-
লিন্টু আর পিন্টু দু ভাই। যমজ। একই ক্লাসে পড়ে। তবে পড়াশুনার সঙ্গে তাদের ঘোড়াই সম্পর্ক ছিল। শয়তানি ও বাঁদরামিতে দুজনেই ওস্তাদ। দুটো ছোটখাট বিছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।
ক্লাস সিক্সে পর পর দুবার যখন ওরা ফেল করল তখন ওদের আব্বা হায়দার সাহেব ঠিক করলেন যে, ওদের জন্যে এবার প্রাইভেট টিউটর রাখতে হবে। রাখলেনও একজন মাস্টার। কিন্তু কয়েক দিন পরই বিদেয় হতে হল মাস্টারকে। ব্যাপারটা আর কিছুই নয়।
মাল্টার সাহেব পরম আরামে চেয়ারে বসে চোখ বুজে নিদ্রাদেবীর আরাধনা করছিলেন।
আর তখনই হায়দার সাহেবের দৃষ্টিতে পড়ল ব্যাপারটা। পরের দিনই বিদেয় করে দিলেন মাস্টারকে। এ রকম ফাঁকিবাজ মাস্টারকে তিনি কিছুতেই বরদাশত করতে পারেন
-
সেদিন বিকেলে ঝন্টুদের রোয়াকে বসে আমি, ঝন্টু আর খুরশীদ গল্প করছিলাম। এমন সময় নোটন এসে উপস্থিত হলো। এসেই বলল: আষাঢ়ে গল্প হচ্ছে বুঝি।
কটু বলল: আষাঢ়ে গল্প করব কেন? আমরা করছি শ্রাবণী গল্প।
আমি আরও একটু বিদ্যা জাহির করবার জন্য বললাম: আরে এতো কার্তিক মাস। কার্তিক মাসে শ্রাবণী গল্প করে নাকি?
খুরশীদ বলল: ঠিক বলেছিস। কার্তিক মাসে কার্তিকী গল্প বলাই ভালো। 'ক' দিয়ে যে সব লোকের নাম হয় তাদের গল্প বল।
নোটন বলল: কায়েদে আজমের গল্প বল।
কটু ফস করে বলল: কায়েদে আযমের কথা আমরা সবাই জানি। কালিদাসকে নিয়েই আরম্ভ কর।
খুরশীদ বলল: দূর, তোদের ঐ কালিদাস টালিদাস বাদ দে।
-
এ্যানুয়েল পরীক্ষা শেষ। সারাদিন অবসর। কি যে করব ভেবেই পাই না। সারাদিন খালি খালি বসে মোটেই ভালো লাগে না।
এমন সময় একদিন কামাল ভাই বলল: ফোকলা, একটা কাজ করলে হয় না?
আমি উৎসুক হয়ে উঠলাম: কি কাজ?
: ভাবছি, এখন তো সারাদিনই অবসর, একটা নাটক করলে হয় না?
: নাটক?
মন্টু হঠাৎ হেসে উঠে বলে বসল: তোমরা করবে নাটক, তবেই সেরেছে। তোমাদের দ্বারা যদি নাটক হয়—
কামাল ভাই ঘুষি বাগিয়ে বলে উঠল: পাজী কোথাকার। কেন হবে না শুনি?
মন্টু ভয়ে ভয়ে চুপ করে গেল।
আমি কামাল ভাইকে একটু উৎসাহ দিয়ে বললাম: তবে একটা নাটক সিলেকশন করে ফেলো।
ঝন্টু এতক্ষণ চুপ
-
ছোট্ট মফস্বল শহর। তাই খবরটা ছড়িয়ে পড়তে বেশীক্ষণ লাগল না। পিন্টুরা তখন বাড়ীর সামনের মাঠটায় খেলা করছিল। তারাও খবরটা শুনেছে। যে সার্কাস পার্টিটা এসেছে, তাদের একটা বাঘ খাঁচা থেকে পালিয়েছে। খবরটা শুনে সারা শহরে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছে। যে যার বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তাঘাটে থাকতে কেউ আর সাহস করছে না। কে জানে কখন কোন্দিক থেকে এসে হঠাৎ করে ঘাড়টা ভেঙে দেবে। তাই লোক চলাচল খুব কম। শহরের সর্বত্রই যেন একটা চাঞ্চল্য। একটা চাপা বিভীষিকা।
কিন্তু পিন্টু ও তার সঙ্গী-সাথীরা এতে মোটেই ভয় পেল না। তারা যেন একটু খুশীই হয়ে উঠেছে। পিন্টু শওকতকে ডেকে বলল: এতদিন পরে একটা সত্যিকারের এডভেঞ্চারের স্বাদ
-
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের চল্লিশ বছরের চিত্র সাধনায় যবনিকা পড়ে গেল। বাঙলাদেশের এই ক্লান্তিহীন শিল্পী তাঁর কর্মক্ষেত্র ঢাকায় তাঁর সমাপ্ত ও অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের নানাধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাঝখানটিতে চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে পড়লেন। মৃত্যুর কারণ ফুসফুসে ক্যানসার। চার বছর আগে স্ট্রোকে তাঁর জীবনসংশয় হয়েছিল। তাঁর কব্জি এবং আঙুল ভিতরে ভিতরে জখম হয়েছিল। কিন্তু অনেক কাজ পড়ে আছে এবং সাধারণভাবে বাঙলাদেশের ছবি আঁকার সাধনায় যারা নেমেছে, তাদের লড়াইকে এগিয়ে নেবার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে নিজস্ব ছবি আঁকার পদ্ধতিকে আরো কঠিন ভাবে সামলে জানতে হবে—এই তাগিদ তাঁকে সহায়তা করেছিল অরোগ্যের সংগ্রামে। তিনি জয়ী হয়েছিলেন বলা যেতে পারে। নতুন শক্তি ঢেলে তিনি ছবির পর ছবি
-
বরিস ইয়েফিমোভিচ আমায় একদিন জানালেন, ‘আজ সন্ধ্যায় বৈজ্ঞানিকদের সঙ্গে একটা আসর করা যাবে।’
জানতাম জাহাজে পলিয়নটলজিস্ট নিজোভস্কি ছাড়াও ভাসিলিয়েভ নামে একজন ভূগোলবিদও এসেছেন। দূরে দীপপুঞ্জে অভিযানের দায়িত্ব তাঁর।
তাছাড়া একজন… জ্যোতির্বিজ্ঞানীও ছিলেন।
‘সেদোভ’-এ তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল যখন জাহাজটা থেমেছিল ‘উস্তিয়ে’তে। একজন ভাগ্যহত ক্যাপ্টেন তার জাহাজের বোটগুলো হারিয়ে বসে। তাকে কতগুলো বোট দেওয়া হচ্ছিল জাহাজ থেকে।
সেদিন ভোরেই আমি এসে দাঁড়িয়েছিলাম ডেকে। তীরভূমিটা যদি দূর থেকেও খানিকটা দেখা যায় এই লোভে। কয়েক মাস কেটে গেছে তীর চোখে পড়েনি।
দিগন্তে ধু ধু করছিল কেবল একটা ফালির মতো...
তবু ওইটেই মহাভূমির তট!
ভোরবেলার আকাশের মতোই পানিটা কমলা রঙের, তার ওপর দেখা গেল একটি
-
বর্তমান বিশ্বে যে-কটি সমস্যা আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করেছে, তার মধ্যে প্যালেস্টাইন সমস্যাটি অন্যতম। প্যালেস্টাইন হল আরব দুনিয়ার একটি অংশ। প্যালেস্টাইনের ভৌগোলিক অবস্থান ও তার প্রাকৃতিক সম্পদ বিচার করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে আরব দুনিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটিকে সাম্রাজ্যবাদ কেন তার তাঁবেদার রাষ্ট্রের কুক্ষিগত করে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আরব দুনিয়ার এই ছোট্ট অংশটুকুর পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, উত্তরে লেবানন, পূর্বে সিরিয়া ও জর্ডান নদী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও সিনাই অঞ্চল। অর্থাৎ ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার সঙ্গে আরব দুনিয়া এই ছোট্ট অংশটুকুর মাধ্যমে যুক্ত। প্যালেস্টাইনের আয়তন হল ২৭,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। অতীতে অনেকে এই অংশটুকুকে ‘সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল’ বলে উল্লেখ করেছেন।
-
১৯৫২ সালে যখন বিশ শতকের বৃহত্তম নিৰ্ব্বুদ্ধিতা ‘ঠাণ্ডা লড়াইয়ে’ গোটা দুনিয়া শ্বাসরূদ্ধ তখন প্রফেসর বার্ণ বিপুল এক শ্রোতৃমণ্ডলীর সামনে আইনস্টাইনের এই বিষণ্ন শ্লেষোক্তির পুনরুক্তি করেন, ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে যদি লড়া হয় পরমাণু বোমা নিয়ে, তাহলে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে লড়তে হবে লাঠি দিয়ে…’
প্রফেসর বার্ণ ‘বিশ শতকের সবচেয়ে বিশ্বজনীন বৈজ্ঞানিক’ বলে পরিচিত। তাঁর মুখ থেকে এই কথা বেরনয় যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় সেটা একটা সাধারণ বক্রোক্তির চেয়ে অনেক বেশি। চিঠির বন্যা আসতে শুরু করল, কিন্তু বার্ণ তার জবাব দিতে পারেননি; ঐ বছরেরই শরৎকালে, মধ্য এশিয়ায় তাঁর দ্বিতীয় ভূপদার্থ অভিযানে মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ছোটো অভিযানটায় তাঁর একমাত্র সঙ্গী ছিলেন ইঞ্জিনিয়র নিমায়ের। তিনি পরে
-
ঝন্টু যে, একেবারে সক্কাল বেলা? আমাদের বাড়ীর বাইরের বারান্দায় বসে মুড়ি চিবুতে চিবুতে প্রশ্ন করলুম। ঝন্টু আমার কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে বলল: সকাল। এই বেলা নটার সময় তোর সকাল হ'ল?
আমি আরও একমুঠো মুড়ি মুখে পুরে দিয়ে বললুম: আমি সে কথা বলছি নে। বলছিলুম যে তুই তো কোনদিন এত সকালে বাড়ী থেকে বেরুস না। তোর আব্বা না তোকে দশটার আগে বাড়ী থেকে বেরুতে নিষেধ করেছেন?'
: আব্বা তো নেই, অফিসের কাজে সিলেট গেছেন। নইলে কি আর এত সকালে বেরুতে পারি?
আমি কোন কথা না বলে একমনে মুড়ি চিবুতে লাগলুম। ঝন্টু কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল: তোর কোন ভদ্রতা জ্ঞান নেই দেখছি।
-
বড় মামা এসেছিলেন। আজ তিনি চলে যাবেন। যাওয়ার আগে আমাকে ৫টি টাকা দিয়ে বললেন: রসগোল্লা কিনে খাস।
আমি ত মামার হাত থেকে ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে বোঁ করে একেবারে গেটের বাইরে রাস্তায় গিয়ে পড়লাম। রাস্তায় নেমেই হুমড়ি খেয়ে একটা রিকশার সাথে ধাক্কা খেতে খেতে বেঁচে গিয়ে ছুট লাগালাম। পেছনে তখন রিকশাওয়ালা আমাকে উদ্দেশ্য করে মেশিনগানের মত গালির শ্লোগান তুলছে। রিকশাওয়ালার গালি যে শ্লোলি বেরোচ্ছিল তা নয়, বরঞ্চ বুইক গাড়ীর মত একটু কুইকই বেরোচ্ছিল। আমার তখন ওসব দিকে খেয়াল ছিল না। হাতে টাকা পেয়ে মার্চ মাসের পয়লা তারিখে ডবল মার্চ করতে করতেই চললাম। কিন্তু রমনা পার্কের সামনে এসেই দেখি কামাল ভাই
-
কামাল ভাইকে বললাম: আজ মোহামেডান ভিকটোরিয়ার খেলা। টিকিট কাটবে না?
কামাল ভাই বলল: খেলা ত বিকালে, এখন কোথায় যাচ্ছিস?
: সে কি। এডভান্স টিকিট করতে হবে না?
: দূর, দূর। এসব খেলা আবার টিকিট করে দেখব আমি? বিনে টিকেটেই যাব।
: পাসে যাবে বুঝি? কিন্তু জান তো এটা চ্যারিটি ম্যাচ। এই ম্যাচে সব পাস বন্ধ।
: আরে না, না, পাসে যাব না।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম: তবে কি করে যাবে?
কামাল ভাই হো হো করে হেসে উঠল: ওসব তোরা বুঝবি নে।
আমি বললাম: ও বুঝেছি। তুমি পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চোরের মত লুকিয়ে যাবে।
: আরে ছোঃ। চোরের মত যাব কেন?
-
কামাল ভাইয়ের দাপটে এখন পাড়ায় টিকে থাকাই দায়। এবার মাত্র কামাল ভাই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিল। আর দু'মাস পরেই ফল বের হবে। কিন্তু তার আগেই নিজের পরীক্ষার ফলের কথা সুযোগ পেলেই আমাদের বলতে ছাড়ে না। আমরা হয়ত মাঠে বসে চীনা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে খাচ্ছি, এমন সময় কামাল ভাই এসে আমিরী চালে বসে বলতে আরম্ভ করল: বলি কি খাওয়া হচ্ছে?
আমাদের মধ্যে একজন চীনা বাদামের খোসাগুলোর উপর তাড়াতাড়ি বসে বলত: কই, কিছুই ত খাচ্ছি না।
: হুঁ, আমার সাথে মিথ্যে কথা? জানিস, এবার আমি ম্যাট্রিক দিয়েছি। আর ফার্স্ট ডিভিশনে ত পাস করবই। এবারের প্রশ্নগুলোর প্রত্যেকটিই তো আমার কমন পড়েছিল। একটা প্রশ্ন এতই
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.