জিরেনশে ও কারাশাশ

বহুদিন আগে এক জ্ঞানী লোক ছিল, নাম তার জিরেনশে-শেশেন। তার জ্ঞান সমুদ্রের মতই অসীম ও গভীর, সে কথা বলে যেত একটানা যেন বুলবুলির সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর। কিন্তু এত গুণী হওয়া সত্ত্বেও জিরেনশে ছিল সেই অঞ্চলের সব থেকে গরীব লোক। যখন সে নিজের মাটির ঘরে শুত তার পাদুটো বেরিয়ে থাকত ঘরের দরজার বাইরে। আর ঝড়বাদলার দিনে তার ঘরের দেওয়াল ছাতের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে অঝোরে জল ঢুকত।

একদিন জিরেনশে বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছে স্তেপভূমি পেরিয়ে। দিন ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে, তাই তারা জোরে ঘোড়া চালাচ্ছে যাতে আলো থাকতে থাকতেই রাত কাটাবার একটা জায়গা খুঁজে নেওয়া যায়। হঠাৎ তাদের পথের সামনে পড়ল চওড়া একটা নদী। নদীর ওপারে একটা গ্রাম আর এপারে মেয়েরা বস্তার মধ্যে ঘুঁটে ভরছে।

মেয়েদের কাছে এসে তারা জিজ্ঞাসা করল নদী পার হওয়া যাবে কেমন করে।

মেয়েদের দল থেকে এগিয়ে এল একটি তরুণী যাকে তার বন্ধুরা ডাকছিল কারাশাশ বলে। তার অঙ্গে একটি অতি পুরনো, তালিদেওয়া পোশাক, কিন্তু এক অপূর্ব সৌন্দর্যে সে যেন ঝলকাচ্ছে: চোখগুলি যেন তারার মত, হাঁ-মুখটি একফালি চাঁদ আর দেহবল্লরী যেন সুঠাম ও নমনীয় দ্রাক্ষালতা।

‘দুটি জায়গা আছে,’ মেয়েটি বলল, ‘বাঁদিকে—কাছে, কিন্তু দূরে, অন্যটা একটা ডানদিকে—দূরে কিন্তু কাছে।’ বলে সে দুদিকে দুটি অগভীর জলের জায়গা দেখিয়ে দিল।

কেবলমাত্র জিরেনশে মেয়েটির কথার অর্থ বুঝল তাই ঘোড়ার মখে ফেরাল ডানদিকে।

একটু পরে সে পার হবার জায়গাটা দেখতে পেল। অগভীর জল, আর বালি নদীতলে। সহজেই নদী পেরিয়ে গেল সে, তারপর তাড়াতাড়ি ঘোড়া ছূটিয়ে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল।

আর তার বন্ধুরা ওদিকে বাঁদিকে কাছের পথটায় গিয়ে পরে অনুতাপ হল তাদের ৷ নদীর মাঝ পর্যন্ত পৌঁছবার আগেই ঘোড়াগুলো জড়িয়ে গেল কাদায়। সবচেয়ে গভীর জায়গায় তাদের ঘোড়া থেকে নামতে হল আর ঘোড়াগুলোর লাগাম ধরে হাঁটতে হাঁটতে নদী পেরোতে হল। সারা শরীর ভিজে, শীতে কাঁপতে কাঁপতে তারা যখন গ্রামের দিকে রওনা দিল তখন সন্ধ্যা নামছে।

জিরেনশে গ্রামের প্রথম তাঁবুর কাছে ঘোড়া থামাল। দেখলেই বোঝা যায় সেটায় গ্রামের সব থেকে দরিদ্র লোকের বাস; জিরেনশে আন্দাজ করল, যে মেয়েটি তাদের পথ বলে দিয়েছে তার বাবামার তাঁবু এটা।

কারাশাশের মা তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে তাদের অভ্যর্থনা জানাল, বলল ঘোড়া থেকে নেমে তাঁবুতে বসে বিশ্রাম করতে। তাঁবুটির বাইরে যেমন দারিদ্র্যের চিন্হ, ভিতরেও তেমনি। কারাশাশের মা অতিথিদের বসতে গালিচার বদলে ভেড়ার শুকনো চামড়া পেতে দিল।

কিছু পরে কারাশাশ ঘুঁটেবোঝাই বস্তা কাঁধে নিয়ে ঢুকল তাঁবুতে।

সেটা ছিল বসন্তকাল, সূর্য অস্ত যাবার আগে প্রচণ্ড জোরে একবার বৃষ্টি হয়ে গেছে। সব মেয়েরা ঘরে ফিরেছে ভেজা ঘুঁটে নিয়ে তাই তাদের পরিবারে সন্ধ্যাবেলায় রান্নাবান্না কিছু হল না। খালিপেটেই ঘুমোতে গেল তারা।

কারাশাশই কেবল নিয়ে এসেছে শুকনো ঘুঁটে। আগুন জ্বালাল সে অতিথিদের আরামের জন্য।

‘কি করে তুমি বিষ্টির হাত থেকে ঘুঁটে বাঁচালে?’ অতিথিরা জিজ্ঞাসা করল।

কারাশাশ বলল যখন বৃষ্টি এল, সে ঘুঁটের বস্তার ওপর শুয়ে পড়ে নিজের দেহ দিয়ে সেটাকে ঢেকে রাখল। তার পোশাক ভিজে গেল বটে কিন্তু পোশাক শুকিয়ে নিতে তো কোন কষ্ট নেই, চুলার কাছে বসলেই হল। এমন করে ঘুঁটে বাঁচান ছাড়া আর কোন পথ ছিল না, তার বাবা ভেড়ার পাল চরিয়ে রাতের বেলায় ফেরে ক্ষুধার্ত, হিমে কাতর হয়ে, আগুন না জ্বালাতে পারলে বাবার কষ্ট হবে। অন্য মেয়েরা বৃষ্টির সময় ঘুঁটের বস্তার নীচে লুকোল, তাতে তাদের ঘুঁটে ভিজল আর পোশাকও শুকনো রইল না।

অতিথিরা তার উত্তরে অবাক হল তার বুদ্ধি দেখে।

তারপর তারা জানতে চাইল রাতে কি

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice