সুন্দরী মীরজান ও জলতলের অধিপতি
এক গরীব বিধবা ছিল। তার ছিল একমাত্র সন্তান, একটি মেয়ে, তাদের বংশে সব থেকে সুন্দরী। নাম তার মীরজান। এক গরমের দিনে গ্রামের মেয়েরা নদীতে স্নান করতে যাবে, মীরজানকেও ডাকল তারা। জলে নামল সবাই। মেয়েরা বলল: “তুই সত্যিই সুন্দরী, মীরজান! খান তোকে দেখলে বলতেন, ‘ও সুন্দরী মীরজান, তোমায় আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে দেব, তুমি কেবল আমার হও!’”
মীরজান লজ্জায় চোখ নীচু করল: ‘তোমরা এমন ঠাট্টা করছ কেন, মেয়েরা? আমার দিকে খান ফিরেও তাকাবেন না। আমি যে গ্রামের মধ্যে সব থেকে গরীব।’
যেই সে একথা বলেছে হঠাৎ নদীর জল ফুঁসে উঠল আর নদীর গভীর থেকে কার যেন তেজী কণ্ঠস্বর শোনা গেল: ‘ও সুন্দরী মীরজান, তোমায় আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে দেব, তুমি কেবল আমার হও!’
মেয়েরা ভয় পেয়ে ছুট লাগাল তীরের দিকে, তারপর পোশাকগুলো নিয়ে দলবেঁধে গ্রামের দিকে দৌড়াল। মীরজানের কথা আর কারুর মনেই রইল না।
সে তীরে দাঁড়িয়ে দেখে তার পোশাকের ওপরে সাতপাকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে এক বিরাট সাপ, মাথা উঁচু করে তুলে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।
সাপটা বলল: ‘ও সুন্দরী মীরজান! আমি জলের রাজ্যের রাজা। তোমাকে আমি প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসি। আমাকে বিয়ে কর! তোমাকে উপহার দেব আমার স্ফটিকের প্রাসাদটা। তুমি যদি আমায় কথা দাও, আমাকে বিয়ে করবে তাহলে তোমার পোশাক দিয়ে দেব তোমায়, যদি রাজী না হও বিয়ে করতে, তোমার পোশাক আমি নদীতে নিয়ে চলে যাব। তখন তুমি কি করবে?’
ভয়ে দিশা হারিয়ে মীরজান কথা দিল। অমনি সাপটাও যেন আর নেই, কেবলমাত্র যেখানে সেটা গিয়ে জলে নেমেছে সেখানে জলটা চক্রাকারে ঢেউ কাটতে লাগল, আর ছোট ছোট ঢেউগুলো তীরে এসে ধাক্কা দিতে লাগল। কোনরকমে পোশাক পরে মেয়েটিও দৌড় দিল। হাঁফাতে হাঁফাতে তাঁবুতে ঢুকে মায়ের সামনে মাটিতে পড়ে হু হু করে কেঁদে ফেলল।
‘কি হল, সোনামণি? কে তোর মনে দুঃখ দিয়েছে?’ উদ্বিগ্ন প্রশ্ন মায়ের।
মীরজান হাত মোচড়াতে মোচড়াতে সব কথা মাকে বলল: ‘কি হবে এখন? আমি কথা দিয়েছি। কথা দিয়ে সে কথা না রাখা সম্ভব নয় তো!’
মা মেয়েকে বুকে চেপে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল: ‘শান্ত হ, বাছা। ঐ ভয়ঙ্কর সাপটা নেহাতই তোর কল্পনা। অমন সাপ হয় না। ক’দিন বাড়ীতে বসে থাক কোথাও বেরোস না।’
এক সপ্তাহ কেটে গেল। মীরজান আবার হাসিখুশী হয়ে উঠল। মা তাকে তাঁবু থেকে এক পাও কোথাও বেরোতে দেয় না আর নিজেও দূরে কোথাও যায় না।
একদিন বৃদ্ধা দরজার বাইরে তাকিয়ে ভয়ে হিম হয়ে গেল: ‘হায় হায়, এবার আমাদের আর বাঁচতে হবে না। যতদূর চোখ যায় কালো কালো সাপ নদী থেকে বেরিয়ে আমাদের তাঁবুর দিকে আসছে।’
সাদা হয়ে গেল মীরজানের মুখ: ‘আমাকে নিতে এসেছে ওরা…’
দরজা বন্ধ করে দিল তারা, তারপর সব আসবাবপত্র এনে চেপে দিল দরজাটা, আর নিজেরা চাদরের নীচে লুকিয়ে রইল, নিঃশ্বাস নিচ্ছে না ভয়ে।
সাপগুলো ওদিকে ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসছে—গোটা এলাকাটা গোলমালে ভরে গেছে। তাঁবুর কাছে এসে দেখে যে ভেতরে ঢোকবার পথ বন্ধ, হিসহিস করে উঠল তারা, তাঁবুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেতরে ঢুকবার পথ খুঁজে নিল, অজ্ঞান মীরজানকে তাঁবু থেকে বার করে নিয়ে নদীর দিকে বয়ে নিয়ে চলল তারা। মরীজানের মা চীৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে চলল তাদের পেছনে পেছনে কিন্তু তাদের ধরতে পারল না। মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে সাপগুলো জলের মধ্যে উধাও হয়ে গেল।
দুঃখে টলতে টলতে বুড়ী নিজের ফাঁকা ঘরে ফিরে এসে কান্নায় ভেঙে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments