মানুষের দাম
লেখক: মাততেই তেভেলেভ
স্তুদেনিৎসায়, বলতে কি স্তুদেনিৎসা কেন সমস্ত স্নেগোভেৎস এলাকাতেই ওলিয়োনা স্তেফাকোভার ব্যাটা আন্দ্রেই-র মতো রূপবান ছেলে মেলা ভার।
সবই তার খাসা: সুঠাম গড়ন, ময়লাটে মুখের মিহি আমেজ, ছেয়ে রঙের স্থিরদৃষ্টি চোখ, বাঁ ভুরুর কোনাচে বাঁক, যাতে মুখখানায় তার কখনো অবাক-অবাক কখনো বা মজাদার একটা ভাব ফুটে ওঠে।
শুধু পয়লা নম্বরের লেগিন[☆]হিসেবেই নয়, পয়লা নম্বরের বাবু হিসাবেও আন্দ্রেই স্তেফাকের নামডাক। বলতে কি নিজের বহিরঙ্গ ও সাজসজ্জার প্রতি পাহাড়ে কলখোজের এই প্রধান রাখালটির যত নজর, সেটা স্থানীয় রূপসীদের মধ্যেও কদাচিৎ দেখা যায়। শাদা কাপড়ের কুর্তা পরত সে, তার সবুজ কলার, পুঁতি বসানো শার্ট, টুপির ফিতেয় গোঁজা ফারের ডাল, পায়ে নাল-লাগানো পাহাড়ে জুতো। কিন্তু চলনটা ওর বেশ অনায়াস, আড়ষ্টতা নেই, আর পোষাক পরার ধরনে প্রকাশ পেত ইচ্ছাকৃত একটা অবহেলা।
ফিওদর স্ক্রিপকা একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তুই কী বল তো আন্দ্রেই, নেহাৎ সাধারণ দিনগুলোতেও সাজ করিস পরবের মতো!’
ছোকরা বেশ গুরুত্ব দিয়েই জবাব দিয়েছিল, ‘মামুলী দিন আমার নেই, সবদিনই আমার কাছে উৎসবের দিন।’
একটা আড্ডা, একটা বিয়েও আন্দ্রেই-র বাদ যেত না, যদিও নাচত সে কদাচিৎ। আসত, দাঁড়িয়ে থাকত এক পাশে, দাঁতের ফাঁকে ঘাস চিবুত আর তাকিয়ে থাকত যেন অবাক হয়ে।
মেয়েরা ওর জন্যে পাগল হয়ে উঠত। কিন্তু তাদের কেউ আন্দ্রেইকে বিয়ে করবে কিনা এ কথা জিজ্ঞেস করলে জবাব না দিয়ে সবাই তারা অনেকক্ষণ ভাবত। ভাবত, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ত, চোখের জল ফেলত নির্ঘাৎ, কিন্তু আন্দ্রেইকে বিয়ে করার সাহস পেত না।
বয়স্ক মেয়েরা বলত, ‘অমন লোককে নিয়ে ঘর করতে হলে জ্বলে পুড়ে মরতে হবে। যাদের রূপ বেশি, তারা জালায় বেশি, এটার আবার তার ওপর জিভে বড়ো ধার, চোখে মায়া নেই…’
তবে আন্দ্রেই স্তেফাক সম্পর্কে এই ধরনের মত শুধু মেয়েদের মধ্যেই ছিল না। এমন কি যে গোরুল্যা কখনোই লোকের সম্পর্কে চট করে মত দিত না, সেও ভাবত রূপ আর গুমর ছাড়া ওলিয়োনার ছেলেটির মধ্যে আর কিছুই নেই; তাই নিয়ে আফসোস করতো সে।
একদিন স্নেগোভেৎসের কলখোজের পার্টি সংগঠনের সেক্রেটারিদের সেমিনার থেকে গোরুল্যা স্তুদেনিৎসায় ফিরছে।
ফিরছে মোটরে করে কলখোজের জন্যে অটোমেটিক পানীয় ব্যবস্থার সরঞ্জাম নিয়ে।
সময়টা মার্চের মাঝামাঝি, আচমকা বরফ গলা শুরু হয়েছে। উপত্যকাতেও বাদলা দেখা দিয়েছে, কিন্তু এখানে পাহাড়ের ওপর আজ দু’দিন ধরে চলেছে বরফ মেশা বৃষ্টি। চারিপাশ কেমন বাদামী, ঘোলা ঘোলা। পাহাড়ী ঝোরা ছুটছে, তাদের ওপর পেতে দেওয়া কাঠের পাটাতনগুলো জলের তোড়ে কাঁপছে। মনে হবে যেন এই ভিজুনি থেকে আড়াল আর কোথাও নেই।
এমন কি ড্রাইভারের কেবিনেও জল ঢুকছে।
শীতে কুঁকড়ে গোরুল্যা বসে ছিল ড্রাইভারের পাশে, শুনছিল কী ভাবে মাল ঢাকা তারপলিনের প্রান্তটা পত পত করছে বাতাসে। এমন সময় যেন ইচ্ছে করেই মোটর বিগড়াল। মুখখিস্তি করে ড্রাইভার যতক্ষণে মেরামতটা সারল, ততক্ষণে কুয়াসা মাখা আঁধার নেমে এসেছে। অন্ধকার আর ভেজা তুষার কণার ঘন পর্দা ভেদ করা মোটরের আলোয় সম্ভব হচ্ছিল না। অথচ স্তুদেনিৎসা তখনো অনেক দূর।
শেষ পর্যন্ত আরো এগুনো গেল। পথটা গেছে কেবলি পাহাড় বেয়ে ওপর দিকে। আর্তনাদ উঠছে মোটরে। যত ওপর দিকে যাওয়া যাচ্ছে, হাওয়ার জোরও ততই বেশি, ভেজা তুষার কণা ছুটছে আরো ঘন হয়ে।
জটিল সর্পিল পাহাড়ে পথটা বেয়ে ড্রাইভার কেমন ওস্তাদের মতো লরিটা চালাচ্ছে, তাই লক্ষ করছিল গোরুল্যা, প্রতিটি সফল মোড় নেবার সময় চেঁচাচ্ছিল তারিফ করে। বুড়ো হলেও মানবিক যে কোনো কৃতিত্বে, বিশেষ করে নিজে যেটা পারে না তাতে অবাক বোধ করার ক্ষমতা তার এখনো যায় নি।
এবার চড়াই। সমস্ত শক্তি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments