-
১৪৫৬ সালে জার্মানির গুটেনবার্গ কর্তৃক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের অল্পদিনের মধ্যে তা সারা ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ঠিক একশ বছর পর অর্থাৎ ১৫৫৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুদ্রণযন্ত্র আমদানি করেন পর্তুগিজরা। সুতরাং এ উপমহাদেশে ছাপাখানার প্রবর্তক—পর্তুগিজরা।
১৫৫৭ সালে ছাপাখানাটি থেকে প্রথম বই ছাপা হয়। ধারণা করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে ১৫৬১ সাল পর্যন্ত গোয়ায় পাঁচটি বই ছাপা হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কারো চোখে একটি বইও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। প্রথম নিদর্শন হিসেবে যে বইটি এখনো আছে সেটা হলোCompendio Spirtiual Da Vida Christa। নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরিতে রাখা আছে বইটি। গোয়ার পর ছাপাখানার কেন্দ্র হয় কুইলনে। সেখান থেকে ১৫৭৮ সালে তামিল
-
আমাদের মিল্কী মামাকে নিয়ে হয়েছে এক মহামুশকিল।
এমনি তো মিল্কী মামার সবই ভালো। সারাদিন টো-টো করে ঘুরছে, রাস্তায় অন্য পাড়ার ছেলেদের সাথে মারামারি করছে, সবাইকে নিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খেয়ে নিজে সবার বিল দিচ্ছে। ফুটবল-হকি-ভলিবল নিয়ে খেলার মাঠে সকাল-বিকাল দৌড়াদৌড়ি করছে। সন্ধ্যায় ক্লাব ব্যাডমিন্টন-টেবিল টেনিস নিয়ে লাফালাফি করে রাত ন’টায় বাড়ি ফিরছে। এক কথায় দারুণ ফুর্তিবাজ, দুর্দান্ত ক্রীড়া-পাগল ছেলে।
কিন্তু মিল্কী মামার সামনে ক্রিকেট খেলার কথা উঠলে তো সেই মিল্কী মামা আর মিল্কী মামা নেই রেগে আগুন হয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে, উঠবে যেন টেংরাটিলার গ্যাসক্ষেত্র। এদিকে মিল্কী মামা বাদে আমরা অন্য সবাই তো ক্রিকেট খেলার দারুণ ভক্ত। আর শুধু ভক্ত বললে কমই
-
নানাবাড়ির ড্রয়িংরুমের নরম কার্পেটে বসে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছি রবিন, মনি আর আমি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ান ট্রফির ফাইনাল খেলছে ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমরা তিনজনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাপোর্টার। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে মাঝারি ধরনের একটা স্কোর করেছে। কিন্তু ওই রান চেজ করতে গিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রায় সব ব্যাটসম্যান একেবারে কুপোকাত। কিন্তু শেষদিকে ব্রাডস ও ব্রাউনের দুর্দান্ত লড়াই খেলাটাকে দারুণভাবে উপভোগ্য করে তুলল।
আমাদের একটু পেছনেই বড় সোফাটায়ার খুব আয়েশী ভঙ্গিতে বসে সত্যজিৎ রায়ের জমজমাট গোয়েন্দা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট’ পড়ছে টুটুল মামা। মাঝে-মধ্যে আবার ঢাউস সাইজের একটা নোটবুকে কী যেন লিখছে আর হাসছে মুচকি মুচকি।
খেলা শেষ। শেষ পর্যন্ত জিতে গেল ওয়েস্ট
-
গতকাল বিকালে আমাদের হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। এখন বেশ কদিন আর আমাদের স্কুলে যেতে হবে না। আমাদের স্কুলের নিয়ম হচ্ছে হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষার পর দশ থেকে বারোদিনের ছুটি। ছুটির দিনগুলিতে টিচাররা আমাদের খাতাগুলি দেখবেন আর আমাদের ফেল করাবেন। ছুটির শেষে তারা খুব হাসি-হাসি মুখ করে ক্লাসে ঢুকবেন। হাতে খাতাগুলি তো থাকবেই আরও থাকবে তিন-চারটা করে বেত। ফেল-করাদের পিঠে পড়বে চারটা-পাঁচটা ছ’টা করে বেত।
তবে মার থেকে বাঁচতে আমরাও করি নানান রকম কারিগরি। যেমন মাজুল মামা স্কুলে যায় ‘অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে’ মনি-রবিনের কাঁধে ভর দিয়ে। ওর মুখের দিকে চেয়ে বেত মারা তো দূরের কথা ওকে দুদিনের ছুটি দিয়ে দেন ক্লাস-টিচাররা। রবিন
-
রবিনের হাতে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা কাহিনি ‘দার্জিলিং জমজমাট!’ মনির হাতে ক্রীড়া-লেখক কাজী আবদুল আলীমের ‘খেলাধুলার আইন কানুন’ আর আমার হাতে প্রজাপতি প্রকাশনার বাংলা-অনুবাদ রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ‘ট্রেজর আইসল্যান্ড’। তিনজনের হাতেই বই কিন্তু কেউ পড়ছি না। পড়ার মতো মনের অবস্থা নেই কারও। তিনজনের মুখই খুব গম্ভীর, ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছি তিনজনই’।
শেষ পর্যন্ত আমিই প্রথমে একটু সামলে নিলাম। মনের রাগটা ভিতরে রেখেই রবিন-মনির গম্ভীর মুখের দিকে চেয়ে একটা গদগদমার্কা হাসি দিয়ে খুব নরম গলায় বললাম, ‘তা-হলে চল ময়নামতি। কুমিল্লা তো কাছেই, পয়সা খরচও কম হবে। ময়নামতি পাহাড় আর লালমাই পাহাড় তো দেখলামই, অষ্টম শতকে বানানো বৌদ্ধদের শালবন বিহারও দেখলাম। এ-ছাড়া ক্যান্টনমেন্টে
-
‘লোভে পাপ’—কথাটা কী নিদারুণ হতে পারে, সেটা এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলাটা বড়-পর্দার প্লাজমা টিভিতে দেখতে গিয়ে শাকের মামা আর আমি খুব ভালো করেই উপলব্ধি করেছিলাম। আর সেই উপলব্দিকে শুধু সাদামাটা উপলব্ধি বললে খুব কমই বলা হয়। আমাদের বাংলা স্যারের ভাষায় যাকে বলতে হয় একেবারে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি।
মারাত্মক সেই উপলব্ধির ফলে পরের দুতিন সপ্তাহ আমার কাছে দুনিয়ার সব খাবার এমনকি মুক্তগাছার ‘মুক্তাগাছার বিখ্যাত সেই গোপাল পালের মডা’ পর্যন্ত করলার মতো তিতা-বিচ্ছিরি লেগেছে। ও-দিকে রাগে দুঃখে শাকের মামা তার নিজের মাথার লম্বা-ঘন-কালো চুল পটপট করে ছিঁড়তে ছিঁড়তে মাথাটা প্রায় ‘জিদান-মার্কা’ করে ফেলেছে। মাঝে-মধ্যে আবার হিংস্র দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতে অন্যদের মাথার
-
বাংলাদেশে যখন মোট জনসংখ্যা ছিল মাত্র সাত কোটি, তখন দেশের এক কোটি লোক দেশ ছাড়তে বাধ্য হলো। কেন এক কোটি বাংলাদেশি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তার কয়েকটি রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক কারণ ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা যেতে পারে:
রাজনৈতিক:
শরণার্থীদের এক বৃহৎ অংশ ছিল হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এ সকল বাংলাভাষাবাসী হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা প্রধানত ভোট দিয়েছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এককভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদেরকে। কারণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে সব সময় বলে আসছে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী এবং এই দল নির্বাচিত হলে তারা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। সকল ধর্মের অনুসারীরা
-
শেষ পর্যন্ত মনে হয় আমরা আর কাজল মামার জন্য নানাবাড়িতে আসতেই পারব না। নানাবাড়িতে পা ফেলতে-না-ফেলতেই সে লেগে যাবে আমাদের পেছনে। কথায় কথায় নাকাল করবে, প্রতিটি কাজেই বাগড়া দিয়ে হয়রানি করবে অর্থাৎ যে করেই হোক আমাদের জব্দ করবে। আর আমাদের নাজেহাল নাস্তানাবুদ করতে পেরে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বে।
এই তো দুদিন আগে, নানু আমাকে বললেন, ‘বাবলা, যা তো ভাই, খোকাদের বাড়ি থেকে বড় ঝাঁকি-জালটা নিয়ে আয়। নদীতে নাকি বড় বড় গলদা চিংড়ি পড়েছে। শেষরাত্রে জালালকে পাঠাব মাছ ধরতে’।
সূর্যটা ডুবে গেছে অনেক আগেই। আকাশে কালো কালো মেঘ জমে, চাঁদ তারা সব ঢেকে দিয়েছে। কালো রাত্রি, চারদিক ছাপিয়ে কালো অন্ধকার নেমেছে।
-
নানাবাড়ি পুকুরঘাটে কাত হয়ে থাকা ঝাকড়া-পাতার চালতা গাছটায় বসে ভীষণ জটিল এবং চরম আপমানজনক একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করছিলাম আমরা চারজন অর্থাৎ দুলুমামা, রবিন, মনি আর আমি। সবার মুখই খুব গম্ভীর, রাগে থমথমে, উত্তেজনায় লাল। কেউ কোনো বলছে না। আসলে কথা বলার মতো মনের অবস্থাই নেই কারও।
বিষয়টা খুলেই বলি তা হলে—
আমাদের তোতা মামা থাকেন কানাডায়, সেখানেই চাকরি করেন, প্রচুর আয়-রোজগার। কদিন আগেই তিনি বাড়িতে বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। কেন জানি, সেই টাকা পাওয়ার পর থেকেই বাড়ির প্রায় সবাই খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, শরীর স্বাস্থ্যের হয়ে যাচ্ছিল চরম অবনতি। সমুদ্রের বাতাস গায়ে না লাগালে নাকি সেই স্বাস্থ্য উদ্ধারের আর
-
নানাবাড়ির দোতলার দক্ষিণের শেষ ঘরটায় বসে ডিভিডিতে ‘অ্যানাকোন্ডা’ ছবিটা দেখছি আমরা চারজনে। লিলি খালা বসেছে খাটে, রবিন, মনি আর আমি মেঝেয়, পুরু কার্পেটে। কিছুক্ষণ আগে লিলি খালা ডিভিডির কপিটা নিয়ে এসেছে রাস্তার মোড়ের আনন্দ ভিডিও থেকে, সাথে জুটে গেলাম আমরা তিনজনও। ওদিকে ছবিটি শুরু হতে-না-হতেই ননী মামা এসে হাজির, আমাদের পিছন থেকে টিভির দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
রোমহর্ষক সিনেমা। একদল অভিযাত্রী একটা বৈজ্ঞানিক অভিযানে যায় ব্রাজিলের আমাজান জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে যায় ভয়ঙ্কর এক অ্যানাকোন্ডা সাপের পাল্লায়। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় অভিযাত্রীদেরই। কিন্তু প্রায় পুরো ছবিতেই সাপটার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানা দেখে সত্যিই গায়ের রোম একেবারে
-
শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার আশার গুড়ে এক ট্রাক বালি ছিটিয়ে দিয়ে বৃষ্টিটা শুরুই হয়ে গেল। প্রথমে টিপটিপ ইলশেগুড়ি বৃষ্টি। আমরা এই ইলশেগুড়িকে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের কাজ চালিয়েই যেতে থাকলাম। কিন্তু সময় যতই এগিয়ে যেতে থাকল বৃষ্টির তোড়ও ততই বাড়তে থাকল এবং খুব অল্প সময় যেতে-না-যেতেই তা ঝমঝমে বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হলো।
খোলা আকাশের নিচে চাই করা সব জিনিসপত্র নিয়ে আমরা সবাই একেবারে আকূল-পাথারেই পড়ে গেলাম। ‘কী করব, কী করব’ কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। শেষে লিলিখালা কো ত্থকে যেন একটা বিশাল পলিথিনের পর্দা এনে ক্রিকেট-পিচ ঢাকার মতো করে চুলো আর খাবার দাবার সব ঢেকে দিল। নইলে সব ভিজে একাকার হয়ে একেবারে
-
দিনের পর দিন দারুণ গরমে আমরা সবাই একেবারে নাস্তানাবুদ। সকাল থেকেই শুরু হয় নতুন ব্লেডের মতো ধারালো রোদ্দুরের ঝালাপালা, সারাদিন চলতেই থাকে, মনে হয় যেন রুটি সেঁকার একটা গনগনে তন্দুরে আমাদের ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। পার্থক্যের মধ্যে তন্দুরের রুটিগুলি সেঁকা হয়ে গেলে লম্বা একটা শিক বিঁধিয়ে তুলে আনা হয়, আমাদের তোলা হচ্ছে না, সেঁকতে সেঁকতে মচমচে করা হচ্ছে।
আর বাতাসও নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে বইছে যা-ও বইছে সে-ও আগুন-গরম। শরীরটা ঠান্ডা তো হয়ই না বরং চোখে মুখে ফোস্কা পড়ার অবস্থা।
ইকবাল মামার ধারণা, সূর্যটা ক্রমশই নিচের দিকে নামছে, অচিরেই মানুষের মাথার উপর চলে আসবে এবং রোজ-কিয়ামত হয়ে যাবে। সকালে ঘুম
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.