-
এক ছিল জেলে। একদিন সে নদীতীরে এসে ছিপ ফেলে একটা মাছ ধরল। মাছটা কিন্তু যে সে মাছ নয়—সে হল গুলেদোর, সারা শরীর লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত ফুলে ঢাকা; পৃথিবীতে তার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই। খুশী হযে জেলে বঁড়শী থেকে মাছটা খুলে নিয়ে দেখতে লাগল সে তাকে মুগ্ধ হয়ে, হঠাৎ মাছটা তার হাত ফসবে পালিয়ে গেল জলের মধ্যে।
সেই থেকে জেলের মন থেকে সুখ আনন্দ বিদায় নিল। বাড়ি ছেড়ে চলে গেল সে নদীর ধারে, সেখানেই একটা কুটির তৈরী করে থাকতে লাগল; সারাদিনরাত নদীতে ছিপ ফেলে বসে থাকে। কিন্তু গুলেদোর মাছ আর পড়ে না তার ছিপে কিছুতেই। তেমনি করে নদীর ধারেই
-
এক ছিল গরীবলোক। দুনিয়ায় তার আপন বলতে ছিল কেবল এক ছেলে। আর সম্পত্তি বলতে ছিল এক পাঁশুটে রংয়ের কুকুর আর একটি বেড়াল।
এক রাতে লোকটি তার ছেলেকে ডেকে বলল, ‘আমার বয়স হল রে, বাবা, রুগ্ন আমি, মরব ক’দিন বাদেই। তোকে এবার জানাতে চাই একটা গোপন কথা। অনেক দিন আগে যখন আমার বয়স কম, উঠোনে একটা চৌবাচ্চা খুঁড়ছিলাম আমি। হঠাৎ আমার কোদালে ঠেকল শক্ত কি একটা। আরও খুঁড়তে লাগলাম, খুঁড়তে খুঁড়তে পেলাম একটা লোহার সিন্দুক আর খুললাম না, ভাবলাম জীবনে যখন খুব কঠিন দিন আসবে তখনই খুলব। জীবনে কত কঠিন দিন এসেছে, কিন্তু কখনও ছুঁই নি সিন্দুকটা। আজ বুড়ো হয়ে গেলাম।
-
এক গ্রামে ছিল এক কামার। তার এক ছেলে ছিল—বিশালদেহী বীর, নাম খালিম।
ছোট বয়স থেকে এত বেশি খেত আর এত তাড়াতাড়ি বাড়তে লাগল যে কামার যত ভেড়াই জবাই করুক না কে কিছুতেই ছেলেকে পেটভরে খাওয়াতে পারে না।
শেষে এমন অবস্থা দাঁড়াল যে দিনে তিনটি উটের মাংস খেলেও হয় না তার। তখন খালিম ঠিক করল ঘর ছেড়ে চলে যাবে সে শিকার করে নিজের আহার যোগাবে।
ঘর ছেড়ে চলে যাবার আগে, সেই শেকলটা কাঁধে ঝুলিয়ে চলল যেদিকে দুচোখ যায়।
পথ চলতে থাকে সে, শিকার করে, খায়, ঘুমোয় আবার পথ চলে।
একদিন পথে তার দেখা হল সাদাকান নামে এক পালোয়ানের সঙ্গে পালোয়ানটা পথের
-
এক ছিল তাঁতী। সারাদিন বসে কেবল তাঁত বুনেই যায়। শেষে একদিন বিরক্তি ধরে গেল তার তাঁত বোনায়, ঠিক করল দুনিয়া ঘুরতে বেরোবে। কাঁধে একটা থলি ফেলে পথে নামল সে।
যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, হঠাৎ দেখে: মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে একটা কচ্ছপ।
‘সঙ্গে নিই এটাকে, হয়ত কাজে লাগবে।’ ভেবে তাঁতী সেটাকে থলিতে ভরে নিল।
তারপর আবার চলতে লাগল। চলতে চলতে খানিক দূরে দেখে পড়ে আছে একটা ঘোড়ার লেজ।
‘ভাল জিনিসটা তো, এটাও সঙ্গে নেব, হয়ত কাজে আসবে।’ বলে ঘোড়ার লেজটাও তাঁতী থলিতে ভরে নিল।
তারপর আবার চলতে চলতে এক জায়গায় দেখে পড়ে আছে ষাঁড়ের শিং।
‘বাঃ, বেশ জিনিসটা তো! এটাও সঙ্গে নেব,
-
এক গরীবলোক ছিল, যার না ছিল বাড়িঘর, না ছিল জমিজমা, ছিল কেবল এক রোগা বুড়ো গাধা। লোকটি একদিন শুনল যে দুনিয়ায় এমন এক দেশ আছে যেখানে কেই কখনও গাধা দেখেনি।
‘সেখানেই নিয়ে যাব আমার গাধাটাকে, হয়ত সেখানে কেউ কিনে নেবে ওটাকে আমার কাছ থেকে।’ ভাবল লোকটি।
গাধার পিঠে বসে সে সেই দেশ খুঁজতে বেরোল। অনেক পাহাড়, উপত্যকা, হ্রদ পেরিয়ে শেষে খুঁজে পেল সেই দেশটা যেখানে কেউ কখনও গাধা দেখে নি।
তারা শহরে ঢোকামাত্রই শহরবাসীরা ছুটে এল চারদিক থেকে সেই অদ্ভুত জীবটাকে দেখতে। হঠাৎ জোরে ডেকে উঠল গাধাটা। গাধার সেই কান ফাটান চিৎকারে ভয় পেয়ে পালাল সবাই। গাধাটা প্রাণভরে চিৎকার করে
-
এক-যে ছিল শেয়ালি, নিজের একটা ঘর বানাল সে। ঘরটা বানিয়ে না সেখানেই দিন কাটাতে লাগল। তারপরে তো ঠাণ্ডা পড়ল। ঠাণ্ডায় শেয়ালি জমে যায়, গাঁয়ে ছুটে গেল আগুন আনতে। এল এক বুড়ির বাড়িতে,
বলে: ‘কুশল গো দিদিমা! পরবের দিন, মঙ্গল হোক তোমার। আমায় একটু আগুন দাও, উপকারের শোধ দেব।’
‘তা বেশ শেয়ালি দিদি। বসো, গরম হয়ে নাও, আমি ততক্ষণ চুল্লি থেকে পিঠেগুলো নামাই গে।’
আর বুড়ি তো সেঁকছিল মসলাদার পিঠে। চুল্লি থেকে নামিয়ে সেগুলো টেবিলের ওপর রেখে জুড়তে দিল। শেয়ালির চোখ ওদিকে বড়োসড়ো লালচে রংধরা পিঠেটার দিকে। খপ্ করে নিয়েই, বাস... ভেতরকার পুরটা খেয়ে ফেলে তার জায়গায় যতসব আবর্জনা ঢুকিয়ে তার
-
এক-যে বেড়াল আর মোরগছানা। দুজন দুজনকে ভারি ভালোবাসত, সর্বদাই থাকত একসঙ্গে, একটা চাষিবাড়িতে। কাঠ আনবার জন্যে বেড়াল একদিন বনে যাবে, মোরগছানাকে বললে: ‘দেখিস পেতেন্কা, চুল্লির তাকে বসে থাকবি, মিঠে রুটি খাবি, কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিবি না। নিজেও বেরবি না, যতই কেউ ডাকাডাকি করুক। আমায় বনে যেতে হবে কাঠ আনতে।’
‘বেশ,’ বললে মোরগছানা, বেড়াল বেরিয়ে যেতেই দরজা বন্ধ করে দিল ভালো করে।
ছুটে এল শেয়ালি দিদি, কচি মুরগির মাংস সে সাঙ্ঘাতিক ভালোবাসে।
মোরগছানাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বার করে আনতে চাইল বাড়ি থেকে: ‘আয় বেরিয়ে মোরগছানা! আমার আছে মিষ্টি দানা, জল আছে বেশ টলটলে, নইলে যাব জানলা গলে।’
মোরগছানা জবাব দেয়: ‘কোঁকর-কোঁ, কোঁকর-কোঁ,
-
ছিল একটা লোক, ছিল তার একটা বেড়াল, কিন্তু এতই বুড়ো যে ইঁদুর ধরতে পারত না। বাড়ির কর্তা ভাবলে, ‘এ বেড়াল দিয়ে আমার কী হবে? নিয়ে যাই, বনে ছেড়ে দিয়ে আসি।’ তাই নিয়ে গেল।
আমাদের বেড়ালটি ফারগাছের তলে বসে বসে কাঁদে। ছুটে আসে শেয়ালি দিদি শুধোয়: ‘তুমি কে গা?’
বেড়াল তার লোম ফুলিয়ে বললে: ‘হুঁ-হুঁ-হুঁ, আমি রায়বাহাদুর মার্জারচাঁদ!’
এমন গণ্যমান্য এক মহাশয়ের সঙ্গে আলাপ হওয়ায় ভারি আনন্দ হল শেয়ালির। বললে: ‘আমায় বিয়ে করো। ভালো বৌ হব আমি। খাওয়াব তোমায়।’
‘বেশ,’ বেড়াল বললে, ‘তা বিয়ে করা যাক।’
কথাবার্তা হয়ে গেল, শেয়ালির বাড়িতে থাকতে লাগল তারা ৷
সবরকমে শেয়ালি তোয়াজ করত তার: কখনো
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর ঝুড়ি। তাদের ছিল একটা ছাগল আর একটা ভেড়া। ছাগল আর ভেড়ার মধ্যে ভারি ভাব: যেখানে ছাগল, ভেড়াও সেখানে; শবজি ভুঁইয়ে ছাগল ঢুকল বাঁধাকপি খেতে, ভেড়াও; ছাগল গেল বাগানে, ভেড়াও তার পেছু পেছু।
বুড়ো বললে, ‘আহ্,, পারি না গিন্নি—ছাগল, ভেড়াকে খেদাতে হয়, নইলে আমাদের শবজি ভুঁইও থাকবে না, বাগানও থাকবে না! ... এ্যাই, ভাগ তো, তোদের টিকিও যেন আর না দেখি!’
তা ছাগল আর ভেড়া একটা বস্তা বানিয়ে নিয়ে চলে গেল।F
যেতে, যেতে, যেতে দেখে মাঠের মধ্যে পড়ে আছে একটা নেকড়ের মাথা। ভেড়া তো তাগড়াই, কিন্তু সাহস তেমন নেই, আর ছাগল বেশ সাহসী। কিন্তু নেই তেমন একটা
-
একজনের একটা কুকুর ছিল সেরকো, বুড়ো-থুত্থুরে। কুকুরটাকে সে তাড়িয়ে দিলে আঙিনা থেকে। ঘুরে বেড়ায় সে মাঠে, ভারি দুঃখ, তার। ‘কত বছর মালিকের কাজ করলাম, ভালো করে পাহারা দিতাম, আর এখন বুড়ো বয়সে আমায় একটুকরো রুটি দিতেও ওর কষ্ট হয়, তাড়িয়ে দিলে বাড়ি থেকে।’ ঘুরে বেড়ায় আর এইসব ভাবে... দেখে—নেকড়ে আসছে। নেকড়ে তার কাছাকাছি এসে শুধোয়:
‘ঘুরে ঘুরে বেড়াস কেন?’
সেরকো বললে: ‘কর্তা তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই ঘুরে বেড়াই।’
নেকড়ে বললে: ‘কর্তা যাতে তোকে আবার ফেরত নেয়, তার ব্যবস্থা করব?’
সেরকোর ভারি আনন্দ হল: ‘কর ভাই, কর! আমি তার শোধ দেব।’
নেকড়ে বলে: ‘তাহলে শোন, কর্তা-গিন্নি যখন ফসল তুলতে যাবে, গিন্নি ছেলেটিকে
-
এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বুড়ো হল কিন্তু ছেলেপুলে নেই ৷ কষ্ট হয়, দুঃখ, করে, ‘বুড়ো বয়সে কে আমাদের দেখবে? মরণকালে কে আমাদের পাশে থাকবে?” বুড়োকে বুড়ি বলে: ‘বনে যাও গো, আমার জন্যে একটা কাঠের পায়া আর একটা দোলনা বানিয়ে দাও; পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলাব। অন্তত খানিক মন-ভুলানি তো হবে।’
বুড়ো প্রথমটা গা করে নি, বুড়ি কিন্তু কেবলি মিনতি করে; শেষ পর্যন্ত বুড়ো শুনল তার কথা, বনে গেল। কাঠের একটা পায়া চেঁছে তুলল, দোলনা বানাল। বুড়ি পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলায় আর গুনগুন করে:
তেলেসিক, যাদু আমার,
রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,
রেঁধেছি তুলতুলে খাবার,
তেলেসিক, যাদু আমার!
দোলাতে, দোলাতে, শেষে ঘুমিয়ে
-
এক-যে ছিল রাখাল ছেলে, একেবারে ছোটোটি থেকে কেবল ভেড়াই চরায়, আর কিছুই করত না, কিছুই জানত না। একদিন আকাশ থেকে পড়ল পাথর, আর পাথর বলতে পাথর—আট মন ভারি। পাথরটা নিয়ে মজা করতে ভালো লাগত রাখাল ছেলের: কখনো সেটা বাঁধত তার পাঁচনবাড়ির সঙ্গে, কখনো আকাশে ছড়ে দিয়ে নিজে ঘুমিয়ে নিত, ঘুম ভেঙে দেখত পাথর তখনো আকাশে, মাটিতে পড়ে নি, আর যেই পড়ত, দেবে যেত মাটিতে।
মা বকাবকি করত: ‘অমন নুড়িপাথর নিয়ে খেলতে হয়? গায়ে আঁচড় লাগবে।’
ও সেসব খেয়ালই করে না।
এখন রাখাল ছেলে যেখানে থাকত, সে রাজ্যের রাজার পেছনে লাগল এক নাগ, এগল রাজধানীর দিকে; মন তিরিশেক ওজনের এক-একটা পাথর
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- খান মোহাম্মদ ফারাবী (১২)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র (৫)
- গোলাম মোরশেদ খান (৭)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৫৩)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ফরহাদ খুররম (১২)
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (৮)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (১)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- লীলা মজুমদার (১)
- শিবরাম চক্রবর্তী (১)
- সত্যেন সেন (১৯)
- সুবীর বৈরাগী (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.