ডিকেন্স
(লেখকের নোট-বই থেকে)
অনুবাদ: রেখা চট্টোপাধ্যায়
ফিওদোসিয়ার উপর হলদে হলদে মেঘ ঝুলে রয়েছে—গম্ভীর, ভয়ঙ্কর মেঘ। বেশ গরম। সমুদ্রটা আছড়াচ্ছে। একটা বুড়ো এ্যাকেশিয়া গাছে চড়ে ছোটো ছোটে৷ ছেলেরা শুকনো মিষ্টি ফুলগুলো দিয়ে ঠাসছে তাদের মুখগুলো। দূর-দিগন্তে এগিয়ে-আসা ওদেসার এক জাহাজ থেকে এক চিলতে ধোঁয়া উঠছে। নিছক একঘেয়েমির দরুণ এক বিষণ্ণ বৃদ্ধ জেলে শিস দিচ্ছে আর জলে ফেলছে থুথু। কোমরবন্ধের পরিবর্তে জালের একটি ফালি তার কোমরে। তার কাছে একটি ছেলে বসে বই পড়ে চলেছে। জেলে তার রুক্ষ স্বরে বললো, ‘দেখি হে ছোকরা, তোমার বইটা।’ ভীতু-ভীতু ভাবে ছেলেটি বইটা তুলে দিলো তার হাতে। জেলে পড়তে শুরু করলো। কাটলে৷ পাঁচ মিনিট, কাটলো দশ। উত্তেজিত হয়ে সে ফোঁসফোঁস করে নিশ্বেস ফেলতে লাগলো। ‘কী কাণ্ড কত লিখেছে।’
ছেলেটি সেখানে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। আধ ঘণ্টা ধরে জেলে পড়ে চলেছে। মেঘগুলো আরো উঁচুতে উঠেছে। ছোটো ছোটে৷ ছেলেগুলো একটা এ্যাকেশিয়াকে মুড়িয়ে অন্য একটায় চড়েছে। তখনো জেলে পড়ে চলেছে ছেলেটি তার দিকে উদ্বিগ্ন হয়ে চাইলো। এক ঘণ্টা কাটলো। ‘শুনুন মশাই,’ ফিসফিস করে ছেলেটি বললো, ‘আমাকে বাড়ী ফিরতে হবে।’
‘তোমার মা’র কাছে?’ মুখ না তুলেই জেলে প্রশ্ন করলো।
ছেলেটি বললো, ‘হ্যাঁ।’
‘তোমার মা অপেক্ষা করতে পারেন,’ জেলে হুঙ্কার ছাড়লো। চুপ করে গেলো ছেলেটা। তাড়াতাড়ি পাতাগুলে৷ ওল্টাতে লাগলো জেলেটা, গিলে চললো প্রাণপণে। আরে৷ আধ ঘণ্টা কেটে গেলো। ছেলেটা কাঁদতে শুরু করলো মৃদু সুরে। বন্দরে জাহাজট৷ পৌঁচেছে। তার সাইরেনগুলো জাঁকালো, নিরপেক্ষভাবে ভোঁ বাজাতে লাগলো। জেলেটা কিছুই শুনতে পেলো না।
ছেলেটা এখন স্পষ্টই কাঁদছে, তার কম্পিত গালের উপর দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। জেলেটা কিছুই দেখছে না, কিছুই শুনছে না। তারপর জেটির পাহারাওল৷ তাকে ধমকে উঠলো: ‘এই পেতিয়া! তোর লজ্জা করে না? ছেলেটাকে আর ত্যক্ত করিস না। বইটা ফিরিয়ে দে।’
বিস্মিত হয়ে জেলেটা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে তার দিকে বইটা ছুঁড়ে দারুণ বিরক্ত হয়ে বললো: ‘এই নে নিয়ে যা, ছিঁচকাঁদুনে ছেলে কোথাকার! কেঁদে দম আটকে মর তুই।’
ছেলেটা বইটা আঁকড়ে জেটির পাশ ধরে দৌড়ে চললো, একবারও ফিরে তাকালো না।
জেলেকে আমি প্রশ্ন করলাম, ‘ওটা কোন বই?’
‘ডিকেন্স’, সে বললো, তখনো সে বিরক্ত হয়ে রয়েছে। ‘কী লেখক—একেবারে আলকাৎরার মতে৷ আঠালো। নিজেকে ছাড়ানো যায় না।’
১৯৩৯
কনস্তানতিন পাউস্তোভস্কি
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments