- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
কামাল ভাইয়ের প্লুটো যাত্রা
বড় মামা এসেছিলেন। আজ তিনি চলে যাবেন। যাওয়ার আগে আমাকে ৫টি টাকা দিয়ে বললেন: রসগোল্লা কিনে খাস।
আমি ত মামার হাত থেকে ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে বোঁ করে একেবারে গেটের বাইরে রাস্তায় গিয়ে পড়লাম। রাস্তায় নেমেই হুমড়ি খেয়ে একটা রিকশার সাথে ধাক্কা খেতে খেতে বেঁচে গিয়ে ছুট লাগালাম। পেছনে তখন রিকশাওয়ালা আমাকে উদ্দেশ্য করে মেশিনগানের মত গালির শ্লোগান তুলছে। রিকশাওয়ালার গালি যে শ্লোলি বেরোচ্ছিল তা নয়, বরঞ্চ বুইক গাড়ীর মত একটু কুইকই বেরোচ্ছিল। আমার তখন ওসব দিকে খেয়াল ছিল না। হাতে টাকা পেয়ে মার্চ মাসের পয়লা তারিখে ডবল মার্চ করতে করতেই চললাম। কিন্তু রমনা পার্কের সামনে এসেই দেখি কামাল ভাই গুনগুন করতে করতে হাতের রুমালটা ঘুরাতে ঘুরাতে আসছে। কামাল ভাইকে দেখেই সাঁ করে টাকাটা বুক পকেটে রেখে দিলাম। কারণ, কামাল ভাইয়ের শ্যেনদৃষ্টি টাকাটার উপর পড়লে ওটা যে বেশীক্ষণ আমার কাছে থাকবে না, তা ভাল করেই জানতাম। জানতুম বলেই আমি কামাল ভাইকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলুম। কিন্তু তবুও কি রক্ষা আছে। কামাল ভাই ডাকল: ফোকলা।
আমার পিলেশুদ্ধ চমকে উঠল। কামাল তাহলে ঠিক দেখে ফেলেছে। আমার ভাগ্যে তাহলে বুঝি রসগোল্লা খাওয়া ঘটছে না। কামাল ভাই আবার ডাকল: ফোকলা আঁদ্রে উতিশে ভিউ।
আমি কামাল ভাইয়ের কথা শুনে দাঁড়াতে গিয়ে একটা হোঁচট খেয়ে ইটের গাদার উপর পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। তারপর চেয়ে দেখলাম যে, না, কামাল ভাই-ই দাঁড়িয়ে আছে, অন্য কোন বিদেশী লোক নয়।
আমাকে এতটা চমকাতে দেখে কামাল ভাই হো হো করে হেসে উঠল। বলল: বুঝতে পারলিনে, না? আরে ওটা হচ্ছে ফরাসী ভাষা, ওর অর্থ হল, কেমন আছিস রে?
আমি ভাবলাম, আমি কেন নিজেকে ছোট করব। তাই বললাম: আমিও পারি ফরাসী ভাষা বলতে। ওঁতে আসি ভিউ।
কামাল ভাই বলল: বা, বা, তুইও দেখি ফরাসী ভাষা শিখে ফেলেছিস। আচ্ছা বলত, তুই
যে কথাটা বললি ওটার অর্থ কি?
আমি বললাম: এর অর্থ হল, আমি ভালই আছি।
আরেকবার বাঁকা হাসি হেসে কামাল ভাই বলল: তোর অর্থটা কিন্তু হলনা। এর অর্থ হবে,
আমি চলে যাব।
আমি এবার চটে উঠে বললাম: ইয়ার্কি না কি? আমারটার অর্থ যদি হয় আমি চলে যাব, তবে তোমারটার অর্থ হবে, তুমি কোথায় যাবে?
কামাল ভাই বলল: তুইত ফরাসী ভাষার 'ক' অক্ষরও জানিস না। আমি যেটা বললাম, সেটাই ঠিক।
আমিও কম যাই না। বললাম: ঠিক না, ঘোড়ার ডিম। তুমি কি করে জানো ফরাসী ভাষা?
কামাল ভাই বলল: ও তাও জানিস না বুঝি? আমি যে একবার ফ্রান্স ঘুরে এসেছি।
আমি এবারও রীতিমত চমকে উঠে পিছনের লাইট পোস্টের সাথে একটা ধাক্কা খেয়ে নিলাম। তারপর সামলে নিয়ে বললাম: তুমি আবার কবে ফ্রান্স গিয়েছিলে?
কামাল ভাই বলল: আগে পার্কে চল, তারপর বলছি।
আমাকে নিয়ে কামাল ভাই গিয়ে পার্কের একটা বেঞ্চিতে বসে তার কাহিনী আরম্ভ করল:
আমি একটা নতুন যন্ত্র বানিয়েছি। যন্ত্রটা অনেকটা রকেটের মত। এই যন্ত্রে চড়ে যে কোন গ্রহে যাওয়া যায়। তোরা তো চাঁদে যাওয়া নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছিস। আমার যন্ত্র দিয়ে সোজা পুটোতে যাওয়া যাবে।
: প্লুটো।
: হ্যাঁ, একেবারে পুটোতে যাওয়া যায়। এখন মুশকিল হল যে, প্লুটোতে যেতে হলে কতটুকু অক্সিজেন নিতে হবে, কতদিনের খাদ্য নিতে হবে, এসব কিছুই জানিনে। তাই ভাবলাম যে, কোন বড় বৈজ্ঞানিকের কাছে যাব। ফ্রান্সে একজন বড় বৈজ্ঞানিক আছেন। ভাবলাম, তাঁর কাছেই যাব, তাঁর নাম হল গিয়ে…
আমি বাধা দিয়ে বললাম: ঠিক আছে, নামের কোন দরকার নেই।
কামাল ভাই আবার বলতে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments