- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
গুপ্তধন
রোববার সকাল। বেলা তখন নটা-দশটা হবে। আমরা সবাই ঝন্টুদের রোয়াকে বসে রয়েছি। বছরের নতুন ক্লাস আরম্ভ হবে কাল। তাই পড়াশোনার বড় একটা ঝামেলা নেই। সেইজন্য বসে বসে আড্ডা দেওয়া হচ্ছিল। এই সময় কটু বলল: জানিস কাল আমার বাঘা মামা আসছে।
আমি চমকে উঠলাম। কারণ 'ব্যাঘ্র' শব্দটার উপর আমার একটুও আস্থা নেই। শব্দ থেকে ওটা যে কখন আসল জিনিস হয়ে ওঠে, বলা যায় না।
বাঘ দেখার অভিজ্ঞতা একবার আমার হয়েছিল। না, চিড়িয়াখানায় নয়—বাঘের মাতৃভূমি একেবারে সেই সুন্দরবনে। ছোট চাচার কাছে একবার গিয়েছিলাম সুন্দরবনে। আমাকে নিয়ে গেলেন সুন্দরবন দেখাতে। ফরেস্ট অফিসের ডাক বাংলা থেকে হাঁটা পথে চললাম বনের দিকে। বনে গিয়েই বলতে আরম্ভ করলাম: ছোট চাচা বাঘ দেখব।
ছোট চাচা বললেন: সে কি। বাঘ দেখবি কিরে। বাঘ দেখলে ভয়েই ফ্লাট হয়ে যাবি। আর বাঘ দেখাতো সোজা কথা নয়, একেবারে গভীর জঙ্গলে যেতে হবে।
আমি তবুও বললাম: বাঘ দেখব। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ 'হালুম' গর্জন শোনা গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে সামনের ঝোপটা নড়ে উঠল। দেরী না করে ছোট চাচা আমাকে নিয়ে অনেক কসরৎ করে সামনের সুন্দরী গাছটায় উঠে পড়লেন।
এমন সময় দেখি সামনের ঝোপ থেকে বেরিয়ে আসছে এক বাঘ। দেখে তো আমার শরীরে ম্যালেরিয়া জ্বর আরম্ভ হলো। কাঁপতে কাঁপতে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। ভাগ্যিস ছোট চাচা আমার এক হাত ধরে রেখেছিলেন। দেখলাম চিড়িয়াখানায় দেখা বাঘ আর এই সুন্দরবনের রাজকীয় বাঘের মধ্যে অনেক তফাৎ। চিড়িয়াখানার সেই আধমরা ও নিস্তেজ বাঘ দেখে বাঘের সম্বন্ধে ধারণাটাও এমন হয়ে উঠেছিল যে, এই সুন্দরবনের বাঘকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতই মনে হতে লাগল। বাঘটার মুখ থেকে অনবরত লালা ঝরছিল। তার বিকট হুঙ্কারে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠতে লাগল।
এদিকে বাঘটি বিকট হুঙ্কার দিয়ে এক বিরাট লাফ দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে ছোট চাচার হাতের বন্দুক গর্জে উঠল। দু-দুটো বুলেট ছুটে গিয়ে লাগল বাঘের পেটে। তবু বাঘটি শান্ত হল না। আহত হয়ে আরো ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল। সে বোধ হয় আরেকটি লাফ দেওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই ছোট চাচার বন্দুক থেকে আরেকটি বুলেট ছুটে গিয়ে বাঘের মাথা ভেদ করে চলে গেল। বাঘ হুমড়ি খেয়ে মাটির উপর পড়লো।
সেই থেকে বাঘ সম্বন্ধে আমার ভয়। তাই পারতপক্ষে আমি 'ব্যাঘ্র' শব্দটি উচ্চারণই করতাম না। কারণ সুন্দরবনে গিয়ে বাঘের নাম উচ্চারণ করাতেই তো বাঘ এসে হাজির হয়েছিল। তাই মনে করতাম 'ব্যাঘ্র' শব্দটি উচ্চারণের সাথে সাথেই হয়তো হালুম করে একটা শব্দের সঙ্গে কোন একটি ভয়ঙ্কর জিনিস ঘাড়ে লাফিয়ে পড়তে পারে।
তাই ঝন্টু যখন বাঘের কথা বলল তখন আমি চমকে উঠলাম। ঝটু হো হো করে হেসে উঠল। বলল: এই ক'দিনের ভেতর তুই ভুলে গেলি। সেই যে আমি তোকে আমাদের গ্রামের বাঘা মামার কথা বলেছিলাম, সেই বাঘা মামাই আসছে। আমি বললাম: ও সেই বাঘা চৌধুরীর কথা বলছিস?
'হাঁ, সেই বাঘা চৌধুরীই কাল আসছে।' তারপর কামাল ভাইয়ের দিকে চেয়ে বলল: তুমি কিন্তু আমাদের বাসায় যেয়ো কামাল ভাই।
কামাল ভাই বলল: দূর দূর, কোন গেঁয়ো কে আসছে তার জন্যে আমরা যাব তার কাছে?
ঝন্টু বলল: হুঁ, এখনো তাকে চেনোনি। তার নাম বাঘা চৌধুরী। তোমাকে ঘোল খাইয়ে ছাড়তে পারে।
কামাল ভাই বলল: যা যা বাজে বকিসনে। তারপর আমাদের দিকে চেয়ে বলল: ফোকলা, নূরুল তোরা কেউ যাবি নে। যদি যাস তবে মনে রাখবি, তোদের যদি আমি
কথাটা অর্ধেক বলেই কামাল ভাই আমাদের দিকে চেয়ে একটা ঘুষি দেখিয়ে উঠে চলে গেল।
এর পরদিন। কামাল ভাইয়ের নিষেধ সত্ত্বেও
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments