- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
কামাল ভাইয়ের স্বদেশ প্রেম
কামাল ভাইকে বললাম: আজ মোহামেডান ভিকটোরিয়ার খেলা। টিকিট কাটবে না?
কামাল ভাই বলল: খেলা ত বিকালে, এখন কোথায় যাচ্ছিস?
: সে কি। এডভান্স টিকিট করতে হবে না?
: দূর, দূর। এসব খেলা আবার টিকিট করে দেখব আমি? বিনে টিকেটেই যাব।
: পাসে যাবে বুঝি? কিন্তু জান তো এটা চ্যারিটি ম্যাচ। এই ম্যাচে সব পাস বন্ধ।
: আরে না, না, পাসে যাব না।
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম: তবে কি করে যাবে?
কামাল ভাই হো হো করে হেসে উঠল: ওসব তোরা বুঝবি নে।
আমি বললাম: ও বুঝেছি। তুমি পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চোরের মত লুকিয়ে যাবে।
: আরে ছোঃ। চোরের মত যাব কেন? পুলিশের সামনে দিয়ে যাব। পুলিশের সাধ্য নাই, আমায় কিছু করে। জানিস সেবার পাটনায় গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি যে…
এখন যদি কামাল ভাইয়ের গল্প বসে শুনি তবে আমার ভাগ্যে আর টিকিট জুটবে না। তাই বললাম: যাঃ দেরী হয়ে গেল। এখন আমি চললাম।
বলেই চলে এলাম।
বিকালে গেলাম খেলা দেখতে। স্টেডিয়ামের গেটের কাছে এসে দেখি যে, সেখানে বেশ ভিড় জমে উঠেছে। অনেক কষ্টে ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখলাম যে, এক বিরাট বপু পুলিশ কামাল ভাইয়ের হাত ধরে বলছে: এ্যাঁ, আমি একটু ওদিকে চেয়েছি, আর ছোঁড়াটা এই ফাঁকে ঢুকে। যেতে চেয়েছিল। আজকালকার ছোকরারা তো ভয়ানক…
ভিড়ের মধ্যে কে একজন মন্তব্য করে উঠল: সাংঘাতিক। আরেকজন বলে উঠল: হ, হ, আমি অইলে কিলাইয়া আলুর ভর্তা কইর্যা ফেলাইতাম। পয়সা লইয়া খেলা দেখবার আইতে পারে না?
আরেক জন গুরুগম্ভীর ভাবে বলল: ছেলেদের কোন দোষ নেই। ওদের অভিভাবকরা যদি ওদের আট আনা পয়সা না দেয় তবে কি করে খেলা দেখবে?
এবার আমি কাতর অনুনয় করলুম: ছেড়ে দিন। হয়ত ভুলে একাজ করে ফেলেছে। আমার কথায় সায় দিয়ে আরেক জন বলল: ছেড়ে দিন, ছেড়ে দিন।
এবার পুলিশটির বোধ হয় একটু দয়া হল। বলল: ঠিক আছে। আজ তোমাকে ছেড়ে দিলাম। আর কোনদিন এরকম কর না বুঝলে?'
কামাল ভাই মাথা নত করে ধীরে ধীরে চলে গেল। আমিও বিজয়গর্বে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলাম। ভাবলাম, কামাল ভাইতো আমার কথাতেই মুক্তি পেল। কিন্তু কামাল ভাইয়ের সেই যমদূতের মত বদরাগী কাকা যে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তা লক্ষ্যই করি নি।
খেলা শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়াম থেকে বের হয়েই কামাল ভাইয়ের সাথে দেখা। বেশ ভারিক্কি চালেই বললাম: কিহে, বিনি টিকিটে যেতে পারলে না? আমি যদি সেখানে না থাকতাম তাহলে তো হাজত ঘরে বসে এতক্ষণ মশা মারতে।
কামাল ভাই কোন কথা না বলে হাঁটতে লাগল। তাদের বাসার সামনে এসে বললাম: তুমি কি এখন বাসায় যাবে, না মাঠে যাবে? কামাল ভাই বলল: বাসায়।
বলেই সিঁড়ি বেয়ে বারান্দায় উঠে গেল। আমি যাবার জন্য ফিরছি, এমন সময় কানে এল কামাল ভাইয়ের কাকার ব্যাঘ্রগর্জন। ফিরে দেখি যে, তার কাকা তাকে সপাং সপাং করে বেত মারছে। কামাল ভাই আর্তনাদ করে উঠছে। আর মাঝে মাঝে তার কাকা হুক্কার দিয়ে উঠছেনঃ বদমায়েশ ছেলে কোথাকার। এই বয়সেই চুরি করে খেলা দেখিস। বাপ-দাদার ইজ্জত মারবি
তুই। আজ তোর হাড়-মাংস এক করে ছাড়ব।
আবার সপাং সপাৎ করে কামাল ভাইয়ের পিঠে চাবুক পড়তে লাগল। তার কাকা তাকে কানে ধরে এক হেঁচকা টান দিয়ে ঘরের ভিতর নিয়ে গেলেন। আমি বাড়ীর পথ ধরলাম।
পরদিন বিকালে কামাল ভাইয়ের সাথে দেখা হতেই দেখলাম তার হাতে বড় বড় দগদগে দাগ। গতকালের মারের স্বাক্ষর। কামাল ভাইকে বললাম: উঃ কি মারটাই না মেরেছে কাল!
কামাল ভাই বলল:
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments