নিষ্ঠুর বাই ও বুদ্ধিমান নেড়ামুণ্ডু

এক ছিল মেয়েমানুষ। অল্পবয়সে বিধবা হল সে ছোট ছোট তিনটি ছেলে নিয়ে। মেয়েমানুষটি অতি কষ্টে বড় করে তুলতে থাকে তাদের, সূতো কাটে, সেলাই করে। ছেলেরা যখন বড় হল তখন তার মাথার শেষ চুলটিও সাদা হয়ে গেছে।

একদিন বুড়ী মা ছেলেদের ডেকে বলল, ‘তোমরা বড় হয়েছ, আমার বয়স হয়েছে, আঙুলগুলো দূর্বল হয়ে পড়েছে আর সূতো কাটতে পারে না মোটে, ছুঁচের গর্তটা আর চোখে দেখতে পাই নে। এবার তোমরা নিজেরাই রোজগারের চেষ্টা কর।

‘মা গো, দেখ আমার কেমন মজবুত চেহারা, হাতে কত বল, খেতিমজুরের কাজ করে যা পাব সব এনে দেব তোমায়,’ বলল বড় ছেলে।

বুড়ী রুটি তৈরী করে রুমালে মুড়ে ছেলের সঙ্গে দিয়ে রওনা করিয়ে দিল তাকে।

ছেলেটি শহরে এসে বাইয়ের[☆]বাড়ীতে এসে দরজার ধাক্কা দিল। বাই বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি চাই তোর?’

‘আমি খেতিমজুর।’ বলল ছেলেটি।

‘জমি চাষ করতে পারবি?’ জিজ্ঞাসা করর বাই।

‘পারব।’ বলল ছেলেটি।

বাই তাকে বাড়ীর ভিতরে এনে বলল, ‘তোকে কাজে নেব, কিন্তু একটি শর্তে, যদি রাজী হোস তো ভাল মাইনে পাবি আর রাজী না হলে এখনি পথ দেখ।’

‘তোমার শর্তটা বল শুনি?’

বাই বলল: ‘তোকে আমি যাই করতে বলি না কেন সবকিছু করবি, রাগ করবি না। যদি রাগ করিস তো আমি তোর নাককান কেটে দেব। আর যদি আমি তোর ওপর রাগ করি তো তুই আমার নাককান কেটে দিবি।’

ভেবেচিন্তে রাজি হল ছেলেটি। ঘুমোতে শুল সে। ভোরবেলায় বাই তার ঘুম ভাঙিয়ে হাতে একটা রুটি ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘কাজে লাগ্ গিয়ে!’

ছেলেটি গাধার পিঠে গমের বস্তা চাপিয়ে, মহিষের কাঁধে যোয়াল-লাঙল জুতে চলল মাঠে।

বাই তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ফটক পর্যন্ত গিয়ে বলর, ‘এই সমস্ত গমবীজ আজ পুঁতে দিবি আর ফেরার পথে কাঠ কেটে গাধার পিঠে চাপিয়ে আনবি।

শক্তপোক্ত চেহারা তার, পরিশ্রমী, তাই সারাদিনে জমির বেশ বড় একটা অংশ চাষ করল সে, পুঁতল গমবীজ, তারপরে পাহাড়ে উঠে একটা গোটা গাছ কেটে তাকে চ্যালা করে চাপাল গাধার পিঠে।

যখন সে বাড়ি ফিরল বাই তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি রে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিস নাকি? রাগ হয় নি তো কোন কারণে?’

ক্লান্ত হয়ে পড়েছে খেতিমজুর, কিন্তু শর্তের কথা মনে পড়ে বলল, ‘না ক্লান্তও হই নি আর রাগও হয় নি কোন কারণে।’

পরের দিন বাই আবার তাকে ভোরবেলায় জাগিয়ে একই সব কাজ করতে আদেশ দিল। ছেলেটি আবার সব কাজ করে বাড়ি ফিরল বেশ দেরী করে। এমনি চলল কয়েকদিন ধরে, প্রচণ্ড পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ল ছেলেটি। তাই একদিন সমস্ত জমি চাষ করতে পারল না সে আর কাঠ কাটতেও পারল না। ঘরে ফিরল সে মনমরা হয়ে। কাঠছাড়াই ঘরে ফিরেছে দেখে বাই জিজ্ঞাসা করল,

‘কাঠ আনিস নি কেন?’

‘আঁধার নামল, কাঠ কেটে উঠতে পারি নি।’

বাই বলল, ‘ রাগ হচ্ছে তোর?’

আর থাকতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠল ছেলেটি, ‘নিশ্চয়ই! আর কত পারা যায় অত্যাচার সইতে? তুমি অত্যন্ত নিষ্ঠুর।’

তখনি বাই তার নাককান কেটে নিয়ে তাড়িয়ে দিল তাকে।

ছেলে ঘরে ফিরলে তা দেখে কেঁদে ফেলল তার বুড়ী মা: ‘বাচ্ছা রে, এ তোর কি হল?’

ছেলেটি বলল সব ঘটনা। তা শুনে বুড়ীর মেজ ছেলে রেগে গেল, বলল: ‘তুই কুঁড়ের বাদশা! তাই তোর এমনি দশা। আমিও যাব ঐ বাইয়ের কাছে, ওর শর্তমত কাজ করব, ভাল মাইনা পাব।’

তখনি বাইয়ের কাছে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিল সে।

‘কি চাই তোর?’ জিজ্ঞাসা করল বাই।

‘আমি এসেছি আমার ভাইয়ের বদলে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice