যবাদ
- অনুবাদ
- ঘুমপাড়ানি গল্প
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- ঢাকা
- বিশ্ববিদ্যালয়
- মুক্তিযুদ্ধ
- শৈশব
- স্মৃতিকথা
- নজরুল
- রবীন্দ্রনাথ
- ইসলাম
- কবিতা
- পুঁজিবাদ
- যুক্তরাষ্ট্র
- বাংলা
- জীবনী
- দর্শন
- কৃষি
- বিজ্ঞানী
- নির্বাচন
- জাতীয়তাবাদ
- ভাষণ
- লোককাহানি
- পাকিস্তান
- নদী
- চীন
- অতিপ্রাকৃত
- সঙ্গীত
- ভৌতিক
- পরিবেশ
- চিঠি
- মুদ্রণ ও প্রকাশনা
- পাখি
- খাদ্য
- গণিতশাস্ত্র
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
- ভারত
- নারী
উৎস
লেখক
- আকবর উদ্দীন (১)
- আবুল কাসেম ফজলুল হক (১)
- আব্দুল লতিফ (১)
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (২১)
- এম এ আজিজ মিয়া (২)
- এম এম আকাশ (২)
- এমদাদুল হক মিল্লাত (১)
- কনস্তানতিন পাউস্তোভস্কি (১)
- কবীর চৌধুরী (১)
- কল্পতরু সেনগুপ্ত (১)
- কাজী নজরুল ইসলাম (৪)
- কাজী মোতাহার হোসেন (১)
- কানিজ ফাতিমা (১)
- খায়রুল হাসান জাহিন (১)
- জওহরলাল নেহেরু (১)
- জগৎ ঘটক (১)
- দাউদ হোসেন (১)
- নারায়ণ চৌধুরী (৩)
- নিতাই দাস (১)
- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় (১)
- পাভেল পার্থ (২)
- প্রক্রিয়াধীন (১২)
- প্রতিভা বসু (১)
- ফিরোজ আহমেদ (১)
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১)
- বিকাশ সাহা (১)
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)
- মন্মথ রায় (১)
- মাৎভেই তেভেলেভ (৯)
- মিহিরকান্তি চৌধুরী (১)
- মোহাম্মদ মাসুম (১)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৬)
- রাজশেখর বসু (১)
- রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী (১)
- রেবতী বর্মন (৪)
- লুনা নূর (১)
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১)
- শিশির কর (১)
- শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় (১)
- সুনির্মল বসু (৩)
- হাকিম হাবিবুর রহমান (১)
- হায়দার আকবর খান রনো (১)
- হাসান তারেক (১)
- হীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.