- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
লীডার বটে
ঝন্টু যে, একেবারে সক্কাল বেলা? আমাদের বাড়ীর বাইরের বারান্দায় বসে মুড়ি চিবুতে চিবুতে প্রশ্ন করলুম। ঝন্টু আমার কাঁধে একটা ঝাঁকি দিয়ে বলল: সকাল। এই বেলা নটার সময় তোর সকাল হ'ল?
আমি আরও একমুঠো মুড়ি মুখে পুরে দিয়ে বললুম: আমি সে কথা বলছি নে। বলছিলুম যে তুই তো কোনদিন এত সকালে বাড়ী থেকে বেরুস না। তোর আব্বা না তোকে দশটার আগে বাড়ী থেকে বেরুতে নিষেধ করেছেন?'
: আব্বা তো নেই, অফিসের কাজে সিলেট গেছেন। নইলে কি আর এত সকালে বেরুতে পারি?
আমি কোন কথা না বলে একমনে মুড়ি চিবুতে লাগলুম। ঝন্টু কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল: তোর কোন ভদ্রতা জ্ঞান নেই দেখছি। আমি সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি, আর তুই একা একা মুড়ি খাচ্ছিস।
আমি সবটুকু মুড়ি মুখে পুরে দিয়ে বললুম: ভদ্রতার কথাটা আর একটু আগে বললে ভালো হত। এখন আর ভদ্রতা দেখাবার উপায় নেই।
বলে পকেট উল্টে দেখালাম। ঝন্টু হতাশ চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: তোর কাছ থেকে আমি এমন অভদ্রতা আশা করিনি।
আমি ঝন্টুর দিকে চেয়ে হেসে বললাম: আমি হলে কিন্তু তোর কাছ থেকে এরূপ ভদ্রতাই আশা করতুম।
ঝন্টু উঠে বলল: তুই আশা করতে পারিস। কিন্তু আমি কখন ওরকম করতাম না। তোর মত আমি হ্যাংলা, অভদ্র নই।
আমি ঝন্টুর হাত দুটো ঝাঁকি দিয়ে বললাম: আরে চেঁচাসনে অত। বাড়ী থেকে শুনতে পেলে বড় ভাই এসে কানে ধরে নিয়ে যাবে। আর একদিন রেস্তোরাঁয় নিয়ে গিয়ে তোকে না হয় চপ-কাটলেট খাইয়ে আনবো। এখন মুড়ির শোক ভুলে যা। এই সাত সকালে আমার কাছে কি জন্য এলি তাই বল।
ঝন্টু এবার শান্ত হয়ে বলল: তার আগে বল তুই কাল সারাদিন কোথায় ছিলি? আমি তোকে দু দুবার খুঁজতে এসে পাইনি।
: ও, তোকে বলতে মনে নেই, কাল আমি ছোট কাকার সাথে সাভারে গিয়েছিলাম তাঁর এক বন্ধুর বাড়ীতে। সারাদিন সেখানে থেকে রাতে ফিরেছিলুম।
: ও, তাই বল।
: তা, কাল আমাকে খুঁজেছিলি কেন?
: একটা খবর জানাতে।
: কিসের খবর? শান্তিনগর ক্লাবের সাথে ফুটবল ম্যাচের…
: আরে না, না, ওসব ফুটবল ম্যাচ ট্যাচ কিছু নয়। খবরটা হল যে কামাল ভাইরা কাল এসেছে।
: কামাল ভাই, সে আবার কে?
: তোর যে দেখছি কিছুই মনে থাকে না। সেই যে আমি তোকে বলেছিলাম না গত রোববারে যে, কামাল ভাইরা এসে বাড়ী দেখে গিয়েছে।
: কই, আমার তো কিছু মনে টনে পড়ছে না।
ঝন্টু ঘাড়টা দুলিয়ে তার মন্তব্য প্রকাশ করল: তোর স্মরণশক্তি বড্ড দুর্বল।
: তা আমি না হয় স্বীকার করলুম। এখন তাড়াতাড়ি কামাল ভাইয়ের পরিচয়টা দে। তোর সাথেই বা কিভাবে তার পরিচয় হল, সব কিছু খুলে বল।
ঝন্টু নাটকীয়ভাবে বলল: ধীরে বন্ধু, ধীরে। সব বলছি। আমাদের বাড়ীর পাশে যে নতুন বিল্ডিংটা তৈরী হয়েছে, সেটাই কামাল ভাইদের। কিছুদিন আগে বিল্ডিংটা তৈরী হওয়ার পর কামাল ভাই তার ভাইয়ের সাথে সেটা দেখতে এসেছিল। তখনই আমার সাথে তার পরিচয় হয়।
বয়সে কিছু বড় দেখে আমি তাকে কামাল ভাই বলেই ডাকি। তোরাও তাই ডাকবি।
: কাল বুঝি তারা তাদের বাসায় এসেছে?
: হ্যাঁ। কালই আমি কামাল ভাইয়ের সাথে গিয়ে আলাপ করেছি। খুব ভালো ছেলে। এতো ভালো ছেলে আর হয় না। আমি জিজ্ঞেস করে জেনেছি, সে খুব ভাল ফুটবল আর
ক্রিকেট খেলতে পারে। আমাদের ক্লাবে একটা ভালো প্লেয়ার জুটল।
: জিজ্ঞেস করেছিলি, আমাদের ক্লাবে খেলবে কি না?
: খেলবে না মানে একশবার খেলবে। আমি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments