-
অপরূপ একরাতে নাম-করা কেরানি ইভান দুমিত্রিচ্ চেরভিয়াকভ[☆]স্টলের দ্বিতীয় সারিতে বসে অপেরা গ্লাস দিয়ে 'লা ক্লশে দ্য কর্ণেভিল্' অভিনয় দেখছিলেন। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাঁর মনে হচ্ছিল, মরজগতে তাঁর মতো সুখী বুঝি আর কেউ নেই। এমন সময় হঠাৎ... ‘হঠাৎ’ কথাটা বড়ো একঘেয়ে হয়ে পড়েছে। কিন্তু কী করা যায় বলুন, জীবনটা এতই বিস্ময়ে ভরা যে কথাটা ব্যবহার না করে লেখকদের গত্যন্তর নেই! সুতরাং, হঠাৎ, ও'র মুখখানা উঠল কুঁকড়ে, চক্ষু শিবনেত্র, শ্বাস অবরুদ্ধ...এবং অপেরা গ্লাস থেকে মুখ ফিরিয়ে সিটের ওপর ঝুঁকে পড়ে—হ্যাঁচ্চো! অর্থাৎ হাঁচলেন। হাঁচার অধিকার অবশ্য সকলেরই আছে, এবং যেখানে খুশি। কে না হাঁচে—চাষী হাঁচে, বড়ো দারোগা হাঁচে, এমন
-
পুলিস ইনস্পেক্টর ওচুমেলভ[১] হেঁটে যাচ্ছিলেন বাজারের মধ্যে দিয়ে। গায়ে তাঁর নতুন ওভারকোট, হাতে পাটুলি এবং পিছনে এক কনেস্টবল। চুলের রঙটা তাঁর লাল, হাতের চালুনিটা ভর্তি হয়ে গেছে বাজেয়াপ্ত-করা গুজবেরিতে। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই...বাজার একেবারে খালি ক্ষুদে ক্ষুদে দোকান আর সরাইখানার খোলা দরজাগুলো যেন একসার ক্ষুধার্ত মুখ-গহ্বরের মতো দীনদুনিয়ার দিকে হাঁ করে আছে। ধারে কাছে একটি ভিখিরি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নেই।
হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘কামড়াতে এসেছ হতচ্ছাড়া, বটে? ওকে ছেড়ো না হে। কামড়ে বেড়াবে সে আইন নেই আর। পাকড়ো পাকড়ো! হেই!’
কুকুরের ঘ্যান ঘ্যান ডাকও শোনা গেল একটা। ওচুমেলভ সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, পিচুগিন দোকানীর কাঠগোলা থেকে বেরিয়ে এসে একটি
-
সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক অন্ধকার রাত্রে, নটা বাজার কিছু পরে, জেমস্তভোর ডাক্তার কিরিলভের একমাত্র পুত্র ডিপথিরিয়া রোগে মারা গেল। ডাক্তারের স্ত্রী সবে মাত্র আশাভঙ্গের প্রথম আঘাতে মৃত সন্তানের শয্যাপাশে নতজানু হয়ে বসেছে, এমন সময় সদর দরজার ঘণ্টাটা সজোরে বেজে উঠল।
ডিপথিরিয়ার ভয়ে বাড়ির চাকরবাকরদের সকাল থেকেই বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিরিলভ যে অবস্থায় ছিল, পরনে শুধুমাত্র সার্ট আর বোতাম খোলা একটা ওয়েস্টকোট, সেই অবস্থাতেই, এমনকি চোখের জলে ভেজা মুখ ও কার্বলিক এসিডের দাগ-লাগা হাতদুটো না মুছেই, দরজা খুলতে গেল। হলঘরটা অন্ধকার, আগন্তুককে দেখে এইটুকু শুধু বোঝা গেল, সে মাঝারি লম্বা, তার গলায় একটা সাদা মাফলার জড়ানো আর তার প্রকাণ্ড
-
"THE wind has got up, friends, and it is beginning to get dark. Hadn't we better take ourselves off before it gets worse?"
The wind was frolicking among the yellow leaves of the old birch trees, and a shower of thick drops fell upon us from the leaves. One of our party slipped on the clayey soil, and clutched at a big grey cross to save himself from falling.
"Yegor Gryaznorukov, titular councillor and cavalier . . ." he read. "I knew that gentleman. He was fond of his wife, he wore the Stanislav ribbon, and read nothing. . .
-
A GLOOMY winter morning.
On the smooth and glittering surface of the river Bystryanka, sprinkled here and there with snow, stand two peasants, scrubby little Seryozhka and the church beadle, Matvey. Seryozhka, a short-legged, ragged, mangy-looking fellow of thirty, stares angrily at the ice. Tufts of wool hang from his shaggy sheepskin like a mangy dog. In his hands he holds a compass made of two pointed sticks. Matvey, a fine-looking old man in a new sheepskin and high felt boots, looks with mild blue eyes upwards where on the high sloping bank a village nestles picturesquely. In his hands
-
IT was Christmas Eve. Marya had long been snoring on the stove; all the paraffin in the little lamp had burnt out, but Fyodor Nilov still sat at work. He would long ago have flung aside his work and gone out into the street, but a customer from Kolokolny Lane, who had a fortnight before ordered some boots, had been in the previous day, had abused him roundly, and had ordered him to finish the boots at once before the morning service.
"It's a convict's life!" Fyodor grumbled as he worked. "Some people have been asleep long ago, others are
-
Not yet had the sky well cleared and numerous birds were proclaiming the coming day at the top of their voices when, raising a dreadful storms in the hard breast of Bongram's dying river, a launch put in to shore.
Blind Dasarath knew it first. Of his two sons one had gone wrong and the younger, laying aside the oar in his hand, was filling the bowl of the hookah with tobacco for his father. Drawing in his net Dasarath sat staring with unblinking eyes at the still dark western sky as he awaited the boy's tobacco. Suddenly a sort
-
লেখক: আবদুল্লা কাখহার
চুল্লির চাকতিটা খুলে দাদী রোখাৎ পায়ে আঁচ পোয়াচ্ছিল। কিছুকাল থেকে পা দুখানা বড়ো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, কনকন করছে, ঘর তেমন ঠান্ডা না হলেও ভারি শীতে জমে যাচ্ছে সে। নাতি বইয়ের মলাট ছিঁড়ে ফেলেছিল, জানলার কাছে সেটা আঁটা দিয়ে জুড়তে জুড়তে বুড়ো বললে: ‘আগুন পোয়াতে হয় কী করে তা আর তোমায় শেখানো গেল না! চুল্লির দরজা খোলা রাখা আর আকাশ গরম করা একই কথা।’
দাদী রোখাৎ দরজা বন্ধ করে সোফায় গা এলালে। তারপর শুয়েই থাকল। প্রথমটা উঠতে ইচ্ছে করছিল না, পরে আর উঠতেই পারল না। তৃতীয় দিনে বুড়ি মারা গেল।
হিকমৎ-ববো দাঁড়িয়ে রইল একেবারে বজ্রাহতের মতো। ঘরে যখন
-
অনুবাদ: রেখা চট্টোপাধ্যায়
রাত্রে নদীর উপর কুয়াশা জমে উঠলো আর সেটা গ্রাস করলো বয়া এবং সাঙ্কেতিক আলোগুলো।
খাড়া তীরের কোল ঘেঁসে ইস্টিমারটা এসে থামলো। তীরের উপরকার এক প্রাচীন নলখাগড়ার ঝোপের সঙ্গে নোঙরের দড়িটা বাঁধবার জন্যে নাবিকরা যখন টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তীরে যাবার কাঠের পথটা তখন শুধু তালে তালে করছিল ক্যাচ-ক্যাচ।
মাঝরাতে মাশা ক্লিমোভার ঘুম ভাঙলো। ইস্টিমারটা এতো নিস্তব্ধ যে যাতায়াতি পথের শেষ প্রান্তের কেবিনের এক যাত্রীর নাক ডাকা সে পেলো শুনতে।
বিছানায় সে উঠে বসলো। খোলা জানালার ভিতর দিয়ে যে টাটকা বাতাস ভিতরে আসছিল তাতে জড়িয়ে ছিল উইলো পাতার মিষ্টি গন্ধ।
ছায়াচ্ছন্ন কুয়াশার ভিতর দিয়ে ঝোপ ঝাড়ের নানা শাখা ডেকের
-
সুলেমানের প্রাসাদ ছিল ধনরত্নে পূর্ণ, কিন্তু তার মধ্যে সব থেকে বেশী মূল্য দিত খান একটা সোনার আংটিকে, সেটাকে কখনই সে খুলত না হাত থেকে। সেটা ছিল একটা জাদু-আংটি: যে সেটাকে পরত সেই গাছপালা জীবজন্তুর ভাষা বুঝতে আরম্ভ করত আর তাদের ওপর প্রভুত্ব অর্জন করত।
একবার শিকারে বেরিয়ে সুলেমান ঠাণ্ডা জলে মুখচোখ ধুয়ে নেবার জন্য নদীর কাছে গেল। অঞ্জলি ভরে জল তুলে নিতে যাবার সময়ে জাদু-আংটিটা খুলে পড়ে গেল হাত থেকে, ডুবে যেতে লাগল জলে। সুলেমান জলে ঝাঁপ দিতে যাবে রতনটা উদ্ধারের জন্য, হঠাৎ জলে দেখা দিল একটা বিশাল মাছ, মাছটা আংটিটা গিলে ফেলে লেজ নাড়িয়ে জলের গভীরে ডুব দিল।
ঐ
-
বহুদিন আগে এক জ্ঞানী লোক ছিল, নাম তার জিরেনশে-শেশেন। তার জ্ঞান সমুদ্রের মতই অসীম ও গভীর, সে কথা বলে যেত একটানা যেন বুলবুলির সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর। কিন্তু এত গুণী হওয়া সত্ত্বেও জিরেনশে ছিল সেই অঞ্চলের সব থেকে গরীব লোক। যখন সে নিজের মাটির ঘরে শুত তার পাদুটো বেরিয়ে থাকত ঘরের দরজার বাইরে। আর ঝড়বাদলার দিনে তার ঘরের দেওয়াল ছাতের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে অঝোরে জল ঢুকত।
একদিন জিরেনশে বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছে স্তেপভূমি পেরিয়ে। দিন ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে, তাই তারা জোরে ঘোড়া চালাচ্ছে যাতে আলো থাকতে থাকতেই রাত কাটাবার একটা জায়গা খুঁজে নেওয়া যায়। হঠাৎ তাদের পথের সামনে পড়ল চওড়া একটা নদী।
-
একজন লোকের তিনটি ছেলে ছিল, প্রথমপক্ষের দুটি ছেলে আর দ্বিতীয়পক্ষের একটি। দ্বিতীয়পক্ষের ছেলেটিই সবার ছোট, নাম তার আসপান। যদিও আসপান বুদ্ধিমান, দয়ালু আর নরম স্বভাবের ছিল, কিন্তু তার বড় ভাইয়েরা ছোটবেলা থেকেই সহ্য করতে পারত না তাকে। তাদের অত্যাচার, চড়-চাপড়, বিদ্রূপ অনেক সইতে হয়েছে ছোট ভাইকে, লুকিয়ে কেঁদেছে সে, কিন্তু বাবাকে কখনও নালিশ করে নি, ভাইদের ক্ষতি করতে সে কখনই চায় নি।
দিন যায়, মাস যায়, ছেলেদের বয়স বাড়ে, বাবাও ক্রমশঃ বৃদ্ধ হতে থাকে। বাবার মৃত্যুর পরে বাবা যা রেখে গিয়েছিল তা বড় দুই ভাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল আর ছোট ভাইকে দিল কেবল একটা কালো ইয়ুরতা[☆]আর
উৎস
- প্রক্রিয়াধীন
- বৃষ্টি আর নক্ষত্র
- তাজিক লোককাহিনী
- ইউক্রেনের লোককথা
- সোনার পেয়ালা
- রূপের ডালি খেলা
- জানলা : তৃতীয় বিশ্বের সাহিত্য
- উক্রাইনীয় উপকথা
- ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান
- হ্যান্স অ্যাণ্ডারসন রচনাবলী
- মানুষের জন্ম
- কাজাখ লোককাহিনী
- পরিচয়
- ফুলকি ও ফুল
- ডিকেন্স্-এর গল্প
- গ্রহান্তরের আগন্তুক
- আজেরবাইজানের গল্প-সংগ্রহ
- ভাবনা সমবায়
- কথা পাঞ্জাব
- ভেদ-বিভেদ (২)
- তানিয়া
- রাঙা পাল
- স্নেগোভেৎসের হোটেলে
- বাংলাপুরাণ প্রতিস্বর
- সোমেন চন্দ গল্পসঞ্চয়ন
আর্কাইভ
লেখক
- অমৃত রাই (১)
- অরল্যান্ডো প্যাটারসন (১)
- অ্যাগনেস স্মেডলি (১)
- আন্তন চেখভ (১৫)
- আন্দ্রেই দুগিনেৎস (১)
- আমা আতা আইদু (১)
- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১)
- আলেকজান্ডার কাজানসেভ (১)
- আলেক্সান্দর গ্রিন (৩)
- আলেক্সান্দর বাত্রভ (১)
- আলেক্সেই তলস্তয় (১)
- ইউরি ইয়াকভলেভ (১২)
- ইভান ইয়েফ্রেমভ (১)
- ইভান তুর্গেনেভ (১)
- ইভোন ভেরা (১)
- ইসমৎ চুগতাই (১)
- ইয়াকভ আকিম (১)
- এম এন রায় (১)
- এরস্কিন কাল্ডওয়েল (১)
- এলবার্ট মালজ (১)
- ওয়ান্ডা ওয়াসিলেস্কা (১)
- কনস্তানতিন পাউস্তোভস্কি (৯)
- কনস্তানতিন লর্তকিপানিৎজে (১)
- কায়ুম তাংগ্রিকুলিয়েভ (৪)
- কৃষণ চন্দর (৯)
- ক্যাথারিন সুসানাহ প্রিচার্ড (১)
- খালিদা হাসিলভা (১)
- গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (২)
- গিয়োরগি শাটবেরাশভিলি (১)
- গুরুবখ্শ্ সিং (১)
- চার্লস ডিকেন্স (৩)
- চিঙ্গিস্ আইৎমাতভ্ (১)
- জন রিড (১)
- জুলিয়াস লেস্টার (১)
- জ্যাক লন্ডন (২)
- ড. হরভজন সিং (১)
- তৈমুর রহমান (১)
- নাডিন গর্ডিমার (৩)
- নানক সিং (১)
- নিকোলাই নোসভ (১)
- পাভেল লিডভ (১)
- প্রকাশ কারাত (১)
- প্রক্রিয়াধীন (৭১)
- প্রযোজ্য নয় (৩)
- ফ্রাঞ্জ কাফকা (১)
- ভার্জিনিয়া উলফ (১)
- ভিক্টর গোলিয়ভকিন (১)
- ভিক্তর দ্রাগুনস্কি (১)
- ভ্যালেনটিনা ডিমিট্রিয়েভা (১)
- ভ্লাদিমির জেলেজনিকভ (২)
- ভ্লাদিমির বইকো (১)
- ভ্লাদিস্লাভ ক্রাপিভিন (১)
- মহমেৎ ইয়াখিয়ায়েভ (১)
- মাও টুন (১)
- মাৎভেই তেভেলেভ (১০)
- মিখাইল শলোখভ (৩)
- মুলক রাজ আনন্দ (১)
- ম্যাক্সিম গোর্কি (৬)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২)
- রিচার্ড রাইট (১)
- লুইজি পিরানদেল্লো (১)
- লেভ তলস্তয় (৩)
- শেখর বসু (১)
- সাদত হাসান মান্টো (১০)
- সাদ্রিদ্দিন আয়নি (১)
- সিনডিউই ম্যাগোনা (১)
- সেমিওন শুরতাকভ (১)
- সোমেন চন্দ (২)
- হান্স ক্রিশ্চিয়ান আন্দেরসেন (২)
- হাফেজ শিরাজি (১)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.