- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
কেমন জব্দ
সেদিন বিকেলে ঝন্টুদের রোয়াকে বসে আমি, ঝন্টু আর খুরশীদ গল্প করছিলাম। এমন সময় নোটন এসে উপস্থিত হলো। এসেই বলল: আষাঢ়ে গল্প হচ্ছে বুঝি।
কটু বলল: আষাঢ়ে গল্প করব কেন? আমরা করছি শ্রাবণী গল্প।
আমি আরও একটু বিদ্যা জাহির করবার জন্য বললাম: আরে এতো কার্তিক মাস। কার্তিক মাসে শ্রাবণী গল্প করে নাকি?
খুরশীদ বলল: ঠিক বলেছিস। কার্তিক মাসে কার্তিকী গল্প বলাই ভালো। 'ক' দিয়ে যে সব লোকের নাম হয় তাদের গল্প বল।
নোটন বলল: কায়েদে আজমের গল্প বল।
কটু ফস করে বলল: কায়েদে আযমের কথা আমরা সবাই জানি। কালিদাসকে নিয়েই আরম্ভ কর।
খুরশীদ বলল: দূর, তোদের ঐ কালিদাস টালিদাস বাদ দে। গল্প করলে কর, আমাদের পাড়ার কামাল ভাইকে নিয়ে।
আমি মুখ ভার করে বললাম: নারে, কামাল ভাইয়ের কথা বলিস না। তার জন্য টাকা পয়সা পকেটে রাখার জো নাই। পয়সা আছে টের পেলেই, যেমন করে হোক আমাদের ঠকিয়ে নিয়ে নেয়। সেবার আমার পাচটি টাকা কিভাবে মেরে দিল।
নোটন বলল: দাঁড়া, কামাল ভাইকে জব্দ করতে হবে। কাল সকালে আসিস এখানে।
পরদিন সকালে আমরা সকলে কামাল ভাইয়ের কাছে গেলাম। তাকে গিয়ে বললাম, কামাল ভাই, আমরা একটা নাটক করব। তোমাকে একটা পার্ট নিতে হবে।
কামাল ভাই প্রথমে রাজী হল না। তারপর অনেক পীড়াপীড়ি করার পর রাজী হল।
আমরা ঝন্টুদের বৈঠকখানায় গিয়ে রিহার্সাল আরম্ভ করলাম। কামাল ভাই করল অফিসের বড় বাবুর পার্ট। কামাল ভাই তখন বড়বাবুর মতই একটা জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে অভিনয় করছিল।
ইত্যবসরে নোটন গিয়ে কামাল ভাইয়ের বড় ভাইকে ডেকে নিয়ে আসল। তিনি ঘরে এসে ঢুকতেই আমি দৌড়ে গিয়ে বললাম: দেখেছেন, কামাল ভাই সিগারেট খাচ্ছে।
তার বড় ভাই তখন কামাল ভাইয়ের কান ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেলেন। তাকে টেনে বাইরে নিয়ে যেতেই আমরা হো হো করে হেসে উঠলাম। আমাদের সে কি হাসি। শুধু কি হাসি। হাসির সঙ্গে কাশিও। আমাদের মধ্যেই কে যেন খক খক্ করে কেশে উঠল। আমি মনে মনে বললাম, বেশ জব্দ হয়েছে।
তারপর মাস খানেক ধরে কামাল ভাইকে আর পাড়ায় দেখতেই পেলাম না। তখন গ্রীষ্মের বন্ধ। কামাল ভাইয়ের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। হঠাৎ সেদিন স্টেডিয়ামে কামাল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। দেখেই বলল জানিস ফোকলা, আগামী রোববারে আমার বড়মামার মেয়ের বিয়ে। তারা সিলেট থাকে। তাই তোকে নিয়ে যাব। ঝন্টুকেও বলেছি। সে যেতে রাজী হয়েছে। শুধু বিয়েই নয়, বিয়ের পরও কিছুদিন থাকব। সেখানকার পাহাড়-টাহাড় দেখে, অন্যান্য জায়গা ঘুরে তারপর আসব।
আমি তবুও নিঃসন্দেহ হতে পারলাম না। কামাল ভাই যদি মিথ্যে বলে থাকে। তাই বললাম: বিয়ের কার্ডটা দেখাও।
কামাল ভাই পকেট থেকে দলানো মোচড়ানো একটা কার্ড বের করলো। কামাল ভাইয়ের মামার নাম তো আমি জানি নে। তাই কার্ডের ওপর একটু চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললাম: ঠিক আছে, যাব।
আমি বেশ খুশী হলাম। যাহোক গ্রীষ্মের বন্ধটা তো কাটানো যাবে। পরদিনই রওয়ানা হলাম। আমি, কামাল ভাই আর ঝন্টু। স্টেশনে গিয়ে যখন পৌঁছলাম, তখন রাত পৌনে ন'টা। আর দশ মিনিট পরেই গাড়ী আসবে। কামাল ভাইয়েরই আমাদের গাড়ীভাড়া দেওয়ার কথা। তাই কামাল ভাইকে বললাম: কামাল ভাই, টিকিটটা করে ফেল।
কামাল ভাই বলল: 'তাড়াহুড়া করে আসার সময় ভুলে গাড়ী ভাড়ার টাকাই আনি নি। এখন আমার কাছে একটা পয়সাও নেই। আমার ভাড়াটাও তোরা এখন দিয়ে দে। পরে তোদের টাকা ফেরৎ দিয়ে দেব।
আমার কাছে ছিল বিশটি টাকা। আর ঝন্টুর কাছে ত্রিশ। আমরা তখন বাধ্য হয়ে কামাল ভাইয়ের ভাড়াও দিলাম।
সিলেট গিয়ে পৌঁছলাম বেলা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments