কেনিয়ার ক্যানাকোন্ডা
নানাবাড়ির দোতলার দক্ষিণের শেষ ঘরটায় বসে ডিভিডিতে ‘অ্যানাকোন্ডা’ ছবিটা দেখছি আমরা চারজনে। লিলি খালা বসেছে খাটে, রবিন, মনি আর আমি মেঝেয়, পুরু কার্পেটে। কিছুক্ষণ আগে লিলি খালা ডিভিডির কপিটা নিয়ে এসেছে রাস্তার মোড়ের আনন্দ ভিডিও থেকে, সাথে জুটে গেলাম আমরা তিনজনও। ওদিকে ছবিটি শুরু হতে-না-হতেই ননী মামা এসে হাজির, আমাদের পিছন থেকে টিভির দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
রোমহর্ষক সিনেমা। একদল অভিযাত্রী একটা বৈজ্ঞানিক অভিযানে যায় ব্রাজিলের আমাজান জঙ্গলে। সেখানেই পড়ে যায় ভয়ঙ্কর এক অ্যানাকোন্ডা সাপের পাল্লায়। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় অভিযাত্রীদেরই। কিন্তু প্রায় পুরো ছবিতেই সাপটার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানা দেখে সত্যিই গায়ের রোম একেবারে খাড়া হয়ে যায়।
ছবিটা শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পরও আমাদের মুখ থেকে কোনো কথাই বের হচ্ছিল না। শেষে লিলি খালা নীরবতা ভেঙে বলল, ‘দেখলি কী বিশাল সাপ!’
আমরা কেউ মুখ খোলার আগেই ননী মামা বলে উঠল, ‘কোথায় বিশাল। আমার কাছে তো পিচ্চি পিচ্চিই লাগল। এরচেয়ে দেখতিস যদি...’।
‘ধ্যাত!’ ননী মামাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে মনি বলল, ‘দেখো মামা, সবসময় উল্টোপাল্টা কথা বলবে না তো। তুমি হয়তো জানো না সাপ-রাজ্যের সবচেয়ে বড় হলো অজগর। আর অজগর প্রজাতির সবচেয়ে বিশাল আর ভয়ঙ্কর হলো ওই অ্যানাকোন্ডা!’
ননী মামা হেসে বলল, ‘দিলি তো পল্টন-মাঠের রাজনৈতিক নেতাদের মতো একটা সত্য-মিথ্যা বক্তৃতা ঝেড়ে। আরে বোকা, অ্যানাকোন্ডাই যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ, জানলি কীভাবে?’
এবার মুখ খুলল রবিন। বলল, ‘বা! এটা তো সবাই জানে। ভূগোল বইয়ে লেখাও আছে।
রবিনের কথা শুনে অনেকক্ষণ দুলে দুলে হাসল ননী মামা। পরে হাসিটা থামিয়ে বলল, ‘বই! ভূগোল বই!! তোদের কী ধারণা বই-এর লেখাই সত্যি। তা-হলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন যা লেখা হচ্ছে, তার সবই কি ঠিক?’
রবিন বিরক্ত হয়ে বলল,‘কিসের সাথে কী। ইতিহাসে তো সত্যি-মিথ্যা লেখা হচ্ছে হরহামেশাই। কিন্তু ভূগোল তো আর বানিয়ে লেখা যায় না। সুতরাং ভূগোল বইয়ে লেখা আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ অ্যানাকোন্ডা, ব্যাস ঠিক!’
‘না ঠিক না’, ননী মামার কণ্ঠে দৃঢ়তার ছাপ—‘আমি বলছি অ্যানাকোন্ডা সাপের চেয়েও বড় সাপ আছে পৃথিবীতে। আর সাপেদের সেই বড়দাদার নাম ক্যানাকোন্ডা’।
‘ক্যানাকোন্ডা’! আমরা সবাই কোরাসে চিৎকার দিয়ে উঠি। ‘এমন নাম তো শুনিনী কখনো!’ ‘তোরা তো কোন এলেবেলে’, ননী মামার ঠোঁটে অবজ্ঞার হাসি। ‘তোদের ভূগোল বই-এ বিখ্যাত সেই লেখকদের জিজ্ঞেস করে আয়, আমি নিশ্চিত তারাও ক্যানাকোন্ডার নাম শোনেনি’।
‘তা-হলে তুমি জানলে কী করে?’ আমি প্রশ্ন করি।
‘আরে তোদের মতো বই পড়া জ্ঞান আমার নয়, বুঝলি গর্দভের দল। ক্যানাকোন্ডাকে নিজ চোখে দেখেছি, নিজ কানে শুনেছি আর নিজ হাতে..., ‘কথাটা শেষ না করে মৃদু মৃদু হাসতে থাকে ননী মামা।
এবার আমরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠি, ‘কবে। কখন! কোথায়?’
‘সে কি আর এখানে রে! দূরে, বহুদূরে! সেই সুদূর কেনিয়ায়’, ননী মামার কণ্ঠে নাটকীয়তার সুর। ‘আর কেনিয়া ছাড়া হবেইবা কোথায়। সাপজাতির রাজাধিরাজ মিস্টার ক্যানাকোন্ডার হঠাৎ হঠাৎ দেখা মেলে তো শুধু কেনিয়ার গভীর অরণ্যেই’।
‘কেনিয়া! তুমি আবার কেনিয়া গেলে কবে’, অবাক হয়ে বলল লিলি খালা।
‘গিয়েছি রে, গিয়েছি। আর শুধু কেনিয়া কেন—বলিভিয়া, আলবেনিয়া, মোঙ্গলিয়া কোথায় এ বান্দার পা পড়েনি! হিমালয়ে শ্বেত-ভাল্লুকের মুখোমুখি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাজান নদীতে বড়শি দিয়ে ধরেছি হিংস্র পিরানহা। আর ঘরের কাছে সুন্দরবনে গিয়ে রয়েল বেঙ্গল তো মেরেছি ডজন ডজন। আসলে তোদের কাছে কিছু জানাই না। নিজের ঢাক নিজে বাজাতে লজ্জা লাগে তো তাই! ননী মামা একটু লাজুক হাসি দিয়ে হাসল। তারপরে একে একে আমাদের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments