চালিয়াত

শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার আশার গুড়ে এক ট্রাক বালি ছিটিয়ে দিয়ে বৃষ্টিটা শুরুই হয়ে গেল। প্রথমে টিপটিপ ইলশেগুড়ি বৃষ্টি। আমরা এই ইলশেগুড়িকে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের কাজ চালিয়েই যেতে থাকলাম। কিন্তু সময় যতই এগিয়ে যেতে থাকল বৃষ্টির তোড়ও ততই বাড়তে থাকল এবং খুব অল্প সময় যেতে-না-যেতেই তা ঝমঝমে বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হলো।

খোলা আকাশের নিচে চাই করা সব জিনিসপত্র নিয়ে আমরা সবাই একেবারে আকূল-পাথারেই পড়ে গেলাম। ‘কী করব, কী করব’ কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। শেষে লিলিখালা কো ত্থকে যেন একটা বিশাল পলিথিনের পর্দা এনে ক্রিকেট-পিচ ঢাকার মতো করে চুলো আর খাবার দাবার সব ঢেকে দিল। নইলে সব ভিজে একাকার হয়ে একেবারে জাউ-খিচুড়ি হয়ে যেত।

ব্যাপারটা হয়েছে কী, আমরা সব ক’টি খালাতো আর মামাতো ভাইবোন মিলে নানা ভাইয়ের মস্ত বড় নারকেল-বাগানে বনভোজনের আয়োজন করেছিলাম। নেতৃত্বে-যথারীতি আমাদের চিরাচরিত নেতা লিলি খালা। খাওয়া-দাওয়াটা বড় নয় হইচই আর মজা করাটাই আসল। আমাদের সাথে মাসুল মামাতো প্রথম থেকেই ছিল, শেষে এসে জুটল সেজো খালুর দুই ভাগ্নে মনি আর রবিন। যাদের তিনজনকে হইহল্লার তিন জেনারেল বললেও কমই বলা হয়, বলতে হয় তিন ফিল্ডমার্শাল।

বনভোজনের আয়োজনটাও হয়েছিল দারুণ। চাল, ডাল, আলু, মাছ, মুরগি, ডিম, ডেকচি, পাতিল, থালা-বাসন সবই এনে ঢাঁই করে রাখা হয়েছিল। মাঝে-মধ্যেই অনেকে ভুল করে লবু আনে না। আমাদের সে ভুলও হয়নি, মোল্লা সল্ট এনেছিলাম দুই প্যাকেট। আমাদের এইসব অনুষ্ঠানের রান্না-বান্নার প্রধান ভূমিকা সবসময় লাবলুই পালন করে। (সেজন্যই ওকে আমরা টমি মিয়ার ছোট ভাই বলে খ্যপাই। অবশ্য সে না ক্ষেপে গর্বিতই হয়) আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইট আর মাটি দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর করে উনুন বানানোর কাজ প্রায় শেষই করে এনেছিল ও। আর তখনই কিনা আকাশের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

এই আশ্বিন-কার্তিক মাসে আকাশের মেজাজের কোনো ঠিক-ঠিকানা থাকে না। যেমন থাকে ঝলমলে রোদ্র, তেমনি থাকে ঝমঝমে বৃষ্টি। তাই বৃষ্টির কথাই মাথায় রেখে আমরা প্রতিদিনই টিভিতে মনোযোগ দিয়ে আবহাওয়া বার্তা শুনতাম গত কদিন ধরে আকাশে বৃষ্টির লেশমাত্র ছিল না। একেবারে ঝকমকে সুনীল আকাশ। আবহাওয়া রিপোর্টে প্রতিদিনই বলে যাচ্ছিল বৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। আজ সকালে টিভিতে এক চশমাপরা টাকমাথা লোক প্রথমে হাতে একটা লম্বা লাঠি নিয়ে পেছনের পর্দায় কী যেন বোঝানোর চেষ্টা করল, শেষে মেয়েলি গলায় একঘেয়ে সুরে বলে গেল আজ বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। আকাশ থাকবে ঝকমকে। তখনই অবশ্য আমাদের বোঝা উচিত ছিল আজ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। টিভির আবহাওয়া বার্তার রিপোর্টে সব সময় উল্টাই হয়। তবে সকালে আকাশটা বেশ পরিষ্কারই ছিল। কিন্তু এখন দেখছি চারদিক থেকে দলে দলে কালো মেঘ এসে আকাশটা কানায় কানায় ঢেকে ফেলেছে। আর বৃষ্টির মাত্রা বাড়ছে তো বাড়ছেই।

সবাই মনটন খারাপ করে দৌড়ে এসে নানাবাড়ির দোতলায় ওঠার সিঁড়ির নিচে গিয়ে বসে আকাশের দিকে রাগত চোখে চেয়ে রইলাম। কিন্তু আকাশ আমাদের রাগকে কেয়ার তো করলই না বরং স্পিডটা থার্ড গিয়ারে নিয়ে গেল অর্থাৎ শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। যাকে ইংরেজিতে বলে ক্যাটস এন্ড ডগস।

ছোট্ট পিচ্চির দল ‘গপ্পো বলো গপ্পো বলো’ বলে লিলি খালা আর রবিনকে ধরে বসল। ওরা দুজনই দারুণ গল্প বলতে পারে। কিছুদিন ধরে আবার পত্রিকায় লিখতেও শুরু করেছে। ভালোই লেখে মনে হয়, নইলে পত্রিকার সম্পাদকরা ছাপবেই-বা কেন। লিলি খালা শিবরাম চক্রবর্তীর একটা হাসির গল্প শেষ করতেই, রবিন শুরু করল সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা ফেলুদার গল্প।

আমি আর মনি ‘গপ্প শোনে ছোটরা’ এমন একটা ভাব নিয়ে গম্ভীর গলায় মঙ্গলগ্রহে কবে মানুষের পা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice