মঙ্গল গ্রহের মানুষ

কামাল ভাইয়ের দাপটে এখন পাড়ায় টিকে থাকাই দায়। এবার মাত্র কামাল ভাই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিল। আর দু'মাস পরেই ফল বের হবে। কিন্তু তার আগেই নিজের পরীক্ষার ফলের কথা সুযোগ পেলেই আমাদের বলতে ছাড়ে না। আমরা হয়ত মাঠে বসে চীনা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে খাচ্ছি, এমন সময় কামাল ভাই এসে আমিরী চালে বসে বলতে আরম্ভ করল: বলি কি খাওয়া হচ্ছে?

আমাদের মধ্যে একজন চীনা বাদামের খোসাগুলোর উপর তাড়াতাড়ি বসে বলত: কই, কিছুই ত খাচ্ছি না।

: হুঁ, আমার সাথে মিথ্যে কথা? জানিস, এবার আমি ম্যাট্রিক দিয়েছি। আর ফার্স্ট ডিভিশনে ত পাস করবই। এবারের প্রশ্নগুলোর প্রত্যেকটিই তো আমার কমন পড়েছিল। একটা প্রশ্ন এতই সোজা ছিল যে- বলে সে তার ম্যাট্রিক পরীক্ষার গল্প আরম্ভ করত। কিন্তু আমরা কি আর তার গল্প শোনার জন্য বসে থাকতাম। কেউ বলত যাঃ, আব্বা একটা সাবান কিনে আনতে বলেছেন। দেরী হয়ে গেল বকবেন। এখন আমি যাই।

কেউ বলতঃ উঃ, আমার পেটটা যা ব্যথা করছে। আমি বাসায় চললাম।

এভাবে সকলেই কেটে পড়ত। কামাল ভাই প্রথমে খেয়াল করত না। কিন্তু সকলে ধীরে ধীরে কেটে পড়ার পর শেষ জন যেই চলে যেতে চাইত তখনি কামাল ভাইয়ের সম্বিৎ ফিরে আসত এবং তাকে জোর করে ধরে গল্প শোনাত। তাই আমরা পারতপক্ষে কামাল ভাইয়ের ধারেকাছে ঘেঁষতে চাইতাম না।

সেদিন নোটনদের তিন তলার নির্জন ছাদে বসে আমরা কয়েকজন গল্প করছিলাম। এমন সময় আমাদের কানে এলো কে যেন চটর চটর করে চটি পায়ে দিয়ে উপরে আসছে। আমি মনে করলাম, নোটনের মামা বা আব্বা কেউ একজন হবে। দিব্যি ভাল মানুষ সেজে বসে রইলাম। কিন্তু উপরে আসতেই দেখি, আরে এ যে কামাল ভাই। সবাই সমস্বরে কামাল ভাইকে স্বাগত জানালাম।

কামাল ভাই আমাদের কথায় কান না দিয়ে তার ম্যাট্রিক পরীক্ষার গল্প আরম্ভ করল। বলল: ফল বের হলে তোরা পত্রিকায় যখন আমার রোল নাম্বার খুঁজবি, তখন প্রথমেই যারা স্ট্যান্ড করেছে, তাদের তালিকায় দেখবি। সেখানে না দেখতে পেলে, এরপর ফার্স্ট ডিভিশনের তালিকায় দেখবি। কিন্তু এর নীচে আর দেখবি না।

আমরা কিন্তু ধীরে ধীরে কেটে পড়তে লাগলুম। সব শেষে যেই কেটে পড়তে যাব, তখনি কামাল ভাই লম্বা হাই তুলে বলল: তোর যাওয়া হবে না।

আমি তাই ভয়ে ভয়ে বসে পড়লাম। কামাল ভাইয়ের গল্পের শেষ পর্যন্ত শুনতে হল।

এরপর দিন সবাই মিলে কামাল ভাইকে টাইটেল দিলাম 'স্ট্যাণ্ডু ভাই'। কামাল ভাইকে এ খেতাব দানের খবরটা পৌঁছে দিলাম আমি। গিয়ে বললাম: তুমি ত ম্যাট্রিকে স্ট্যাণ্ড করবে, তাই আমরা তোমাকে 'স্ট্যাণ্ডু ভাই' বলেই ডাকব। কামাল ভাই কিন্তু চটে উঠে বলল: কি, আমাকে নিয়ে ফাজলামো হচ্ছে। এক থাপ্পড় দিয়ে ভবলীলা ঘুচিয়ে দেব।

আমি যদিও জানতাম যে, এক থাপ্পড় দিয়ে ভবলীলা ঘুচান যায় না, তবু কামাল ভাইয়ের রুদ্রমূর্তি দেখে আর তার কাছে দাঁড়াবার সাহস পেলাম না।

দু'মাস পরে যখন ফল বের হলো তখন সারা পত্রিকা খুঁজেও কামাল ভাইয়ের রোল নাম্বার কোথাও পাওয়া গেল না। কামাল ভাইয়ের ফেলের সংবাদটা কামাল ভাইকে জানাতে তার বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখি কামাল ভাই বাসায় নেই।

এরপর কামাল ভাইকে দেখলেই আমরা আড়াল থেকে টিটকিরী দিই: দেখ, দেখ, ট্যাণ্ডু ভাই যাচ্ছে।

আমাদের টিটকিরীর চোটে কামাল ভাই রাস্তায় আর বেরুতেই পারে না। কিন্তু কয়েক দিন পরে এমন একটা ব্যাপার ঘটলো যা আমরা কল্পনা করতেই পারিনি। সেদিন ভোরে লেটার-বক্স খুলে দেখি, আমার নামে একটা চিঠি। চিঠিটা খুলে দেখি, মাত্র দু'টি লাইন লেখা…

'ফোকলা, আমার পক্ষে ঢাকা থাকা সম্ভব

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice