- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
টেপীর কাণ্ড
সবাই এক রকম জিনিস ভালোবাসে না। এক একজনের এক এক রকম পছন্দ। কেউ ভালোবাসে মিষ্টি, কেউ টক, কেউ নোনতা, কেউ ঝাল, এমন কি এমন লোকও আছে যারা তেতো খেতে ভালোবাসে।
টেপী ভালোবাসে কাঁচা চাল খেতে। ভাত দাও, ডাল দাও, তরকারী দাও, মাছ-মাংস দাও, পিঠে পায়েস দাও, কোনটাতেই আপত্তি নেই, সবই সে খাবে। কিন্তু কাঁচা চাল খেতে তার যত আনন্দ এমন আনন্দ আর কিছুতে নেই। টেপী কে? মুকুলদের বাড়ির কুকুরটা। মুকুলের কাকা ওকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছিল। তখন ছিল এইটুকুন বাচ্চা। শুধু হাড্ডি আর চামড়া। অমন কুকুর কেউ আদর করে পোষে না। কিন্তু মুকুলের কাকার কেমন যেন মায়া বসে গেল। রাস্তা থেকে ওকে কোলে করে নিয়ে এলো।
মুকুলের মা বলল, ছি-ছি-ছি, এটাকে আবার কোত্থেকে নিয়ে এলে?
মুকুলের কাকা বলল, ওকে পুষব বউদি।
আহা, কিনা কুকুরের ছিরি! পুষবে ওকে। আর রাজ্যে তুমি কুকুর পেলে না! না-না বউদি, তুমি কিছু বলো না। খেতে পায় নি কিনা, তাই এমন হয়েছে। তুমি দেখ খেতে পেলেই তাজা আর সুন্দর হয়ে উঠবে। জানো বৌদি, বাজার থেকে আসবার পথে দীখলি ভিটার ধারে দেখি দু’তিনটা কাক ওকে চিৎ করে ফেলে ঠোকরাচ্ছে। মেরেই ফেলত। তখন কি আর ফেলে আসা যায়।
মুকুলের মা বলল, মেরে ফেলত, আপদ চুকত। তোমার যত কাণ্ড। এক একবার এক একটা জঞ্জাল জুটিয়ে নিয়ে আসো, তাও যদি একটু দেখতে সুন্দর হতো।
যে যাই বলুক টেপী কিন্তু থেকেই গেল। শুধু থাকা নয়, খেয়ে দেয়ে দিব্যি বড়সড় হয়ে উঠল। মুকুলের কাকা বলল, কেমন বৌদি, বলেছিলাম না। একবার তাকিয়ে দেখো দেখি।
মুকুলের মা ঝংকার দিয়ে উঠল, আমার আর তাকিয়ে কাজ নেই। এমন খাওয়া পেলে বড় হয়ে তো উঠবেই। কিন্তু ওটাকে খাইয়ে কোন লাভ? শোনো তবে ওর গুণের কথা। সন্ধ্যার পরে শেয়ালগুলো যখন ডাকে, পাড়ার আর কুকুর ঘেউ-ঘেউ করে উঠে তাড়া করতে যায়। আর তোমার টেপী কি করে জান? ভয়ে জড়সড় হয়ে লেজ গুটিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়তে চায়। এমন কুকুর কেউ দেখেছে।
টেপীর নিন্দা শুনে মুকুলের কাকার মনটা খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু তবু সে বোঝাতে চেষ্টা করল, আর একটু বড় হোক, ভয় কেটে যাবে।
মুকুলের মা উত্তর দিল, বড় হতে কিছু এখনও বাকী আছে। আর বড় হবে কবে?
এইভাবে দিন যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ টেপীটার স্বভাব খারাপ হয়ে গেল। ফলে বাড়ির সবাই তার উপর বিষম চটে গেল। মুকুলের কাকা আর ওকে কোনো মতেই সামলে রাখতে পারে না।
ব্যাপারটা হচ্ছে এই, মুকুলের বাবার চালের দোকান আছে। বাড়িতেই একটা ঘরে বস্তায় বস্তায় চাল মজুত থাকে। পাড়ার লোক, গাঁয়ের লোক এখান থেকে চাল কিনে নিয়ে যায়। টেপী আগে জানত না, হঠাৎ একদিন টের পেয়ে গেল, সংসারে যত ভালো ভালো খাবার জিনিস আছে, কাঁচা চালের মতো কোনটাই নয়। যেই না বোঝা, আর দেরী নেই, চুরি করে চাল খেতে শুরু করল।
অতগুলো বস্তা প্রথমে টের পাওয়া যায়নি। কিন্তু কদিন আর চাপা থাকে? দু’একদিনের মধ্যে ওর বিদ্যে ধরা পড়ে গেল। শুধু যে চাল খায় তাই তো নয়, তার চেয়ে বেশী ছড়িয়ে ছিটিয়ে একাকার করে। শুধু কি তাই? নতুন নতুন বস্তাগুলো কেটে কুটি কুটি করছে।
মুকুলের বাবা রেগেমেগে অস্থির। রাগবারই তো কথা। সে বকাঝকা আর চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় করে তুলল। কিন্তু টেপী কোথায়? ওকি যেমন তেমন পাজী! মুকুলের বাবাকে রাগারাগি করতে দেখলেই সে টু করে একদিকে সরে পড়ত।
মুকুলের মা বলল, নেও এবার ঠেলা। আমি কি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সত্যেন সেন
বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী পরিবারে ১৯০৭ সালে সত্যেন সেনের জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনে ও পরে সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেন। ছাত্রজীবন শেষ হতে না হতেই তাঁর জেল-জীবনের শুরু। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজবন্দী হিসেবে বিভিন্ন জেলে আটক থাকেন। জেলে বসেই তিনি এম.এ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ এবং
আরও দেখুন...-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments